ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুদ্ধের মধ্যেই নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা ইরানের


যুদ্ধের মধ্যেই নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা ইরানের

যুদ্ধ চলাকালীন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি করেছে ইরান।

দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান একটি ‘নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো’ গড়ে তুলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে ওই কর্মকর্তা এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের ১২ বছরে ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার সমালোচনা

তার দাবি, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের আগের অভিজ্ঞতা ও সংঘাত থেকে পাওয়া শিক্ষার ভিত্তিতেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দেশটির প্রচলিত বা তুলনামূলকভাবে ‘ক্লাসিক’ আকাশ প্রতিরক্ষা মডেল থেকে সরে এসে আরও নমনীয় ও অভিযোজনক্ষম একটি কাঠামোর দিকে যাওয়ার উদ্যোগ।

নতুন ব্যবস্থায় শুধু অস্ত্র ও সরঞ্জামেই পরিবর্তন আনা হয়নি; বরং আকাশ প্রতিরক্ষার পুরো কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বর মাসে ‘আপা’ আসার সুযোগ নেই, প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ’

এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধকৌশল, সরঞ্জাম ব্যবহারের পদ্ধতি, কারিগরি প্রক্রিয়া এবং আকাশসীমা থেকে তথ্য সংগ্রহ ও তা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ইউনিটের মধ্যে আদান-প্রদানের ব্যবস্থায় পরিবর্তন।

আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা রাডারের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়; দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, তা বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্যে নতুন কাঠামোয় এই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তার দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, যাচাই ও ভাগাভাগি করা হবে, সেই ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর ফলে শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে বায়ুদূষণে শীর্ষে, আতশবাজিতে পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, নতুন কাঠামো যুদ্ধের সময় ইরানকে নিজেদের আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়তা করেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ইরান শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ওপর নির্ভর না করে কমান্ড কাঠামো, প্রশিক্ষণ, কৌশল এবং কারিগরি প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন এনেছে।

এর ফলে সংঘাতের সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হলেও এর একটি বড় অংশ কার্যকর রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ইরানি কর্মকর্তার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট: ডা. ইরান

সাম্প্রতিক সংঘাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। উন্নত যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশপথের অস্ত্র মোকাবিলায় শুধু স্থির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়- এমন বাস্তবতা বিভিন্ন সংঘাতে সামনে এসেছে।

ইরানের ক্ষেত্রেও যুদ্ধের সময় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ফার্সের প্রকাশিত তথ্যচিত্রে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশটির সামরিক নেতৃত্ব তাদের প্রচলিত কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন কাঠামোয় যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত কৌশল পরিবর্তন, বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আ. লীগ মিছিলে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১৬

ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে আসছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বিভিন্ন ধরনের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি ও মোতায়েন করেছে।

তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও দুর্বলতা- দুই দিকই সামনে এনেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিকেন্দ্রীভূত, নমনীয় ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করার চেষ্টা করছে।

আইআরজিসি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন শুধু নতুন অস্ত্র বা সরঞ্জাম যুক্ত করার বিষয় নয়; বরং যুদ্ধ পরিচালনা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ফলে ইরানের দাবি সত্য হলে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে নতুন কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং ভবিষ্যৎ কোনও সংঘাতে তা কতটা সফল হবে, তা নির্ধারণ করবে এর বাস্তব প্রয়োগ ও সামরিক সক্ষমতা। সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা গঠন করল ‘হাওয়ারিয়্যীন পরিষদ’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়পুরহাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


জয়পুরহাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে মৎস্যপক্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ সকালবেলা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসন চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি। এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানা।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, জয়পুরহাটের মৎস্য উৎপাদনের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। বক্তাটিরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে এই খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মৎস্যপক্ষ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যার মধ্যে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সফল মৎস্যচাষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় মা-নবজাতকের মৃত্যু, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


নোয়াখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় মা-নবজাতকের মৃত্যু, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

নোয়াখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত উম্মে সালমা ওরফে নিশির বাবা ও গণমাধ্যমকর্মী এম এ আউয়াল বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলা ও অপচিকিৎসার কারণেই তার সুস্থ অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ও গর্ভের নবজাতক সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বিএমডিসি ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে তিন বছরের জন্য চিকিৎসক মোহাম্মদ আক্তার হোসেন ওরফে অভি ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া ফরিদের সনদ ও নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। শুধু তাই নয় জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিএমডিসির পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রচার করা হয়।  

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএম ডিসির সনদ স্থগিত থাকার পরও তারা নোয়াখালীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর বাবা। একইসঙ্গে ফৌজিয়া ফরিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় চিকিৎসক আক্তার হোসেনকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

এ সময় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসককে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত, তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় পরিবারটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছি, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে থাকবে না।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত ফান্ড অব ফান্ডসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম জানান, দক্ষতা, সুশাসন এবং পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফান্ড অব ফান্ডস পরিচালনা করা হবে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১১১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু মন্ত্রী মনে করেন যে, শুধু সরকারি অর্থায়নের উপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল কাগজে-কলমে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, বাস্তবে কাজ করে এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে। ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে দেশে আরও বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্ত্রী মনে করেন, বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি গেম-চেঞ্জিং উদ্যোগ। এটি দেশের স্টার্টআপ খাতকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ মন্তব্য করেছেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, শুধু অর্থায়ন নয়, স্টার্টআপদের মেন্টরশিপ, দক্ষতা, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও আইনসম্মত মুনাফা ও মূলধন সহজে প্রত্যাবাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু স্টার্টআপে বিনিয়োগই বাড়াবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামোও গড়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন প্রক্রিয়া, কো-ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। তিনি জানান, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় শক্তিশালী সুশাসন, পেশাদার ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ কৌশল সম্পন্ন নির্বাচিত দেশি ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।

অনুষ্ঠানে Request for Expression of Interest (REOI) আহ্বানের মাধ্যমে যোগ্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ম্যানেজারদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়।

গত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, তবে এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস এই বৈষম্য দূর করে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন শক্তিশালী করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের বিকাশ এবং একটি টেকসই স্টার্টআপ অর্থায়ন কাঠামো গড়তে কাজ করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের স্টার্টআপকে সহায়তা, স্থানীয় ফান্ড ম্যানেজারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে স্থানীয়, আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার সমর্থিত ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলের আকার ৪০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রতিনিধি মরিকা ইয়োকো, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং ইকোসিস্টেমের সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযানে ৩১ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযানে ৩১ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার অধীনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) মোহাম্মদপুর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানের সময় নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—মো. সুজন (২০), মো. মাজাহারুল (২৮), মো. অমিত (২৫), মো. খালেক (৪৪), মো. জসিম উদ্দিন (৩৪), রনি, মো. নয়ন, মো. সাইদুল ইসলাম (২২), মো. আলমগীর (৩৮), মো. আরিফ হোসেন (৩০), মো. আজিজুল ইসলাম (২৬), আরাফাত (২০), মিরাজুল ইসলাম (২৪), মোহাম্মদ রুবেল (৩৮), মো. হেজু (২০), মো. আ. মোতালেব (৩৮), মো. শাহারিয়া শাহরিয়ার (২২), মো. নাজমুল হোসেন (২৬), মো. আকতার হোসেন (৪১), রমজান (২৬), মো. হাসান (২০), মো. সুজন হাওলাদার (৩৬), মো. সাইদি হোসেন আপন (৩৯), মো. তারেক (২০), হৃদয় (২৪), মো. মোরছালিন (২২), মাহফুজ (১৮), মো. সুজন (১৯), মো. আল-আমিন (৩২), মো. মিঠু (১৯) ও রুমানা বেগম (৪৪)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাও।

আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%