ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পটিয়ায় ১০০ জনে ফেল ৪৫, কমেছে জিপিএ-৫


পটিয়ায় ১০০ জনে ফেল ৪৫, কমেছে জিপিএ-৫

চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক বছরের ব্যবধানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। গত বছর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ পাস করলেও এবার পাস করেছে মাত্র ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ ৫ কমেছে ২০১টি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বলতা, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা না পাওয়া এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক একাডেমিক মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ফুল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

এছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত বছর ৪২টি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

জিপিএ ৫-এর সংখ্যাতেও বড় পতন হয়েছে। গত বছর পটিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৪১০ জন, এবার পেয়েছে ২০৯ জন। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ ৫ কমেছে ২০১টি।

ফলাফল বিশ্লেষণে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার এই দুটি মৌলিক বিষয়ে দুর্বলতা, নিয়মিত অনুশীলনের ঘাটতি, ইংরেজি ব্যাকরণ ও লিখিত উত্তর প্রদানে দুর্বলতা অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাবিদদের মতে, এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে প্রস্তুতি নিয়ে গণিত ও ইংরেজির দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। এসব বিষয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন: ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিপন কান্তি দে জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পটিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার অভাব এর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিখন ঘাটতি নিরসন, রেমিডিয়াল কার্যক্রম, নিয়মিত মূল্যায়ন, শিক্ষক মেন্টরিং ও একাডেমিক মনিটরিং জোরদার করা হবে।

এদিকে পটিয়ার ফল বিপর্যয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাসের হার রয়েছে। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশীয় পয়েন্ট। এবার বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, গত বছর পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ জিপিএ ৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫টি। চলতি বছর বোর্ডে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

বোর্ডের ফলাফলে ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়া-গৌরীপুর সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ঝোপঝাড় পরিষ্কারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পটিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এবার পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল। ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯৩ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গৈড়লা খরনখাইন প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়। ৬২ জনের মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ। তৃতীয় আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবে জিপিএ ৫ পাওয়ার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় সবার ওপরে—৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এছাড়া আরো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৮০ দশমিক ১৮ শতাংশ), মোজাফরাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৮০ শতাংশ), আরফা করিম উচ্চ বিদ্যালয় (৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ), জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয় (৭৭ দশমিক ৪২ শতাংশ), এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ), পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৭২ দশমিক ৩৯ শতাংশ) এবং মুকুট নাইট উচ্চ বিদ্যালয় (৭১ দশমিক ৯৫ শতাংশ)।

জিপিএ ৫ পাওয়ার হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়—২৪ জন, তৃতীয় এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ—২২ জন।

অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত খারাপ ফল করেছে উপজেলার তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শাহ আমির উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৩ জন। পাসের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন, পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৩ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই তিন প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ ৫ পায়নি।

আরও পড়ুন: নারায়ণ জেলার গার্মেন্টস সেক্টরে আন্দোলনের শিথিল রাখার অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক

পটিয়ার মাদরাসাগুলোতেও এবার ফলাফলে অবনতি হয়েছে। উপজেলার ২৩টি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৮৬৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬২৯ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২০ জন। গত বছর দাখিলে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ০৩ শতাংশ।

দাখিলে ভালো ফল করেছে মেহেরআটি হযরত নুরুদ্দীন শাহ দাখিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে পাঁচজন। দ্বিতীয় নলান্দা গাউসিয়া বদরিয়া দাখিল মাদরাসা, পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তৃতীয় দক্ষিণ আশিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা, পাসের হার ৯০ শতাংশ।

কারিগরি শিক্ষাতেও একই চিত্র। এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় পটিয়া থেকে ৩৫৩ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে পাঁচজন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

পটিয়ার এক এসএসসি পরীক্ষার্থী তানজিম হোসেন বলেছেন, গণিত ও ইংরেজিতে নিয়মিত অনুশীলন না করলে শেষ মুহূর্তে ভালো ফল করা কঠিন। অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে। আগে থেকেই নিয়মিত পরীক্ষা নেওয়া হলে প্রস্তুতি আরো ভালো হতো।

আরও পড়ুন: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক

আরেক শিক্ষার্থী তানিয়া আকতার মনে করেন, ক্লাসে পড়ানো হলেও অনেক সময় না বোঝা বিষয়গুলো আলাদাভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ কম থাকে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত।

অভিভাবকেরা বলেছেন, শুধু এসএসসি পরীক্ষার আগে ভালো ফলের জন্য চাপ দিলেই হবে না। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থেকেই কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে দুর্বল, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

পটিয়ার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। ফল প্রকাশের পর সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমগীর বাবু হতাশা প্রকাশ করে শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। হাবিবুল্লাহ বাবুল নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়ার ফল বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে—দায়টা আসলে কার? শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত পড়াশোনা, অভিভাবকের নজরদারির ঘাটতি, শিক্ষকদের পাঠদানের দুর্বলতা, নাকি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন ও একাডেমিক মনিটরিংয়ের ঘাটতি?

আরও পড়ুন: “শিবচরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা”

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলাফল বিপর্যয় বেশি হয়েছে। পটিয়ায় কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও ফল খারাপ হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, পর্যাপ্ত বেতন, নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং যোগ্য গভর্নিং বডি নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগে গভর্নিং বডি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাব থাকলে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষককে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। পটিয়ার সরকারি আবদুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল থেকে দেখা যায়, সুশৃঙ্খল পরিচালনা ও শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্ব দিলে দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কারণ দিয়ে এবারের ফল বিপর্যয় ব্যাখ্যা করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির পাশাপাশি পাঠদান পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, অভিভাবকের সম্পৃক্ততা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে কোন বিষয়ে কতজন ফেল করেছে, কেন ফেল করেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন ছিল, কতগুলো পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা ছিল—এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক একাডেমিক অডিট করা যেতে পারে। গণিত ও ইংরেজিতে বিশেষ ক্লাস, নিয়মিত মডেল টেস্ট, রেমিডিয়াল ক্লাস, শিক্ষক মেন্টরিং ও মাসিক একাডেমিক মনিটরিং চালু করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

এবার পটিয়ায় নয়টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৬ হাজার ৮২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি ৫ হাজার ৬৮৫ জন, দাখিল ৮৩৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৩০৬ জন।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে এবারের এই পতন তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি পটিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। এখন ফলাফল বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটিই দেখার বিষয়। কারণ, জিপিএ ৫ কমে যাওয়া শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়; একজন শিক্ষার্থীর অকৃতকার্যতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের প্রত্যাশা, সময়, শ্রম ও ভবিষ্যতের হিসাব। পটিয়ার এই ফলাফল শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও একাডেমিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে ভাবার তাগিদ দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০

কলম্বিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৪।

সোমবারের দিনে এই কম্পন ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকায়ও অনুভূত হয়। বর্তমানে কলম্বিয়ায় এই ভূমিকম্পের কারণে অন্তত ২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা কুরি জানিয়েছেন, কিবদোসহ অন্যান্য এলাকায় অনেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা প্রদান করেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের ফলে আরও কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

জুলাই মাসে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭-এর উপরে। ওই ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলার মৃতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বিশাল এলাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা প্রদেশ এবং রাজধানী কারাকাসে। এর প্রভাব কাটানো মুহূর্তেই ফের কলম্বিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

আমেরিকান জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৪। ইউএসজিএস জানিয়েছে, সোমবার সকালে স্থানীয় সময় ৭টা ৩৪ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের এই ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ২০ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনই পেরেইরা শহরের বাসিন্দা ছিলেন। পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটজনক’ উল্লেখ করেছেন তিনি। বহু বাড়ি ধসে পড়েছে এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার চোকোর সান হোসে দেল পালমার থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। তবে ইউরোপীয়ান মিডিটেরানিয়ান সেসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। যদিও কলম্বিয়ার জিওলজিক্যাল সংস্থা জানিয়েছে, এই কম্পনের মাত্রা ৬.৭ এবং এর গভীরতা ছিল ৮২ কিলোমিটার গভীরে।

এই কম্পন অনুভূত হয়েছে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা ছাড়াও আন্তিওকিয়া, কুন্দিনামার্কা, মেটা ও অন্যান্য এলাকায়। কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জোর ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।

সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলম্বিয়ার প্রধান ভূখণ্ডের বাইরে গিয়ে এই কম্পন ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলে রেকর্ড পতন, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলে রেকর্ড পতন, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমেছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।

সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছে। ২০২৪ সালে পাসের হার কিছুটা বেড়ে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালে আবার কমে তা ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এ বছর বড় পতন ঘটে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪৬৩ জন এবং বহিষ্কৃত ১০ জন।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ২০২২ সালে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজার ৫৫৩ জন হয়েছে। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ২৪ হাজার ৯২৫ জন হয়েছে, কিন্তু ২০২৫ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৭ জনে। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।

শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৪ হাজার ১৯৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ৭৯১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

মানবিক বিভাগের ফলাফলেও বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশে এসেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গত বছর পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার সেটি কমে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে মানবিক বিভাগে। গত বছর এটি ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ ছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে।

জিপিএ-৫ কমেছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ১১ হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে ১১ হাজার ৪০২ জন এবং ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন ও ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।

পাহাড়ি জেলাগুলোতেও ফল বিপর্যয় ঘটেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাসের হারে বড় পতন সূচিত হয়েছে। কক্সবাজারে গত বছর পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এবার তা কমে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবারে তা কমে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। গত বছর এটি ছিল ১ হাজার ১৬৪টি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৯টি থেকে কমে গিয়ে ২১৮টি হয়েছে।

সর্বমোট চলতি বছরের এসএসসি ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়সহ প্রায় সকল সূচকেই অবনতি সাধিত হয়েছে। একই সঙ্গে অকৃতকার্য ও এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


কাউখালীতে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

পিরোজপুরের কাউখালীতে ইতিমধ্যে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ সাব্বির আহমেদ রুমনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির আহমেদ রুমন উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মেঘপাল গ্রামের মোঃ খাইরুজ্জামানের ছেলে। তিনি কাউখালী থানার জিআর মামলা নম্বর ৯৩/২৩-এর এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পরিচিত। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের সাজা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। পুলিশ জানায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডন গ্রেপ্তারের পর এবার অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন নীলা চৌধুরীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


ডন গ্রেপ্তারের পর এবার অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন নীলা চৌধুরীর

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার মামলার অন্য আসামিদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, ডনকে কোনোভাবেই জামিন না দেওয়া উচিত।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে যুক্তরাজ্য থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে? কেন এসব কথা সামনে আসছে না? কেন অন্যরা এখনো ঘরে বসে আছে, কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না?’

রোববার (৯ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন আশরাফুল হক ওরফে ডন হক। তিনি সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি। ডনের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মামলার অন্য আসামিরা এখনো বাইরে থাকার কারণেই হতাশা প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা।

নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, ডন বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং সালমান শাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানান কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামি হওয়ার পরও ডন বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন।’ তার প্রশ্ন, ‘এতদিনেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি?’

সালমান শাহর মা বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল, ছেলের হত্যার বিচার পাব। আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে। সেটা হয়নি। এখনো মূল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার একটাই চাওয়া, কোনোভাবেই যেন ডন জামিন না পায়। সে ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে এজন্য শাস্তি পেতেই হবে।’

কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নীলা চৌধুরী। তিনি ডনের সঙ্গে সালমান শাহর বন্ধুত্বের দাবিও নাকচ করেন। তার ভাষ্য, ‘ডন একসময় সালমানের আশ্রয়ে তাদের বাসায় থাকতেন। পরে তার আচরণ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

নীলা চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, ‘সালমান শাহ জীবিত থাকা অবস্থায় ডন তার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতেন।’ তার ভাষায়, ‘স্বার্থ ছাড়া এমন মানুষ কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।’

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানান আলোচনা ও জল্পনা চলছে। মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পরে গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন গত বছরের অক্টোবরে।

মামলার পর ডনের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছিলেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডন তাকে হুমকি দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে যেতে বলেছিলেন।’ একসময় যে ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সাহস পেতেন না, তিনি কীভাবে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার সাহস পেলেন-এ প্রশ্নও তোলেন নীলা।

তার অভিযোগ, ‘ডনের পেছনে কারও না কারও প্রশ্রয় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে, কেন ডিপজলকে বলে দিতে হয়? ডিপজল কেন বলবে সে বিমানবন্দরে? আগে থেকেই তো এরা চোখের সামনেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারণে সাহস বেড়েছিল।’

নীলা চৌধুরীর ধারণা, ‘কেউ ডনকে আশ্বস্ত করেছিল এবং বিমানবন্দর দিয়ে তাকে দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করা হতে পারে।’ তাই ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সবশেষে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘এখনো মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন।’ প্রধান আসামি সামিরাসহ সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে নন, চারপাশেই আছেন।’ তার একমাত্র প্রত্যাশা, সালমান শাহ হত্যার বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%