ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমনের মাঠে ইঁদুরের হানায় কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া


আমনের মাঠে ইঁদুরের হানায় কৃষকের স্বপ্নে দুশ্চিন্তার ছায়া

সবুজে মোড়ানো মাঠের দৃশ্য। আমন ধানের গাছ বাতাসে দুলছে। কৃষকরা ধানগাছে শীষ আসার অপেক্ষায় বুক বেঁধে আছেন। সেচ, সার, শ্রম এবং পরিচর্যায় গড়ে তোলা সেই স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার দিন গুনছেন তারা। কিন্তু মাঠের সবুজের আড়ালে এখন দুশ্চিন্তার কালো ছায়া বিরাজ করছে। রাতের আঁধারে ইঁদুরের হানা ঘটছে। ধারালো দাঁতে কেটে ফেলছে ধানগাছের গোড়া। কৃষকের চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে সম্ভাবনাময় ফসল, আর দুলতে থাকা সোনালি স্বপ্নে ভর করছে অনিশ্চয়তা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের খেতে ইঁদুরের উপদ্রব কৃষকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বাড়তি খরচ করে সেচ দেওয়া, জমি তৈরি, চারা রোপণ ও পরিচর্যার পর এখন যখন ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধার কথা, তখনই ইঁদুরের আক্রমণে সেই আশায় পড়ছে ভাটা। জমির মালিকের সঙ্গে ফসল ভাগাভাগি করে নেওয়ার হিসাবেও এখন যেন তৃতীয় ভাগ বসিয়েছে ইঁদুর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কণ্ঠে তাই আক্ষেপ, চোখেমুখে উদ্বেগ। তাদের দাবি, ইঁদুর দমনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়াক কৃষি বিভাগ।

ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের কৃষিপ্রধান জনপদ ফরিদগঞ্জ। এ উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকার বড় একটি অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মাঠের ফসল ভালো হওয়া মানে শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটা নয়, বরং অনেক পরিবারের সারা বছরের খাদ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মালাগার সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে চায়

এবারের আমন মৌসুমেও সেই প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন কৃষকেরা। কেউ নিজের জমিতে, কেউবা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। অনেকেই বাড়তি খরচ করে সেচ দিয়েছেন। পরিচর্যায় রেখেছেন বাড়তি মনোযোগ। ধানগাছের বেড়ে ওঠা দেখে তাদের মনে জেগেছিল ভালো ফলনের স্বপ্ন। কিন্তু কিছু এলাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণের পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন শংকার মুখে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১ ও হাইব্রিড জাতের ধান। বিস্তীর্ণ এই আবাদি জমির কোনো কোনো অংশে ইঁদুরের আক্রমণ কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

হর্নি দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক ছলেমানের চোখেমুখে এখন উৎকণ্ঠা। নিজের ২০ শতাংশ জমির পাশাপাশি আরও ১০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে আমন আবাদ করেছেন তিনি। জমিতে ধানের ডগা বেরিয়েছে। ভালো ফলনের আশায় বাড়তি খরচ করে সেচও দিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইঁদুরের আক্রমণে তার সেই আশায় ভাটা পড়েছে। ছলেমান বলেন, "ধানের ডগা বেরিয়েছে। বাড়তি খরচ করে খেতে পানি দিচ্ছি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।"

একই দুশ্চিন্তা ইসলামপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়ারও। অন্যের ২০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে আমন চাষ করেছেন তিনি। জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদিত ধান দুই ভাগে ভাগ হওয়ার কথা। ধানগাছের বেড়ে ওঠা দেখে ভালো ফলনের আশাও করেছিলেন। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণ তার হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় ৩২ বস্তা সার ও অটোরিকশা জব্দ

ইউসুফ মিয়ার কণ্ঠে আক্ষেপ, "জমির মালিক আর আমি দুই ভাগে ফসল ভাগ করে নিতাম। এখন মাঝখানে ইঁদুর তৃতীয় ভাগ বসিয়েছে। ইঁদুরের আক্রমণে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ইঁদুর দমনে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াক।"

কৃষকের এই কথায় যেন ফুটে ওঠে মাঠের বাস্তবতা। ফসলের পেছনে শ্রম দেন কৃষক, বিনিয়োগ করেন অর্থ; কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই ক্ষতির মুখে পড়লে সেই লোকসানের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের জন্য ক্ষতির বোঝা আরও উদ্বেগের, কারণ উৎপাদিত ফসলের ভাগ দিতে হয় জমির মালিককেও। কমলকান্দি গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদের দুশ্চিন্তার কারণও সেই ইঁদুর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, "ধানগাছ থেকে শীষ বের হওয়ার সময়ই ইঁদুর গাছ কেটে ফেলে দিচ্ছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফলনের আশায় জমিতে নিবিড় পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণ তার সেই পরিশ্রমের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।"

হারুনুর রশিদ বলেন, "এ বছর ভালো ফলনের জন্য অনেক কষ্ট করে জমিতে ধানের পরিচর্যা করছি। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণে আমাদের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। ইঁদুর দমনের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাদেরও দেখা মিলছে না।" ইঁদুরের আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকেরা বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউ কীটনাশক প্রয়োগ করছেন, কেউ আবার বাঁশের তৈরি ডোঙা ফাঁদ পেতে ইঁদুর নিধনের চেষ্টা করছেন। তবে তাদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগে প্রত্যাশিত ফল মিলছে না। ফলে জমিতে ফসলের ক্ষতি ঠেকানো এবং অবশিষ্ট ধানগাছ রক্ষা করাই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষকের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃষি বিভাগের জনবলসংকট। উপজেলা কৃষি বিভাগে অনুমোদিত জনবল ৪৬ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের অর্ধেকেরও কম কর্মী নিয়ে চলছে কৃষিসেবা কার্যক্রম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, জনবলসংকটের কারণে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় ইঁদুরের উপদ্রব অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখনো কিছু এলাকায় ইঁদুরের উপস্থিতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইঁদুরের উপদ্রবে চান্দিনায় শীতের আগাম সবজি নিয়ে কৃষকের শঙ্কা

ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আগে এ সময়ে মাঠে বৃষ্টির পানি থাকত। জমিতে পানি থাকলে ইঁদুরের আনাগোনা তুলনামূলক কম হয়। এবার বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে পানি নেই। ফলে জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে।" কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ইঁদুর দমনে বিষটোপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কৃষকেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ইঁদুরের উপদ্রব আরও কমানো সম্ভব হবে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আমন মৌসুমের এই সময়ে ফরিদগঞ্জের কৃষকদের কাছে প্রতিটি ধানগাছই সম্ভাব্য খাদ্য, আয় আর পরিবারের নিরাপত্তার প্রতীক। একটি গাছ কেটে পড়া মানে শুধু জমির ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কৃষকের শ্রম, বিনিয়োগ ও প্রত্যাশা। তাই ইঁদুরের আক্রমণ তাঁদের কাছে নিছক মাঠের সমস্যা নয়; এটি ফসল ঘরে তোলার নিশ্চয়তা নিয়েও বড় উদ্বেগ। একদিকে ইঁদুরের উপদ্রব, অন্যদিকে কৃষি বিভাগের সীমিত জনবল, দুইয়ের চাপে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কৃষকেরা চান, ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন, ইঁদুর দমনে কার্যকর পরামর্শ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াক সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ফরিদগঞ্জের মাঠে এখনো সবুজ ধানের গাছ দুলছে। কৃষকেরা হাল ছাড়েননি। তাদের আশা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ক্ষতি কমিয়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে মাঠের সমস্যার দ্রুত সমাধান যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন কৃষকের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া। কারণ, আমনের মাঠে ইঁদুরের থাবা যতটা ভয় ধরাচ্ছে, তার চেয়ে বড় ভয়, সারা মৌসুমের পরিশ্রম শেষে কৃষকের ঘরে কাঙ্ক্ষিত ধান উঠবে তো?

আরও পড়ুন: নড়াইলে আমন ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল মারামারি, পুলিশ মোতায়েন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে রাকিব নামের এক যুবক এবং তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল প্রতিবেশী হুমায়ুন মিয়া ওরফে লক্ষিন্দরের ছেলে রাকিব। পরিবারের অভিযোগ, রাকিব কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তার পরিবার এতে রাজি হয়নি। এই বিরোধের কারণে কিশোরীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে রাকিব তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন বাড়ির সামনের রাস্তায়। প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরবর্তীতে অভিযোগ উঠেছে যে, রাকিবের পরিবারের লোকজন কিশোরীর পরিবারের পাঁচটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এই হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন এবং একটি নতুন মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়ে যায়।

বিজয়নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, "খবর পাওয়ার পর আমরা এখানে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া বলেন, "মেয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনা ঘটে। আমি চেয়ারম্যান ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"

সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, "খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। উভয় পক্ষের ১০ জনের মতো আহত হয়েছেন। কিছু বাড়ি ভাঙচুর দেখতে পেয়েছি।"

বিজয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজিব চন্দ্র সরকার বলেন, "মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

আজ বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬। ইতিহাসের দিক থেকে এই দিনটি উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয়। আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—এই দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনাবলি

১৪৯২ সালে ইতালীয় নাবিক ও অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস কিউবা আবিষ্কার করেন।

১৬৩৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ঘটে।

১৭২৬ সালে জোনাথন সুইফটের কালজয়ী গ্রন্থ ‘গালিভারস ট্রাভেলস’ প্রকাশিত হয়।

১৭৪৬ সালে পেরুর লিমা-কালাওতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

১৮৩১ সালে মাইকেল ফ্যারাডে প্রথম ডাইনামো তৈরি করেন।

১৮৮৬ সালে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ উৎসর্গ করে।

১৯০৪ সালে সেন্ট লুইস পুলিশ তদন্তে নতুন পদ্ধতি ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ ব্যবহার শুরু করে।

১৯১৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯২০ সালে অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।

১৯২৯ সালে ফ্লোরিডায় একটি বিমানে প্রথম শিশুর জন্ম হয়।

১৯৪০ সালে ফ্লোরেন্সে অ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনির সাক্ষাৎ হয়।

১৯৪৪ সালে মিত্রবাহিনী ও বুলগেরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৫২ সালে গণতান্ত্রিক জাপান প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬২ সালে কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সমাপ্তি ঘটে।

১৯৬২ সালে গভর্নর আবদুল মোনেম খান শপথ গ্রহণ করেন।

১৯৮৯ সালে ভারতে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হন।

১৯৯১ সালে পোল্যান্ডের নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি আবার বিজয়ী হয়।

২০০৬ সালে বিচারপতি কে.এম. হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণে বাধা দিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে দলীয় নেতা-কর্মীরা ‘বৈঠা-লাঠি’ নিয়ে রাস্তায় নামে। এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে সারাদেশে ১৮ জন নিহত হন।

জন্ম

১৫৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন কর্নেলিয়াস জান্সেন, ডাচ বিশপ ও ধর্মতত্ত্ববিদ।

১৬৯৬ সালে মরিস, কাউন্ট ডি স্যাক্স, ফরাসি মার্শাল জেনারেল জন্মগ্রহণ করেন।

১৮০৪ সালে পিয়ের ফ্রাসোয়া ভেরহুলস্ট, বেলজিয়ান গণিতবিদ ও তাত্ত্বিক জন্মগ্রহণ করেন।

১৮৬৬ সালে যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রখ্যাত বাঙালি শিশুসাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন।

১৮৬৭ সালে ভগিনী নিবেদিতা, অ্যালো-আইরিশ বংশোদ্ভূত সমাজকর্মী, লেখিকা, শিক্ষিকা ও স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা জন্মগ্রহণ করেন।

১৯০২ সালে এলসা ল্যানচেস্টার, ইংরেজ অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।

১৯১২ সালে রিচার্ড ডল, ব্রিটিশ শারীরবিজ্ঞানী জন্মগ্রহণ করেন।

১৯১৩ সালে ডগলাস সেয়ালে, ইংরেজ বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেতা ও গায়ক জন্মগ্রহণ করেন।

১৯১৪ সালে রিচার্ড লরেন্স মিলিংটন সিঞ্জ, নোবেলজয়ী ব্রিটিশ প্রাণরসায়নবিদ জন্মগ্রহণ করেন।

১৯১৪ সালে জোনাস সল্ক, মার্কিন পোলিও প্রতিরোধক ওষুধের উদ্ভাবক জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৩৮ সালে অ্যানা পেরি, ইংরেজ লেখক জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৫ সালে বিল গেটস, মার্কিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৬ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, ইরানের সাবেক রাষ্ট্রপতি জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬৩ সালে ইরোস রামাযোত্তি, ইতালীয় গায়ক, গীতিকার ও গিটারবাদক জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬৭ সালে জুলিয়া রবার্টস, মার্কিন অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৮০ সালে অ্যালান স্মিথ, ইংরেজ ফুটবলার জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৮১ সালে অঙ্গনা রায়, বাঙালি ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৮৪ সালে ওবাফেমি মার্টিন্স, নাইজেরীয় ফুটবলার জন্মগ্রহণ করেন।

মৃত্যু

৩১২ সালে ম্যাক্সেনটিয়াস, রোমান সম্রাট মৃত্যুবরণ করেন।

১৪১২ সালে প্রথম মার্গারেট মৃত্যুবরণ করেন।

১৬২৭ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর মৃত্যুবরণ করেন।

১৭০৪ সালে জন লক, প্রভাবশালী ইংরেজ দার্শনিক মৃত্যুবরণ করেন।

১৮৯৪ সালে রেভারেন্ড লালবিহারী দে, বাংলার প্রথম লোককাহিনি সংগ্রাহক মৃত্যুবরণ করেন।

১৯০০ সালে ম্যাক্স মুলার, ভারতবিদ, সংস্কৃত ভাষার বিশিষ্ট পণ্ডিত ও অনুবাদক মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৩৭ সালে অবনীনাথ মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট নেতা মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৭১ সালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, বাংলাদেশি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৭৩ সালে তহা হুসাইন, মিশরীয় ইতিহাসবিদ, লেখক ও অধ্যাপক মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯২ সালে শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ, বিশিষ্ট ভারতীয় সংস্কৃত পণ্ডিত মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯৮ সালে টেড হিউজ, নোবেলজয়ী ব্রিটিশ কবি মৃত্যুবরণ করেন।

২০০২ সালে অন্নদাশঙ্কর রায়, স্বনামধন্য বাঙালি কবি, ছড়াকার, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক মৃত্যুবরণ করেন।

২০০৫ সালে রিচার্ড এরেট স্মোলি, নোবেলজয়ী মার্কিন রসায়নবিদ মৃত্যুবরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ এম


কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চলছিল। প্রশাসন নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানারও টাঙিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে এবং ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন। প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি দাবি করেছেন, নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্মাণস্থলে টাঙানো ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্দেশক্রমে এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ সময় কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও চলছিল। চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়নকাজ এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধও রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান দেওয়ানি আদালতে জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তার দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার দাদা চিথাও ও নাথাও।

ফলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ঘিরে অনুমোদনসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ উভয়ই সামনে এসেছে। তবে জমিটির মালিকানা সম্পর্কে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে চেয়ারম্যান হিসেবে তার নাম ও ছবি রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটিকে ‘বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম’ হিসেবে প্রচার করে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারণায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটির শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়ে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী বলেন, "এটি একটি বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "নির্মাণকাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।"

অন্যদিকে, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন বলেও জানান তিনি।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে একটি রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে কার্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে আসেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছাদে তিনটি ব্লকে সারিবদ্ধভাবে ২৪০টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।

সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে এসব প্যানেল থেকে ১৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমছে এবং সরকারের বিদ্যুৎ ব্যয়ও সাশ্রয় হচ্ছে।

এছাড়া, ছুটির দিনে সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং বিদ্যুৎ বিলও হ্রাস পেয়েছে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেট মিটারিং পদ্ধতির মাধ্যমে রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেসকোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এক মাসের মধ্যে বিল সাশ্রয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের পর থেকে কার্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। জেলার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে অন্যান্য সরকারি ভবনের ছাদেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে জেলার সাতটি পৌরসভায় রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রতিটি পৌরসভায় ৩০ লাখ টাকা এবং উপজেলাগুলোতে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দের ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%