শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৮ এম
একদিনে দেশের তিনটি বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আগামী ২০ অক্টোবর রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাবেন। সফরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর সামরিক বিমানে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর তিনি রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শন করবেন।
এরপর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর দেড়টায় তিনি রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং পরে রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছু সময় অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সফরে রাজশাহীতে একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বেলা ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
জনসভা শেষে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় তিনি চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু সময় অবস্থান করে রাতে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরে আসবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় ঘণ্টাব্যাপী আরএমপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সফর উপলক্ষে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কন্যা মেহেরিন মুনজারিন রত্নাকে ভারত সফরের অনুমতি প্রদান করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত মেহেরিনকে ১৬ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত যাওয়ার জন্য ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তার ভারত সফর সম্পন্ন হবে।
গত ১২ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আবদুল করিমের স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে ছুটি মঞ্জুরের বিষয়টি জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি চিঠির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, মেহেরিন মুনজারিন রত্না তার ভারত সফরের সকল ব্যয় নিজেই বহন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ সফরের জন্য কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই সময়ে মেহেরিনের ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, তার বাবা আ ক ম মোজাম্মেল হক ভারতে অবস্থান করছেন। এ কারণে বাবার সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে মেহেরিন ভারতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে মেহেরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আবদুল করিম যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মেহেরিন মুনজারিন রত্না তার স্বামীর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত যাওয়ার জন্য ছুটির আবেদন করেছেন। তবে তিনি কী ধরনের চিকিৎসা বা নির্দিষ্ট কোনো রোগের কথা উল্লেখ করেছেন, তা এই মুহূর্তে জানাতে পারছেন না। নথি না দেখে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেহেরিন মুনজারিন রত্না তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার বাবার ওপর আস্থা রেখে শেখ হাসিনা তাকে চতুর্থবারের মতো নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং তৃতীয়বারের মতো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আন্তর্জাতিক প্রিমিয়াম বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার এবং উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও প্রতিবেশী ভারতকে রপ্তানিতে পেছনে ফেলতে পারছে না। এই ব্যবধান কমাতে উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে চিংড়ি খাতবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম (এমবিএ) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করেছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণে চিংড়ি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর বাংলাদেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ির রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে তিনি জানান, এ খাতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ আরও অনেক বেশি রয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে ভারত ৫০০ কোটি ডলারের বেশি চিংড়ি রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের চিংড়ি চাষের জমি ভারতের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকার বিষয়টিকে উৎপাদনশীলতা ও মানোন্নয়নের বড় সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্রেতারা এখন শুধু পণ্যের মান যাচাই করেন না; তারা দেখতে চান পণ্যটি কারা উৎপাদন করেছেন, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ কেমন এবং উৎপাদন পরিবেশসম্মত হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তাই কাগুজে নথিনির্ভর পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সমন্বিত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ গঠন করেছে। শ্রম অধিকারসহ দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের জাতীয় নীতিমালা এবং ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রণয়নেও কাজ চলছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশের চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতিতে চিংড়ি শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কৃষক, ডিপো কর্মী, প্রক্রিয়াজাত কারখানার শ্রমিক ও রপ্তানিকারক—সবার ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা। সমাপনী বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন।
আলোচকরা বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের চিংড়িকে আন্তর্জাতিক বাজারে দায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিয়ের একদিন আগে আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক নামক এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১) জেলা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সুলতান মিয়ার পুত্র।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সৌমিক প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার বাড়িতে ফিরে আসেন। কিছুদিন আগে তিনি হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
স্বজনরা তাকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সৌমিককে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তার বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। আজ বৃহস্পতিবার ছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। বিয়ের জন্য দুই পরিবারেই নানা প্রস্তুতি চলছিল। কনের বাড়িতে আলোকসজ্জার গেট সাজানো হয়েছিল এবং বাড়িঘরও সাজানো হয়েছিল।
অন্যদিকে সৌমিকের বাড়িতেও বিয়ের আয়োজন চলছিল। কিন্তু বিয়ের আগের দিন তার মৃত্যুতে সকল আয়োজন থেমে যায়। বিয়ের সব প্রস্তুতি হঠাৎ বিষাদে পরিণত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে। ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা তাদের নিজ নিজ স্টেশন থেকে সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে এবং সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে ২৬ অক্টোবরের যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
ফেরার পথে, কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ট্রেনটি ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য ২৭ অক্টোবরের টিকিট বিক্রি শুরু হবে শনিবার (১৭ অক্টোবর)।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম মাস্টার মো. মেহেদী হাসান সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, মহানগর এক্সপ্রেসের জন্য কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৮৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া ২৪০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৪৭ টাকা।
মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীদের সুবিধা
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশন থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে ১২টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তবে, বর্ধিত রুটে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে আগের মতোই থামবে ট্রেনটি।
রেলওয়ের দাফতরিক আদেশ অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচ থাকবে। ট্রেনটির আসনসংখ্যা ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৩৬ করা হয়েছে।
কুমিল্লার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম মন্তব্য করেন, সরাসরি ট্রেন না থাকায় আগে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার যেতে বাড়তি সময় ও ঝামেলা পোহাতে হতো। নতুন ট্রেন চালু হলে স্টেশন পরিবর্তন না করেই কক্সবাজার যাওয়া যাবে। এতে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতও উপকৃত হবে।
আরেক যাত্রী আবির হোসেন বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির কারণে আরও বেশি মানুষ কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা জরুরি। নিয়মিত বিলম্ব কমানো গেলে যাত্রীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
টিকিটপ্রাপ্তি ও সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রত্যাশা
নতুন ট্রেন চালুর খবরে খুশি হলেও যাত্রীরা টিকিটের সহজলভ্যতা, কালোবাজারি বন্ধ এবং সময়মতো ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। যাত্রী সাবিনা হক বলেন, নতুন ট্রেন চালু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। তবে সহজে টিকিট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী যাতায়াত করতে পারেন।
পর্যটক কেয়া হক জানান, অনলাইন ও অফলাইন; কোনো মাধ্যমেই অনেক সময় সহজে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. জয়নাল আবেদীন সময় সংবাদকে জানান, মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরু হবে। আর ২৭ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার স্টেশন থেকে নিয়মিত যাত্রীসেবা চালু হবে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
তবে স্টেশনে কিছুটা জনবলসংকট রয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাবের আশা
মহানগর এক্সপ্রেস চালু হলে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, সরাসরি ট্রেন যোগাযোগের ফলে মধ্যবর্তী জেলার মানুষের জন্য কক্সবাজার ভ্রমণ সহজ হবে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
হোটেল কক্স-টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ সময় সংবাদকে বলেন, নতুন ট্রেন চালুর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা নিজ নিজ এলাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ পাবেন। এতে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি পরিবহন, মাছ ও সবজির বাজার এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও নিয়োগের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।
রেলওয়ের এই উদ্যোগে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে নতুন ট্রেনের সুফল পুরোপুরি পেতে টিকিটের সহজলভ্যতা, সেবার মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন যাত্রীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ