০৮:৫৯ পি.এম
নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপের উন্মাদনা মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ যাতায়াতের ব্যবস্থা, স্বল্পমূল্যের টিকিটের অভ্যস্ততা এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মাঠের বাইরের অঙ্গনে নিজের মতো করে একটি বিশ্বকাপ জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চলমান প্রেক্ষিতে নিউ ইয়র্ক এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ফুটবল নগরী হয়ে উঠেছে। হাডসন রিভার পার্কে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ দেখতে হাজির হাজারো লোক, টাইমস স্কয়ারে জার্মানি ও ইকুয়েডরের সমর্থকদের উল্লাস, এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন, এসবই বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন, মেয়র জোহরান মামদানী এ পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একজন রাজনীতিক হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ফুটবলপ্রেমী হিসাবেও সমর্থকদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন এবং বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের কাছে আরো নাগালের মধ্যে আনার জন্য কাজ করে চলেছেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
ফিফার টিকিট নীতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সময়ে, মামদানী নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য ৫০ ডলারের একটি বিশেষ টিকিট লটারির আয়োজন করেন। পাশাপাশি, স্টেডিয়ামে পানির বোতল বহনের নিষেধাজ্ঞার মতো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তিনি আপত্তি তুলেছেন।
যখন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য ট্রেন ভাড়া ১৫০ ডলারে নির্ধারণ করা হয়, তখন তিনি নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে সমন্বয় করে মাত্র ২০ ডলারে শাটল বাস চালুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
অভিবাসন ইস্যুতে তিনি ভিন্ন বার্তা প্রদান করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিউ ইয়র্ককে অভিবাসীদের শহর হিসেবে তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে আগত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ওয়েলকাম হোম।
মামদানীর জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মনে করছেন। আর্সেনালের সমর্থক হিসেবে দেখা মামদানী যখন প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ২২ বছর পর তার প্রিয় ক্লাব জিতেছে, তখনই তার প্রিয় বাস্কেটবল দল নিউ ইয়র্ক নিক্সও ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবার এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রতিষ্ঠাতা জুল রিমের বৈশ্বিক সম্প্রীতির যে ধারণা ছিল, নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে মামদানীর উদ্যোগে সেই ভাবনার প্রতিফলন ঘটছে। ফুটবলকে মাঠের বাইরেও মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসার প্রচেষ্টার জন্য বর্তমানে তিনি গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন