০৮:৩০ এম
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক কঠোর শর্ত দিয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য। তবে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি জাহাজে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের।
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের আচরণ পরিবর্তন না করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। পরিষদের সচিব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন।
এর মধ্যে আছে—ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি দিতে না হওয়া, ইরান ও অঞ্চলের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা, ইরানির বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী অপসারণ করা। এছাড়াও, যুদ্ধের কারণে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ নির্দিষ্টভাবে মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু
এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে সম্মত হওয়ার আগে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার জানিয়েছেন, নৌ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে, জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট রুট নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তবে, পুরোপুরি প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করছে বলে জানান তিনি। এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনকে দায়ী করেছেন আরাগচি।
আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দেউলিয়া জাহাজে হামলাকে নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। বর্তমানে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে। তারা প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার দাবি করছে এবং নিজেদের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে বারবার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের টোল আরোপের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির অধীনে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আসার কথা ছিল। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ করা সম্পদের বিষয় নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বেঁধে দেওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি রয়েছে। তবে, প্রয়োজন মনে করলে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। হরমুজ প্রণালি পরিচালনা সম্পর্কে ওমানের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ইরান।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যা হলেই বন্ধ চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের জন্য সংকট পরিবহনেও
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও একটি দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, চুক্তির সম্পাদনের জন্য এটি সর্বোত্তম সময়। তার মতে, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ইরানের জনগণের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটি এই যুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকারী অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাটি ইরান দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে অ্যাডনক জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তাদের এক ডজনের বেশি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব হামলায় একজন ক্রু নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের খাসাব শহরের পূর্বে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। যাতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজ ও এর সব ক্রু নিরাপদ রয়েছে। তবে এটি অ্যাডনকের জাহাজে হামলার একই ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন