ঢাকা সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০৯ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৪শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কৃষির আধুনিকীকরণ এবং যান্ত্রিক বিপ্লবে গুরুত্ব প্রদান করছে সরকার : ডেপুটি স্পিকার


কৃষির আধুনিকীকরণ এবং যান্ত্রিক বিপ্লবে গুরুত্ব প্রদান করছে সরকার : ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং যান্ত্রিক বিপ্লবে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

গতকাল বুধবার রাতের অনুষ্ঠানটি নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ডেপুটি স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি জনগণ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটি টিকিয়ে রাখতে ধানের ফলন বাড়ানোর বিকল্প কিছু নেই।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে, শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই: রাশেদ খান

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষিত যুবসমাজ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিক প্যান্ট-শার্ট পরা তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হলে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

 

ডেপুটি স্পিকার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যন্ত্রের মাধ্যমে ৪০ সেকেন্ডে চার সারি চারা রোপণ হচ্ছে, তাও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। এটি ফলন বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো করবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানি নয়, বরং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর বাংলাদেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে টোকিও

কৃষক কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার বিষয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। কোনো অবস্থাতেই সচ্ছল ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে এই কার্ডগুলো ইস্যু করা যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেনেরিক ওষুধে ২০২৮ সালে ১০০ ও পরে ২০০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৪ এম


জেনেরিক ওষুধে ২০২৮ সালে ১০০ ও পরে ২০০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ও নজিরবিহীন শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২০২৮ সাল থেকে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধে প্রথম ধাপে ১০০ শতাংশ এবং পরে তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। আশা করা হচ্ছে যে, তিনি এই ঘোষণা করেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে।

ট্রাম্প নিজের পোস্টে স্পষ্ট ঘোষণা করেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু করে পরবর্তী দুই বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আনা সব ধরনের জেনেরিক ওষুধে শূন্য শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। তবে, এই দুই বছরের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে কঠোর শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য এই শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৮ সালে প্রথম ধাপে ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কথা বলেছেন ট্রাম্প।

এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ ওষুধ মূল্যনীতির মাধ্যমে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চ আয়ের অন্যান্য দেশে মানুষ যেভাবে ওষুধ খুঁজে পায়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও যেন একই দামে বা তারও কম দামে ওষুধ কিনতে পারে। যদিও জেনেরিক ওষুধের ওপর এই নতুন শুল্ক আরোপ হলেও ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে পেটেন্ট করা, ব্র্যান্ডেড অথবা নতুন উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান নীতি অপরিবর্তিত থাকবে।

মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া ওষুধের ৯০ শতাংশেরও বেশি জেনেরিক ওষুধ। তাই, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে, গত এপ্রিলে এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আমদানিকৃত ব্র্যান্ডেড ওষুধ প্রস্তুতকারকরা যদি সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে রাজি না হন অথবা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনে ব্যর্থ হন, তবে তাদের ওপরও ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


গ্যাস সংকটে সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হঠাৎ করে রাজধানীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার বেড়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দিনের একটি বড় সময় কাটছে গ্যাস সংগ্রহ করতে। সাধারণ চালক থেকে শুরু করে গণপরিবহন খাতের কর্মীরা চরম ভোগান্তিতে আছেন। নগরবাসী জীবিকার সংকটে পড়েছেন।

সিএনজি চালিত গাড়ির কয়েকজন চালক জানাচ্ছেন, পাম্পগুলোতে রাতভর গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা গ্যাস পাচ্ছেন না।

গ্যাসের এই সংকটে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চালকদের ওপর পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালকেরা।

তারা জানাচ্ছেন, গ্যাস নিতে না পারার কারণে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সারাদিন কাটছে পাম্পের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে।

চালকদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পর্দার আড়ালে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। তারা বলছেন, এর আগে জ্বালানি তেলের সময়েও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার গ্যাসের দামও বাড়াতে এমন নাটক হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন পাম্প মালিকরাও। তারা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাইছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে মালয়েশিয়ান ব্যক্তির ১০৫ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে মালয়েশিয়ান ব্যক্তির ১০৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজের মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৫৩) ১০৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৭০ বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যে তাওয়াউ সেশনস আদালত।

আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাত দফায় ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করার পর বিচারক আহমাদ ফাইজাধ ইয়াহইয়া তাৎক্ষণিকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত অভিযুক্তকে কারাভোগের পুরো সময় কাউন্সেলিং গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি কারামুক্তির পর তাকে তিন বছর পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।

আদালতের নথি অনুসারে, বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ কন্যাকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে তাওয়াউয়ের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে সাতবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৬(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রত্যেকটি অভিযোগের সাজা পৃথকভাবে কার্যকর হওয়ায় এই কারাদণ্ড ১০৫ বছর হয়েছে।

এ সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তিনি পরিবারের খরচ এবং মেয়ের লেখাপড়ার জন্য নিজের ত্যাগের কথা বারবার মনে করিয়ে দিতেন এবং তাকে হোটেল বুক করতে বাধ্য করতেন। পরে নিজেই সেখানে গিয়ে মেয়েকে ধর্ষण করতেন।

ভুক্তভোগী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বাবার মানসিক চাপ ও প্রভাবের কারণে তিনি তার নির্দেশ অমান্য করতে পারেননি। এছাড়া তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বেই মেয়ের কর্মস্থলের ছুটির সময়সূচি সংগ্রহ করে রাখতেন। এরপর ছুটির দিনগুলোতে হোটেল বুক করতে নির্দেশ দিতেন এবং লাহাদ দাতু থেকে তাওয়াউয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটাতেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি প্রদান করে যে, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মুহাম্মদ হাইকাল এমডি ইয়াতিন ও উইলদান ফিরদাউস আহমাদ ফাজলি আদালতকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান। তারা বলেন, নিজের সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন করা একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে, কোন আইনজীবী ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থন করা অভিযুক্ত আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করে জানান, তিনি লজ্জিত এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ চান। তাই তিনি শাস্তি কমানোর আবেদন জানান।

এটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা নয়। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল লাহাদ দাতু সেশনস আদালত নিজ দুই মেয়েকে ধর্ষণের ১১টি অভিযোগে তাকে ১৬৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১০ বেত্রাঘাতের দণ্ড প্রদান করেছিলেন। ওই মামলায় প্রমাণিত হয় যে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে লাহাদ দাতুর বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে ২৫ ও ২২ বছর বয়সী তার দুই মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গন্ধের সন্ধানে ফাঁস হলো হত্যাকাণ্ড, উদ্ধার হলো বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


দুর্গন্ধের সন্ধানে ফাঁস হলো হত্যাকাণ্ড, উদ্ধার হলো বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ

ময়মনসিংহে উৎকট দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সময়, পাশের মাটি খুঁড়ে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে অম্বিকাগঞ্জ কলেজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সোহেল মিয়া (২৬) সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। স্থানীয়ভাবে সোহেল গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে সোহেল মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির চেষ্টা করে, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিহত যুবকের বাবার পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একটি একাডেমিক ভবনের স্থান নির্বাচনের কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে সেখানে জায়গার মাপজোখ করতে যান কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী।

এ সময় তারা উৎকট দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সোহেলের মাথা ও দেহের অবশিষ্ট অংশ পাওয়া যায়।

অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, বিকেল পৌনে তিনটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান যে, তাদের সীমানাপ্রাচীর ভাঙা এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে চারদিকে খোঁজ করে তারা মানবসদৃশ একটি মাথা দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিকভাবে থানা-পুলিশকে অবহিত করলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরিবারও মাথাটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করে।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, মাথাটি ঘাসের ওপর পাওয়া যায়। পাশেই নরম মাটিতে ছিল শিয়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীর আঁচড়ের দাগ। ধারণা করা হচ্ছে, গর্ত থেকে কোনো প্রাণী মাথাটি টেনে তুলে ফেলেছে। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

মাহবুবুল আলম জানান, পুলিশ প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহের বাকি অংশের সন্ধানে পাশেই মাটি খুঁড়তে শুরু হয়। একপর্যায়ে মাটির ভেতর থেকে দুটি গ্লাভস পাওয়া যায়। রাত পৌনে নয়টার দিকে কয়েক ফুট গভীরে পাওয়া যায় মাথাবিহীন দেহ।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন বলেছেন, ১৬ জুলাই রাত আটটার পর সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই সোহেলকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। সোহেল এবং সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করলেও তাদের মধ্যে পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ ছিল। সেলিম নিয়মিত সোহেলকে কম টাকা দিতেন এবং মারধরও করতেন। এ কারণেই সোহেল পরে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, সোহেল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে সেলিম পুনরায় কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেলিমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুই জানেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সেলিম এলাকা ছেড়ে চলে যান।

আলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর মরদেহের বাকি অংশও উদ্ধার হয়। শরীরে কাপড় দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে মরদেহটি সোহেলের।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন মাথা ও অবশিষ্ট দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নিহতের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়াকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে কারা এবং কেন মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই মাথা ও দেহ নিখোঁজ যুবক সোহেলের। পিবিআইয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে এ পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। শরীরের কাপড় দেখে মরদেহটি সোহেলের বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিচারকের সদস্যরা। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৮শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৩৯
মাগরিব ০৫:১৫
ইশা ০৬:২৮
সূর্যোদয় : ০৬:০৯ সূর্যাস্ত : ০৫:১৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%