১২:২৬ পি.এম
সবুজ ঘাসের ২২ গজে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা তাদের রূপকথার লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটেছে আগেই। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন থামছে না আধুনিক ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ। পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দিয়ে এবার ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয়তায় আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন সিআরসেভেন।
পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোনালদো যে বিদায়ী ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, তাতে পড়া লাইকের সংখ্যা পেছনে ফেলে দিয়েছে মেসির আন্তর্জাতিক অবসরের পোস্টকে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই অনন্য কীর্তি গড়ে ফুটবলবিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে প্রায় পাঁচ মিনিটের এক আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করে পর্তুগাল দল থেকে অবসরের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা স্মৃতিচারণার পাশাপাশি সতীর্থ, পরিবার ও কোটি কোটি সমর্থকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৪১ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এশিয়া কাপ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই রোনালদোর পোস্টে ২ কোটি ৬০ লাখ লাইক পড়ে। অথচ এর বিপরীতে গত ৩১ আগস্ট মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পোস্টে তখন লাইক ছিল ১ কোটি ৯৭ লাখ। অর্থাৎ দুই মাসেরও বেশি সময় আগে প্রকাশিত মেসির বিদায়ি পোস্টটিকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ছাড়িয়ে যান রোনালদো।
এর পরও এই উন্মাদনা থামেনি। মেক্সিকোর ‘ফক্স স্পোর্টস’ জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই রোনালদোর ভিডিওর লাইক ৩ কোটি ৮ লাখে পৌঁছে যায়, যেখানে একই সময়ে মেসির পোস্টে লাইক ছিল ১ কোটি ৯৮ লাখ। অর্থাৎ দুই মহাতারকার বিদায়ি পোস্টের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখে।
পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘গালফ নিউজ’-এর তথ্য মতে, রোনালদোর ভিডিওর লাইক বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখে, আর কমেন্ট আসে ৩২ লাখের বেশি এবং শেয়ার বা রিপোস্ট হয় প্রায় ৬২ লাখ বার। এমনকি ভিডিওটির ভিউ ছাড়িয়ে যায় ৪৫ কোটি ৫০ লাখ। অন্যদিকে, মেসির বিদায়ি পোস্টে তখন লাইক ছিল প্রায় ২ কোটি, মন্তব্য ৮ লাখ ৯২ হাজার এবং শেয়ার বা রিপোস্ট ২৬ লাখ। তবে ভিউয়ের সংখ্যার দিক থেকে তখনো সামান্য এগিয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর, যার পোস্টে ভিউ ছিল ৪৬ কোটির বেশি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোনালদোর ভিডিওর দর্শকসংখ্যাও সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। আরব সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, পর্তুগিজ তারকার সেই ঐতিহাসিক পোস্টে লাইক পৌঁছায় প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখে এবং ভিডিওটির মোট ভিউ ছাড়িয়ে যায় ৪৮ কোটি ৬০ লাখ। ফলস্বরূপ, কেবল লাইকের সংখ্যাতেই নয়, বরং ভিডিও দেখার সার্বিক জনপ্রিয়তায়ও এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করলেন রোনালদো। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত এই হিসাবগুলো ভিন্ন সময়ে সংগৃহীত।
আরও পড়ুন: সিলেটে হৃদয়ের রেকর্ডময় দিন
অবশ্য রোনালদোর এই বিশাল অর্জনকে ইনস্টাগ্রামের সর্বকালের সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া পোস্টের বিশ্বরেকর্ড বলা যাবে না। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সেই মুকুট এখনো শক্তভাবে নিজেদের দখলেই রেখেছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার কয়েকটি স্মরণীয় ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছিলেন মেসি, যা পরবর্তীতে ৭ কোটিরও বেশি লাইক কুড়িয়ে নেয়। ২০২৩ সালের ২৪ মার্চ ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ ওই পোস্টের লাইক সংখ্যা ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৭টি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিল।
ফুটবল দুই মহাতারকার এই অবসরের ধরণ ও প্রক্রিয়াতেও ছিল ভিন্নতা। গত ৩১ আগস্ট নিজের হাতে লেখা একটি মার্জিত ও আবেগঘন চিঠির ছবি শেয়ার করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন মেসি। এরপর গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের শেষবারের মতো দেশের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৩-০ গোলের জয় উপহার দিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
অন্যদিকে রোনালদো বেছে নিয়েছিলেন একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা। পর্তুগালের হয়ে দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার নানা না বলা গল্প তুলে ধরে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। সেই ভিডিওতে জাতীয় দলের ‘সাত নম্বর’ জার্সিটি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কারো হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে বলেও উল্লেখ করেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
২০০৩ সালে দেশের জার্সিতে অভিষেকের পর দীর্ঘ পথচলায় ২৩৪ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৪৬টি গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ড নিজের কাঁধে নিয়েই বিদায় নিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের দুটি উয়েফা নেশন্স লিগ শিরোপা।
আরও পড়ুন: পিছু হটলেন ইনফান্তিনো, ২০৩০ বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর স্বপ্নে ধাক্কা
এর বিপরীতে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করেছেন লিওনেল মেসি। তার জাদুকরী নেতৃত্বেই ২০২২ সালের বহুকাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ছাড়াও দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন