ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সংকটে খুলনার চিংড়ি চাষিরা, রফতানি বাড়লেও কমছে আয়


সংকটে খুলনার চিংড়ি চাষিরা, রফতানি বাড়লেও কমছে আয়

দেশের প্রধান চিংড়ি উৎপাদন অঞ্চল খুলনায় নানা সংকটের কারণে উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মানসম্মত ও ভাইরাসমুক্ত পোনার সংকট, খরা, অতিবৃষ্টি, লবণ পানির স্বল্পতা, রোগবালাইসহ নানা কারণে চিংড়ি চাষে দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদন বাড়াতে না পারায় রফতানি আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। আগের অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৯ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন। সুতরাং, এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন সামান্য কমেছে। তবে একই সময়ে চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ২৭৮টি থেকে বেড়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৪০টি হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদনে তেমন বাড়তি প্রভাব পড়েনি।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ অর্থবছরে খুলনায় ৩০ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন, বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫২৪ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন এবং সাতক্ষীরায় ৪০ হাজার ২০ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চিংড়ি চাষি কৌশিক বাগচি বলেন, 'একসময় চিংড়ি চাষ করে ভালো লাভ হতো। এখন মানসম্মত ও ভাইরাসমুক্ত পোনা পাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক সময় লাখ লাখ টাকার পোনা ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রোগে মারা যায়। তখন ঋণের টাকা শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই সরকার মানসম্মত পোনা নিশ্চিত করুক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করুক।'

একই উপজেলার চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আগে মৌসুম অনুযায়ী লবণ পানি পাওয়া যেত। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কখনও দীর্ঘ খরা, আবার কখনও অতিবৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ঘেরের পানির লবণাক্ততা নির্দিষ্ট রাখা যায় না। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই চিংড়ি চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।'

আরেক চাষি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। আধুনিক পদ্ধতিতে কীভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অথবা উৎপাদন বাড়াতে হবে, সে বিষয়ে অনেক চাষিরই ধারণা নেই। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, মানসম্মত খাদ্য ও পোনা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব।'

উৎপাদনে স্থবিরতা থাকলেও রফতানির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫ হাজার ৯৭০ দশমিক ৩৯০ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৪ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৩৬৫ মেট্রিক টন থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন বেশি। তবে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আয় কমেছে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী

সর্বশেষ অর্থবছরে রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ, যেখানে আগের অর্থবছরে আয় ছিল প্রায় ৩১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় আয় কমেছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, 'বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির এখনও ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। বর্তমানে ইকুয়েডর, ভারত ও ভিয়েতনাম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি উৎপাদন করছে। আমাদেরও মানসম্মত পোনা উৎপাদন, ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানের চাষাবাদ এবং রফতানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। তা না হলে রফতানি বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।'

খুলনা মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক বলেন, 'চিংড়ি শিল্পকে টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, ঘের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।'

আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

বাংলাদেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ কথা জানিয়েছেন।

আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০-এর সরকারি দলের সদস্য আরিফা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এই তথ্যে আলোকপাত করেন।

মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে বজ্রপাত একটি ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকল্প গ্রহণ এবং আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী বজ্রপাত বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আসাদুল হাবিব দুলু আরও জানান, দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ‘বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’, ‘কৃষক ছাউনি’ এবং ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ এবং হাওর এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা বজ্রপাতে নিহত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্যও মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও সতর্কীকরণ অ্যালার্ম থাকবে। আকাশে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষক ও জেলেরা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলে এর প্রকোপ বেশি। চলনবিলসহ দেশের সব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনগণের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি জানান, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতে গবাদিপশুর মৃত্যু হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা বন্ধ, বিদেশ সফর স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


সরকারি টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা বন্ধ, বিদেশ সফর স্থগিত

সরকারি ব্যয়ে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার, সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায়, সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ নির্দেশনা বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে দেয়া হয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত বন্ধ থাকবে। কিন্তু ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন কেনা যাবে।

একইসঙ্গে, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণও স্থগিত করা হয়েছে।

তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে প্রশিক্ষণ এবং স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বহাল থাকবে।

এছাড়া, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধাও আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এই পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন করে কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেবো না : সারজিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


নতুন করে কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেবো না : সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, সংসদে এমপি-মন্ত্রী ভাইয়েরা যেভাবে কথা বলেন, মনে হয় বাংলাদেশে কোনো সমস্যা নেই। সংসদে এমপি-মন্ত্রীরা বলেন, বাংলাদেশে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে যায়, কিন্তু এটাকে লোডশেডিং বলা হয় না। আমরা তাদেরকে বলতে চাই, সংসদে শুধুমাত্র লোক দেখানোর কথা না বলে আমাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির তৃতীয় দিনে, বুধবার (৮ জুলাই) টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে নতুন করে কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার আমলে একটা রোগ ছিল, সেটি হলো সবাই খারাপ, শুধু শেখ হাসিনা ভালো। আমরা আগামীতে এই রোগ আর হতে দেবো না।

বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের কাজের মধ্য দিয়ে হারানো গৌরব এবং সম্মান ফিরিয়ে আনবেন। মনে রাখবেন, প্রত্যেকটা দল ক্ষমতায় থাকার জন্য আপনাদেরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। আপনারা যদি বিবেকবোধ বিসর্জন দেন, তাহলে নিজের বিবেকের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যদি আবার সীমান্তে হত্যা হয়, সীমান্তে পুশইন করা হয়, সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা হয়, আমরা দেখব না কে সরকার এবং তাদের অবস্থান কি ছিলো।

এ সময় এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তুষার সরেয়ার, ডা. আতিক মুজাহিদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসডিজি অর্জনে নারী নেতৃত্ব অপরিহার্য : শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


এসডিজি অর্জনে নারী নেতৃত্ব অপরিহার্য : শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করা অপরিহার্য।’ তিনি উপরোক্ত মন্তব্যটি আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন : এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, আজ যেসব উদ্যোগ তরুণ নারীদের ক্ষমতায়িত করছে, তা আগামী দিনের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন-এর সমন্বয়ে এবং নারীপক্ষের অংশীদারিত্বে যৌথ এসডিজি ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘এনহ্যান্সিং উইমেনস পলিটিক্যাল লিডারশিপ থ্রু এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬ লোকালাইজেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ কর্মসূচির অধীনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বাস্তবায়িত এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলের অভিজ্ঞতা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। তরুণ নারী নেত্রী, শিক্ষার্থী, পরামর্শক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন। অন্যদিকে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা লিঙ্গ সমতা বিষয়ক এসডিজি ৫ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিষয়ক এসডিজি ১৬-এর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাতীয় সঙ্কল্পগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নাসরীন বলেন, এসডিজির স্থানীয়করণ জাতীয় অগ্রাধিকারকে কমিউনিটি পর্যায়েও কার্যক্রমে প্রতিফলিত করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নারীর নেতৃত্বে বিনিয়োগ জরুরি। কর্মশালায় এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলটি উপস্থাপন করেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য মাহীন সুলতান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেল ওয়াহাব সাইদানি, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং হলিক্রস গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। ‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে কর্মশালায় যৌথ অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধানের মাধ্যমে এসডিজি স্থানীয়করণকে এগিয়ে নিতে ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন, নারীপক্ষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%