০৩:৫৪ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিরতিহীন উড়ে দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। বিশেষভাবে পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩৫০ মডেলের বিমানটি ২৪ ঘণ্টা ২৩/২৪ মিনিট আকাশে ছিল এবং এটি দক্ষিণ ফ্রান্সের তুলুজে অবতরণ করার আগে এই সময়কাল পার করেছে।
কোয়ান্টাস তাদের উচ্চাভিলাসী ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে, কোয়ান্টাস ২০২৭ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল (সিডনি ও মেলবোর্ন) থেকে লন্ডন ও নিউইয়র্কের দিকে বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
এয়ারবাস এবং ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, বিমানটি ২৭ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে রওনা হয়ে ২৪ ঘণ্টা ২৩/২৪ মিনিট উড়ে ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় সকালে ৯টা ৫২ মিনিটে এয়ারবাসের সদরদপ্তর ফ্রান্সের তুলুজে অবতরণ করে।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল রাজপথে পাহারা দিচ্ছে, শিবির বা সুবিধাবাদীরা মাঠে নেই: রাশেদ খান
ওড়ার পথে বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে ২৩ হাজার ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের আগের রেকর্ডটি ছিল ২২ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের। ২০০৫ সালে হংকং-লন্ডন পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় এটি একটি বোয়িং ৭৭৭-২০০এলআর দ্বারা গড়েছিল।
এফ-ডব্লিউইউএলআর হিসেবে নিবন্ধিত এয়ারবাসের বিমানটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে অবতরণ করার ঠিক আগে কিছুক্ষণের জন্য একটি ‘গো-অ্যারাউন্ড’ সম্পন্ন করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্লাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, যাত্রাটি তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্র্যাক করা ফ্লাইটে পরিণত হয়েছে।
সারা বিশ্বের ৩৬ লাখেরও বেশি মানুষ ফ্লাইটটি অনুসরণ করেছে। কেবল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিন বহনকারী ফ্লাইটটিই এর চেয়ে বেশি দর্শক আকর্ষণ করেছিল।
রেকর্ড গড়া বিমানটি একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ইউএলআর। অতি-দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য, এতে একটি অতিরিক্ত ২০ হাজার লিটারের জ্বালানি ট্যাংক বসানো হয়েছে। দুই মাসের একটি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, এয়ারবাস জুন মাস থেকে এই বিমানটির পরীক্ষা চালিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের পর বাংলাদেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে টোকিও
ঠিক এক সপ্তাহ আগে, এই বিমানটি ভারত মহাসাগর হয়ে তুলুজ থেকে মেলবোর্ন পর্যন্ত একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় অবশ্যই ১৯ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে শেষ করেছিল।
এই সাম্প্রতিক মিশনে প্রকৌশলীরা পরিবর্তিত জ্বালানি ব্যবস্থা, কেবিনের শব্দের মাত্রা, বায়ু চলাচল এবং প্রায় পুরো একদিন স্থায়ী ফ্লাইটের জন্য ডিজাইন করা অন্যান্য সিস্টেমগুলো মূল্যায়ন করেছেন। বিমানটিতে ৮ জন এয়ারবাস ক্রু মেম্বার, ২ জন কোয়ান্টাস পাইলট এবং ২ জন এয়ারবাস প্রকৌশলীসহ মোট ১২ জন আরোহী ছিলেন।
‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর জন্য, কোয়ান্টাস একই মডেলের মোট ১২টি বিমান অর্ডার দিয়েছে। প্রতিটি জেটে ২৩৮ জন যাত্রীর বসার আসন থাকবে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এগুলো সিডনি বা মেলবোর্ন থেকে লন্ডন বা নিউইয়র্কের মধ্যে ১৯ থেকে ২১ ঘণ্টার মধ্যে বিরতিহীনভাবে ওড়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের প্রথম বিমানটি ২০২৭ সালের এপ্রিলে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী বছরের অক্টোবরে সিডনি-লন্ডন দীর্ঘসন্ধানী বিরতিহীন সেবা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে, কোয়ান্টাস ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’ নিয়ে কাজ করছে। নানা কারণে বারবার বিলম্বিত হওয়া প্রকল্পটি এখন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।
আরও পড়ুন: নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে গ্যাস চুরির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ক্যাঙ্গারু রুটে, একসময় সিডনি থেকে লন্ডন যেতে ৭টি বিরতিসহ প্রায় ৫ দিন সময় লাগতো। তবে এখন সেটি নেমে আসবে সর্বোচ্চ ২১ ঘণ্টার একটি বিরতিহীন ফ্লাইটে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সিঙ্গাপুর-নিউইয়র্কের মধ্যে ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটই দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন