মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৩ পি.এম
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনরোষ একটি অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত প্রক্রিয়াটি বাতিলের দাবি এই অসন্তোষের সর্বশেষ প্রকাশ।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার থেকে দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শহরটি ব্যারিকেড, রাস্তা বন্ধ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর টহলের কারণে এক সামরিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে বিক্ষোভের আগে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে। দিল্লিতে আসা ২৪৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং অনেক আন্দোলনকারীকে গৃহবন্দি করা হয়।
শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই ‘ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতাদের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। বিরোধী দলের নেতাদের বিভিন্ন থানায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা হচ্ছে, তাদের মারধর করা হচ্ছে এবং রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এমনকি কয়েকজন সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে। আটকদের আইনি সহায়তা দিতে আসা সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবীকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় এবং এ সময় তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ দমন-পীড়ন মুম্বাই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে একটি স্থানীয় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। সোমবার দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসাবে বাতিল ঘোষণা করে এবং এর পরিবর্তে তিনটি বিকল্প স্থানের সুপারিশ করে।
শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হন রাজনৈতিক কর্মী যোগেন্দ্র যাদব। দমন-পীড়ন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি চার দশক ধরে জনজীবনে ও রাজনীতির অঙ্গনে আছি। কিন্তু কোনো বিক্ষোভের জন্য এমন প্রস্তুতি আগে কখনো দেখিনি। কল্পনার সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক অসাধারণ ঘটনা ছিল এটি।’ তিনি এটিকে ‘রাষ্ট্রের সৃষ্ট আতঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তা সত্ত্বেও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী উপেক্ষা করেই ছোট ছোট দল আকস্মিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার রাজধানীতে দমন-পীড়নের ব্যাপকতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ভারত-শাসিত কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় সরকারের দমন-পীড়ন অবশ্য অনেক বেশি কঠোর ছিল—বিশেষ করে ২০১৯ সালে। তখন ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সেখানে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের এ কঠোরতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য উচ্চ রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিই তুলে ধরে। কারণ, সরকার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের মুখে পড়েছে; নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন যে, সউদী আরবকে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে, হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে।
ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, মিশর সউদী আরবকে কোনো সামরিক সহায়তা দেবে কি না। তিনি তার জবাবে বলেন, "সউদী আরবের পক্ষ থেকে যা-ই চাওয়া হোক না কেন, আমরা অবশ্যই তাতে সাড়া দেব।"
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনের উপলক্ষে ব্যাংককে অবস্থানকালে, তিনি আনাদোলু সংস্থাকে আরও জানান, "কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই আমরা সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।"
ইন্টারভিউ চলাকালীন, আবদেলাত্তি আরও প্রকাশ করেন যে, মিশর ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি মিশরীয় পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনাধীন রয়েছে।"
এই বার্তা মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছে, যখন সউদী আরবের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরামকো ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস বিক্রি ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য গ্রহণ করেছে, যা ২০২০-২০২১ সালের তুলনার ভিত্তিতে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ছয় থেকে সাতটি গ্যাস ও তরলীকৃত গ্যাস (এলপিজি/এনএনজি) কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা করছে। এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে তাদের কৌশলের অংশ।
মঙ্গলবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত ২৫তম ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেসে আরামকোর গ্যাস বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল করিম আল-গামদি এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সউদী আরব তাদের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে, যা ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং জ্বালানি খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আল-গামদি সউদী আরবের তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও রপ্তানি অবকাঠামোর ভৌগোলিক বিস্তারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই বৈচিত্র্যময় অবকাঠামো দেশের বিপর্যয় বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির দ্রুত এবং কার্যকর মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তিনি সউদী আরবের বিশাল গ্যাস নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ‘মাস্টার গ্যাস সিস্টেম’ অন্তর্ভুক্ত করে এবং দেশের পূর্ব থেকে পশ্চিমে হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত।
আল-গামদি জানান, আরামকোর প্রয়োজনীয় উপকরণের ৯০ শতাংশেরও বেশি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংঘাত ও প্রতিকূলতার মধ্যে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তিনি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা সংকটের সময়ে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
আরামকো অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শোধনাগার ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রধান সুবিধাসমূহে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভর করছে। আল-গামদির মতে, জ্বালানি খাতের স্থায়িত্ব বা সহনশীলতা সংকট ঘটার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্ভাব্য অনভিপ্রেত পরিস্থিতি আগে থেকে অনুধাবন করা এবং কার্যক্রম সচল রাখতে নিশ্চিত করা।
তিনি আরও যোগ করেন, কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, অপারেশনাল ঝুঁকি কমাতে এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরামকো সমন্বিত পরিচালনা পদ্ধতি, সংযুক্ত সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। টাকা তোলার এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন তথ্য সংগ্রহকারী তালিকার ৯ নম্বরে থাকা মো. আলামিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রকাশ্যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন আলামিন। ভিডিওতে টাকা লেনদেনের দৃশ্য ফুটে উঠলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনার বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সমবায় অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ধনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান,
এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এক প্রকার স্বীকার করেন।
ঘটনাটির বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সখিনা আক্তারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছেন।
ইউএনও মিজ সখিনা আক্তার আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উপজেলা কমিটিকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মনটা আজ কিছুটা ভারী ছিল। প্রতিদিনের একঘেয়েমি এবং অযথা ক্লান্তি কাটানোর জন্য বিকেলের দিকে একা বেরিয়ে পড়লাম ঘরের বাইরে। যেহেতু আমার বাসা নদীর নিকটে, তাই স্বাভাবিকভাবেই বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করি। কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য নীরব স্থাপত্য। লাল ইটের তৈরি সাদা রঙের কারুকাজ করা বিশাল এক প্রাচীন দেয়াল, যা স্থানীয়দের কাছে 'লালকুঠি' নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিক নর্থব্রুক হল বা পরিচিত লালকুঠি পুরান ঢাকার আঁকাবাঁকা সরু গলির মাঝে এক অনন্য সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। পুরো রাজধানীর গাড়ির হর্ন এবং শহুরে কোলাহলের মধ্যে এটি যেন শান্তির এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ঠিক পাশে ব্যস্ত সদরঘাট। বুড়িগঙ্গার জলে ভেসে আসা নদীর হাওয়া এবং দূরে দূরপাল্লার লঞ্চের হুইসেলের শব্দ এখানে এক অদ্ভুত আবহ তৈরি করে।
লালকুঠির চত্বরে পা রাখতেই নতুন জীবনের ছোঁয়া দেখা যায়। এখানে যেন রূপসী ও তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার এক আনন্দমেলা বসেছে। মন ভালো করতে কিংবা নিজেকে সুন্দর ফ্রেমে বন্দি করতে সবাই দারুণ সব পোশাকে সেজে এসেছেন। বিশেষ করে মেয়েরা নজরকাড়া রঙের শাড়ি, ম্যাচিং গয়না এবং রেশমি চুড়ি পরে এসেছে সাজগোজের সবটুকু ঢেলে দিয়ে। ছেলেদের পরনে ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি। প্রতিটি মানুষের চোখ-মুখে যেন উদ্ভাসিত এক উষ্ণ হাসি। সবাই এসেছে শহুরে ক্লান্তি ভুলে নিজেকে কিছুটা লালিত সময় দিতে।
দালানের ধারের প্রশস্ত চত্বরে স্থানীয়দের হাঁটাচলা এবং শরীরচর্চা করতে দেখা যায়। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা, যেখানে কোনো যানজটের চাপ নেই এবং কোলাহলের হুটোপুটি নেই। মনকে কিছুটা স্থিরতা দিতে চাইলে যে কেউ এখানে এসে ঘুরে যেতে পারেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে লালকুঠির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর লাল ইটের দেয়ালে সাদা রঙের সূক্ষ্ম নকশা এবং কারুকাজ। নকশাদার অংশগুলোতে রাতে রয়েছে নান্দনিক আলোর ব্যবস্থা। প্রতিটি লাল ইটের পিলারের শীর্ষে শোভা পাচ্ছে ছোট ছোট সাদা গম্বুজ, আর তার ঠিক ওপরেই কালো রঙের অপূর্ব নকশি কারুকাজ।
দর্শনার্থীদের এই স্মৃতি ধরে রাখতে চত্বরজুড়ে পেশাদার আলোকচিত্রীদের আনাগোনা দেখা যায়। টাকার বিনিময়ে তারা পছন্দসই কোণ থেকে দর্শনার্থীদের রঙিন ছবি তুলে দেন। বিশেষ করে বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন বুড়িগঙ্গার বুকে ডুব দিতে শুরু করে, তখন যেন ছবি তোলা, নদীর হাওয়ায় ভিডিও ধারণ অথবা ব্লগ বানানোর হিড়িক পড়ে যায়। লালকুঠির দেয়ালে গোধূলির আলো পড়ে তৈরি হয় এক অনবদ্য দৃশ্য।
বিকেলের এই সময়ে এখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় জমান প্রিয়জন বা দম্পতিরা। এছাড়া পরিবার কিংবা একঝাঁক বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসা মানুষের আড্ডাও জমে ওঠে বেশ। এই আঙিনা শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের ঘোরাঘুরিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ঐতিহাসিক আভিজাত্যের কারণে এখানে প্রায়ই নাটক-সিনেমার শুটিং, মডেলদের ফটোশুট অথবা নতুন দম্পতিদের ওয়েডিং ভিডিওর কাজ হয়ে থাকে।
তবে সাঁঝের বাতি জ্বলতেই ভাঙতে শুরু করে এই আনন্দ-আড্ডা। দিনের শুরুতে সূর্য ওঠার সাথে সাথে খোলা হলেও, সন্ধ্যা নামার পর মাগরিবের আজান শুনলেই লালকুঠির মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে বুড়িগঙ্গার কূল ছেড়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেন সবাই, সঙ্গে নিয়ে যান বিষাদ ভুলে এক চিলতে শান্তির স্মৃতি।
লালকুঠিতে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী তাসনিম মেহজাবিন বলেন, "সারা সপ্তাহের ব্যস্ততা আর ক্লাসের ক্লান্তি কাটাতে নদীর ধারের এই শান্ত পরিবেশ সত্যিই দারুণ। লাল ইটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে শাড়ি পরে ছবি তুলতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।"
আরেক দর্শনার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, "ঢাকার বিকট যানজট আর হর্নের শব্দ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে বুড়িগঙ্গার এই তীর যেন এক শান্তির দ্বীপ। বিকেলে নদীর হাওয়ায় হাঁটাহাঁটি আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে মনের সব বিষাদ এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়। এছাড়া এখানে যে লাল ইট রয়েছে, সেটি খুব ভালো লাগে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এটি সুন্দর একটি ঘোরাঘুরির জায়গা।"
দায়িত্বে থাকা গেটম্যানের সাথে কথা বলে জানা যায়, "প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে আমরা লালকুঠির মূল ফটক দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দিই। বিকেল গড়াতেই দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কেউ ছবি তুলতে আসেন, কেউ আসেন একটু শান্তির খোঁজে। ঐতিহ্যের এই চত্বরকে সুন্দর রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল কাজ। তবে রাতের নিরাপত্তা এবং নিয়ম মেনে চলার সুবিধার্থে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে, অর্থাৎ মাগরিবের আজান হলেই আমরা মূল ফটক বন্ধ করে দিই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ