০৪:২২ পি.এম
ইতালির জেনোয়ায় আট বছর আগে ঘটে যাওয়া সেতু ধসের মামলাটির রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। এই মামলার মাধ্যমে ৪৩ জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনা ইতালির অবকাঠামো পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ফ্রান্স ও ইতালি সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের অংশ, জেনোয়ার মোরান্দি সেতুটি ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট প্রচণ্ড বর্ষণের মধ্যে ধসে পড়ে। এই ঘটনার ফলে বেশ কয়েক ডজন যানবাহন গভীর খাদে পড়ে যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপি এর মাধ্যমে ইতালির জেনোয়া থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের রায়ের মাধ্যমে ১৯৬৭ সালে উদ্বোধন হওয়া সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চার বছরের বিচারকাজ শেষ হবে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, পরিবহন নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে সরকারি নথি জালিয়াতির কারণে ৫৭ জন আসামির বিরুদ্ধে মোট ৪০০ বছরের বেশি কারাদণ্ডের আবেদনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মৃতদের আত্মীয়দের সংগঠনের প্রধান এগলে পোসেত্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি তারা দোষী সাব্যস্ত হবেন। তবে ভুক্তভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এতে আমাদের প্রিয়জনরা আর ফিরে আসবেন না।’
৯ নম্বর স্তম্ভের ধসের ঘটনায় পোসেত্তির বোন, ভাগনে, ভাগনি ও ভগ্নিপতি মারা যান। তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের অনুসন্ধানে জানানো হয়েছে, '১৯৬৭ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ধসের আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ ৫১ বছরের মধ্যে, ৯ নম্বর স্তম্ভের স্টে কেবল শক্তিশালী করতে ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়নি।'
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত
১০ ও ১১ নম্বর স্তম্ভে কাজ করা হলেও, ৯ নম্বর স্তম্ভে কাজ করার কোন পরিকল্পনা ছিল না।
বিচার চলাকালে প্রসিকিউটর ওয়াল্টার কোটুগনো মন্তব্য করেন, ‘মোরান্দি সেতু ছিল একটি টিকটিক করা টাইম বোমা। এর টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু কখন বিস্ফোরণ ঘটবে তা কেউ জানত না।’
অধিকাংশ আসামিই ইতালির প্রায় অর্ধেক মোটরওয়ে নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী অটোস্ত্রাদে পার ল'ইতালিয়া (এএসপিআই) এবং সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান স্পিয়ার নির্বাহী ও কারিগরি কর্মকর্তা।
তাদের মধ্যে দুর্ঘটনার সময় অটোস্ত্রাদের মহাব্যবস্থাপক জিওভান্নি কাস্তেলুচ্চি, স্পিয়ারের সাবেক প্রধান আন্তোনিনো গালাতা এবং অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত।
আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড
কাস্তেলুচ্চির বিরুদ্ধে ৯ নম্বর স্তম্ভের সংস্কারকাজ বিলম্বিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার ১৮ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রতিরক্ষা পক্ষের প্রধান যুক্তি হলো, সেতুটিতে একটি গোপন নির্মাণগত ত্রুটি ছিল। সেতুর কেবলে ক্ষয় ধরেছিল। তাদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নয়, বরং এ কারণেই সেতুটি ধসে পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন