প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নির্বাচিত চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার পর শুন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হোসনেয়ারা নামের এক মহিলা মেম্বারের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবের নেতৃত্বে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
মহিলা মেম্বার দীর্ঘ ৩ মাস চেয়ারম্যান হতে না পারায় সালিসিতে সক্রিয় হলে গোপনে লেনদেনের এই ঘটনা প্রকাশ পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইউপি সচিব রাতের আধারে পরিষদের রেজুলেশন খাতা চুরির চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ধরা পড়েন এবং পুরো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে ঘটেছে।
ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারা সালিসি বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি নেতা, কয়েকজন ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সামনে জানান, চেয়ারম্যান বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম ৫০ হাজার, সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকারের পিএস মাসুদ ৫০ হাজার, ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোরসালিন ২০ হাজার, ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম ১০ হাজার, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জলিল ১০ হাজার এবং ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে পদও নেই, টাকাও নেই। এ অবস্থায় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশি বৈঠকের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি চাউর হওয়ার কারণে অপকর্ম ঢাকতে ইউপি সচিব রাতের আধারে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন খাতা গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে চুরির চেষ্টা করেন। গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মানিক স্বীকার করেন যে, তাকে ইউপি সচিব চাবি দিয়ে পাঠিয়েছেন। রেজুলেশন খাতা নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।
এদিকে রোববার (১ নভেম্বর) রাতেই গোপন স্থানে বসে ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যান করার রেজুলেশন করা হয়েছে এবং তা সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউপি সচিবের মাধ্যমে ২ লাখ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
জালাল উদ্দীন বলেন, "নিয়ম অনুযায়ীই আমি চেয়ারম্যান হচ্ছি। কারণ ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলালের বিরুদ্ধে ভিডাব্লিউবি উপকার ভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা নিজের হাতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। আর প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ হোসনেয়ারা ইউপি সচিবসহ বিভিন্ন জনকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দুর্নীতি করেছে।"
কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, "ইউপি সচিব মোখছেদুল ইসলাম কামারপুকুর ইউনিয়নেরই সন্তান। কিন্তু তিনি চরম দুর্নীতিবাজ হয়ে পড়েছেন। এর আগে তার ছেলের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা করাসহ নানা অনিয়মের কারণে তাকে পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। আবার টাকা দিয়ে তিনি নিজ ইউনিয়নেই চাকরি করছেন। যা সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী বেআইনি। তা ছাড়া তিনি অতিরিক্ত ফি আদায় করাসহ নানা অনিয়ম করে চলেছেন। স্থানীয় লোক হওয়ায় তিনি অকপটে এসব দুর্নীতি করে চলেছেন।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলামের মতামত জানতে রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তিনি বলেন, "আমি কোনো টাকা নেইনি। হোসেনয়ারা আমার টেবিলের ড্রয়ারে ৫ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিল। তা আমি একটা কাজে খরচ করে ফেলেছি। দ্রুত ফেরত দিয়ে দেব। আর অন্য কেউ টাকা নিয়েছে কি না তা আমার জানা নাই।"
এদিকে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, "চৌকিদার আমার নাম কেন বলেছে? আমি কি তাকে আসতে বলেছি? আমি এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। আর ইউনিয়ন পরিষদের কোনো বিষয়েই আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। তাই সেখানে ঘটা কোনো ঘটনার সাথে আমাকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।"
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, "বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তিনি কোনোভাবেই এমন কাজে নিযুক্ত হতে পারেন না। তাই প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।"
স্থানীয় সরকারের নীলফামারী জেলার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সাইদুল ইসলাম বলেন, "এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তাতে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এ সংক্রান্ত ভিডিও আমি এখনও দেখিনি। দেখে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন