ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ঘটনার নেপথ্যে কী?


মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ঘটনার নেপথ্যে কী?

বরগুনার তালতলীতে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মর্গ থেকে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। সোমবার রিমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

নিহতের আত্মীয়দের অভিযোগ, রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্বজনদের দাবি, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই মর্গ থেকে চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার মর্গে এলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এটি হাতাহাতিতে পরিণত হয়। পরে পুলিশের ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে আবু বকর, নিহত রিমার এক স্বজন বলেন, "আমরা শুনেছি, রিমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ম্যানেজ করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।" তিনি জানান, পরে তারা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে আজ সকালে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কিন্তু মরদেহ রেখেই রিমার স্বামী দ্রুত চলে যায়।

নিহত রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমি দূরে ছিলাম। মোবাইল ফোনে জেনেছি আমার বোনকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "দুই একদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, "হত্যা নাকি আত্মহত্যা, এই প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের জন্যই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।" তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়েতে মাকে দাওয়াত দেওয়ায় কর্মীকে চাকরিচ্যুত করলেন মালিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৪ এম


বিয়েতে মাকে দাওয়াত দেওয়ায় কর্মীকে চাকরিচ্যুত করলেন মালিক

ভালো চেহারার অধিকারী না হওয়ায় লজ্জা বোধ করে নিজের বিয়েতে মা-কে দাওয়াত দেননি চীনের এক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কর্মী। বিষয়টি সামনে আসলে ওই কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেন মালিক। নেটদুনিয়ায় ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান চুই পেইজুন গত ২১ জুলাই হেনান কুয়াংশান ক্রেন কোম্পানির গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘটনাটি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ওই কর্মীর বাবা যখন তার দুই বছর বয়সে মারা যান। সেই সময় তার মা কষ্ট করে একা তাকে বড় করেন। কিন্তু বিয়ের সময় মায়ের উপস্থিতিকে লজ্জাজনক মনে করে ওই কর্মী তাকে আমন্ত্রণ জানাননি। বিষয়টি জানতে পারার পর চুই সরাসরি ওই কর্মীকে প্রশ্ন করেন, "তোমার দুই বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করলে?" এরপর তিনি ওই কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, বরখাস্ত হওয়ার পর অন্য কোথাও চাকরি না পাওয়ায় ওই কর্মী চুইয়ের অফিসে এসে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চান। তবে এই মালিক তার সিদ্ধান্ত বদলাননি। বরং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অবসর নেওয়া ওই মাকে প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিক বিভাগে আগের সমান বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন চুই।

চীনে কর্মীদের প্রতি উদারতার জন্য বেশ পরিচিত চুই। চলতি বছরের শুরুতে কর্মীদের বাড়ি ও অন্যান্য ঋণের বোঝা কমাতে তিনি ১৮০ মিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২৫৪ কোটি রুপি) বর্ষশেষ বোনাস দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি চীনের সবচেয়ে দয়ালু বস খেতাব পেয়েছেন। এছাড়া, গত ১২ বছর ধরে দরিদ্র পরিবারের ৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ইউয়ান শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল ১৬ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৬ এম


দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল ১৬ জনের

দক্ষিণ কোরিয়ায় চলতি গ্রীষ্মের মৌসুমে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে এই সময়ের মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দেশটি বর্তমানে অত্যন্ত প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছে, যার সম্পর্কে মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তথ্য জানিয়েছে।

এটি জানানো হয়েছে যে গত ১৫ মে থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৫ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবপাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বারোপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৯ এম


মানবপাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বারোপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মন্ত্রী বলেন, এই অপরাধ সম্পূর্ণরূপে দমন করা কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশীদারিত্বই এই ব্যাধি নির্মূল করতে পারে।

আজ রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত 'বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস'-এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানব পাচারের শিকার সারভাইভারদের (উদ্ধার প্রাপ্তদের) সত্য ঘটনা এবং তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইনে ভুয়া প্রলোভনকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, মানব পাচার কেবল ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেই ধ্বংস করে না, এটি সমাজের মূল ভিত্তিকেও চরমভাবে আঘাত করে।

প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের এই বিস্তার রুখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না।

‘লিসেন’ গ্রন্থের মাধ্যমে সারভাইভারদের যে করুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

চলতি বছরের ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’-এর প্রতিপাদ্য 'ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম'-এর প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন মানুষকে সীমান্ত পার করে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং উদ্ভাবনী উপায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা প্রদান করা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ইউএনআরসি) ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক।

আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লিসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ‘লিসেন’ হলো দেশে পাচারের শিকার ভুক্তভোগী নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির উপর তৈরি প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তপ্ত ক্যাম্পাস ও ছাত্র রাজনীতি: কার লাভ, কার ক্ষতি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২২ এম


উত্তপ্ত ক্যাম্পাস ও ছাত্র রাজনীতি: কার লাভ, কার ক্ষতি?

দীর্ঘ ১৭ বছর একটানা ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের হাজারো ছাত্র জনতা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে, অঙ্গহানি করে, চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের অন্যতম আইকন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও পলায়ন করতে বাধ্য করেছে। দেশে গণতন্ত্র আইনের শাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে। তার সুফল এখনো পেয়েছে কিনা সেটি জনগণই ভালো জানে। তবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান রাজনৈতিক দল-বিএনপি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে ক্ষমতাসীন হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মত রাজনৈতিক দল অনেক আসন পেয়ে বিরোধী দলে জায়গা করে নেয়। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পরাজিত শক্তি বসে নেই, দলীয় প্রধান পালিয়ে গেলেও কোন অনুশোচনা ছাড়াই ক্রমাগত নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়ে গোটা দেশ বিশৃঙ্খল করে রাখতে চাইছে। নিজে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেল সংকট, গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি লুটপাট অপশাসনের ফলে এবং তার বিভিন্ন দোসর বিভিন্ন পদে আসিন থাকায় সরকারকে বাজার ব্যবস্থায় চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিম্ন আয়ের মানুষদের নাভিশ্বাস এর সাথে পাশাপাশি যদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয় তাহলে দীর্ঘ গণতন্ত্রহীনতা শেষে নতুন ব্যবস্থায় ফেরার জন্য যে স্থিতিশীলতা দরকার তা নতুন সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আসলে সরকারি দল নাকি বিরোধী দল নাকি অনুশোচনা ছাড়াই দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কাদের লাভ হচ্ছে অথবা কাদের ক্ষতি হচ্ছে তা ভেবে দেখা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী।


বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কখনো কেবল শিক্ষার কেন্দ্র ছিল না; এটি ছিল গণতন্ত্র, প্রতিবাদ, অধিকার আদায় ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূতিকাগার। কিন্তু যখন সেই ক্যাম্পাস যুক্তির বদলে শক্তির, বিতর্কের বদলে দখলের এবং মতের বদলে সংঘর্ষের মঞ্চে পরিণত হয়, তখন সবচেয়ে বড় পরাজিত হয় জাতি।

জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। সরকারি সমর্থক ছাত্রসংগঠন, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সংঘর্ষ ও উত্তেজনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—ছাত্ররাজনীতি কি আবারও সেই পুরোনো সহিংসতার চক্রে ফিরে যাচ্ছে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—এই সংঘাতের প্রকৃত লাভ কার?
যে দেশ অর্থনৈতিক চাপ, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রতিদিন সংঘর্ষের সংবাদ শিরোনাম হয়, তবে লাভ কোনো ছাত্রসংগঠনের নয়। ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীর, ক্ষতি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, ক্ষতি হয় রাষ্ট্রের।
ক্ষমতাসীনদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক পরিবেশকে সহনশীল রাখাও তাদের কর্তব্য। অন্যদিকে বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোরও মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নামে সহিংসতা বা প্রতিশোধের রাজনীতি জনসমর্থন নয়, বরং জনআস্থা হারানোর পথ তৈরি করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস একটি শিক্ষা দেয়—যখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত হয়, তখন সেই বিভাজনের সুযোগ নেয় তৃতীয় শক্তি। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন শক্তির জন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যারা বিশৃঙ্খলাকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চেয়েছে। তাই আজ যারা ক্যাম্পাসকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তারা হয়তো সাময়িকভাবে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে চাইছেন; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হচ্ছে পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামো।

বিশ্ববিদ্যালয় কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানী, বিচারপতি, শিক্ষক ও চিন্তাবিদ তৈরির প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি বইয়ের বদলে লাঠি, গবেষণার বদলে গোষ্ঠীসংঘর্ষ এবং যুক্তির বদলে পেশিশক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে হারবে বাংলাদেশই।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা নয়; বরং ছাত্ররাজনীতিকে সভ্য, যুক্তিনির্ভর ও গণতান্ত্রিক করার সময় এসেছে। ক্যাম্পাসে মতের লড়াই থাকবে, কিন্তু অস্ত্রের নয়; বিতর্ক থাকবে, কিন্তু রক্তপাতের নয়।

আজ যারা ছাত্রনেতা, কাল তারাই দেশের নেতৃত্বে আসবেন। যদি তাদের রাজনৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠই হয় সংঘর্ষ, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশও সংঘাতের উত্তরাধিকার বহন করবে। আর যদি তাদের প্রথম পাঠ হয় সহনশীলতা, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, তবে সেই বাংলাদেশ হবে আরও শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি একটাই—ক্যাম্পাসে প্রতিদিন উত্তাপ ছড়িয়ে কি কেউ সত্যিই জয়ী হয়?
না। জয়ী হয় কেবল অস্থিরতা। পরাজিত হয় শিক্ষা, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ।

আরও একটি বাস্তবতা আজ জনপরিসরে আলোচিত। দেশের বাইরে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জাগছে—দেশের অভ্যন্তরে যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যকার সংঘাতে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে সেই বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ কি অতীতের শক্তিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে না?
রাজনীতির ইতিহাস বলে, প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় বিজয় অনেক সময় তার নিজের শক্তিতে নয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বীর আত্মঘাতী বিভক্তিতে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি সংঘর্ষ, প্রতিটি রক্তাক্ত ছবি, প্রতিটি প্রতিহিংসার ঘটনা যেন অদৃশ্য কারও রাজনৈতিক পুঁজিতে পরিণত না হয়—সেই সতর্কতা আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারের সামনে তাই দ্বৈত দায়িত্ব এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে নিজেদের সমর্থক ছাত্রসংগঠনসহ সব রাজনৈতিক পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া। কারণ ক্ষমতার প্রকৃত শক্তি প্রতিপক্ষকে দমনে নয়, নিজের পক্ষকেও আইনের সীমার মধ্যে রাখার সক্ষমতায়।

আজ যদি আবেগ প্রজ্ঞাকে হারিয়ে দেয়, যদি দলীয় আনুগত্য রাষ্ট্রের স্বার্থকে ছাপিয়ে যায়, যদি ক্যাম্পাস আবারও সংঘর্ষের কারখানায় পরিণত হয়, তবে তার মূল্য শুধু একটি সরকার বা একটি দলের নয়—সমগ্র বাংলাদেশকে দিতে হবে।

সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। উত্তপ্ত রাজনীতিকে শীতল প্রজ্ঞায় নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ এখনো আছে। সেই সুযোগ হারিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, ইতিহাস কাদের সুযোগ করে দেবে, আর কাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে—তার উত্তর সময়ই লিখবে। তবে একটি সত্য আজই স্পষ্ট: বিভক্তির রাজনীতি কখনো জাতিকে শক্তিশালী করে না; বরং সেই ফাটল দিয়েই অনিশ্চয়তা প্রবেশ করে রাষ্ট্রের ভেতরে।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%