ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৩য় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা ছাড়া ইরান মার্কিন ইজরায়েল যুদ্ধ বন্ধ হবে না!


৩য় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা ছাড়া ইরান মার্কিন ইজরায়েল যুদ্ধ বন্ধ হবে না!

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানে হামলার মাধ্যমেই মূলত সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছে। 

 
যুদ্ধে পশ্চিমা শক্তির পরিকল্পনা মতে দ্রুত বিজয় অর্জন ও সাফল্যের প্রত্যাশা - ইরানের অনাকাঙ্ক্ষিত শক্তিশালী প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এ কারণে পশ্চিমা শক্তি তথা বর্তমান সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার জেদি ও একগুয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মান বাঁচাতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা বললেও এই যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ না বাঁধিয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন না বা এমনটাও বলা যেতে পারে যে, বিশ্ব আধিপত্যের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রশক্তি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ পশ্চিমা শক্তি চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে তার অবস্থান থেকে ধ্বংস করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ধোঁয়া হয়তো কিছুটা পাতলা হয়েছে, কিন্তু সংকটের মেঘ একটুও সরেনি। যুদ্ধবিরতি, মধ্যস্থতা কিংবা কূটনৈতিক সংলাপকে অনেকেই শান্তির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, বহু বড় যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায় শুরু হয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন বিশ্ব ভেবেছিল সংঘাত শেষের পথে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের সর্বস্বক্তি দিয়ে যখন ইরানকে পর্যদুস্থ করার সম্ভব হয়নি তখন আলোচনা টেবিলে সময় ক্ষেপণের নামে একটি মারাত্মক ও ধ্বংসলীলা চালানোর পরিকল্পনা যে পশ্চিম বিশ্বের আছে এমন কথা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

বিগত ৪০ দিনের যুদ্ধে বিশ্বের সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরান যে প্রতিরোধ শক্তি বা সামরিক সক্ষমতা  ইতিমধ্যে দেখিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তা যদি আরও ব্যাপক আকারে বিস্তৃত না করতে পারে কিংবা পরমাণু অস্ত্র না তৈরি করতে পারে, তাহলে অত্যাসন্ন সম্ভাব্য মার্কিন ইসরাইলের ধ্বংসলীলা চালানোর সেই আক্রমণ ইরান প্রতিরোধ করতে পারবে কিনা সেটা সন্দেহের উদ্রেক করে। সুতরাং ইরান ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি হিসেবে কতটি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে কিংবা তার ভূগর্ভস্থ বাংকারে কত হাজার ব্যালাস্টিক হাইপারসনিক মিসাইল কিংবা কত হাজার বা লক্ষ অ্যাটাক ড্রোন সংরক্ষণ করতে পারবে কিংবা কত সংখ্যক আইসিবিএম বা আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করলে তার সমূহ আক্রমণ পূর্বের মতো ঠেকাতে পারবে তা ইরান নির্ধারণ করতে পারবে কিনা তা সময়েই বলে দিবে। তবে ইরানকে এটা মনে রাখতে হবে যতক্ষণ সে পূর্ণ শক্তি দিয়ে পশ্চিমা শক্তির প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে ততক্ষণ পশ্চিমা শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তিগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব অর্থনীতি ও জ্বালানির স্বার্থেই  চীন, রাশিয়া কিংবা উত্তর কোরিয়া বা তাদের পক্ষ শক্তি ইরানকে পূর্ণ সমর্থন করবে- পূর্বের ইতিহাস থেকে এমন ধারণা করা যায়।

আজকের ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতকে বিচ্ছিন্ন কোনো সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে। এটি কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত প্রভাব, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং পরিবর্তিত বিশ্বশক্তির ভারসাম্যকে ঘিরে এক গভীর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।

এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। বর্তমান যুদ্ধ কি সত্যিই সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে, নাকি এটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতের একটি মধ্যবর্তী অধ্যায় মাত্র? এর নিশ্চিত উত্তর আজ কারও কাছে নেই। তবে এটি একটি আলোচনাযোগ্য ভূরাজনৈতিক মতামত যে, যদি প্রধান শক্তিগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস, প্রক্সি সংঘাত এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা একই গতিতে চলতে থাকে, তাহলে এই সংকট আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি অস্বীকার করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে বৈশ্বিক প্রভাব ধরে রাখার কৌশল অনুসরণ করেছে। অন্যদিকে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূকৌশলগত গুরুত্ব—সব মিলিয়ে এই সংঘাত এখন বহু শক্তির স্বার্থের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিটি নতুন উত্তেজনা শুধু একটি দেশের নয়, পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্যও পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

সেই কারণেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে চূড়ান্ত শান্তির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার আগে বাস্তবতাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। কারণ ইতিহাসের কঠিন শিক্ষা হলো—যখন কূটনীতি দুর্বল হয়, অবিশ্বাস বাড়ে এবং শক্তির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠে, তখন আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

অতএব, এই সংঘাতকে শেষ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়ার চেয়ে এটিকে একটি চলমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা অধিক বাস্তবসম্মত। ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করবে যুদ্ধক্ষেত্রের গোলাবারুদ নয়; বরং বৃহৎ শক্তিগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কৌশলগত সংযম এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কার্যকারিতা। আর যদি সেই সংযম ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্বের সামনে আরও বিস্তৃত ও জটিল সংঘাতের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

ইরানে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার মাধ্যমে বিশ্ব ধ্বংসের যে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ মধ্যপ্রাচ্য তথা ইরানে জ্বলে উঠেছে, সেই আগুন পরমাণু বোমায় বিস্ফোরিত হয়ে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার চীন, বৃহৎ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া সহ আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর দ্বিধাবিভক্তির মাধ্যমে তথা পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য ও মহা ধ্বংস লীলা চালানোর মতো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু না হওয়া পর্যন্ত ইরান ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ থামছেনা তা বরং চলতেই থাকবে- এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


মাদারীপুরে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ

মাদারীপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার মূল্যের নকল সিগারেট জব্দ করেছে। এই অভিযানের সময় তিনজনকে আটক করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লোকমান খারকান্দি গ্রামের মোরশেদ মিয়ার ছেলে পিকআপ চালক নাদিম মিয়া (২৭), মাদারীপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মদী এলাকার মৃত আদেল উদ্দিনের ছেলে আতাহার মিয়া (৬২), এবং রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল রানা (৫৪)।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, নিয়মিত চেকপোস্টের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদী এলাকার সড়কে অভিযান পরিচালনা করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এসময়ে সন্দেহভাজন একটি কাভার্ডভ্যানে সিগারেট ভর্তি তল্লাশি করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিগারেটগুলোকে নকল বলে নিশ্চিত করেন।

এই অভিযানে কাভার্ডভ্যান থেকে জব্দ করা হয় ১১০ কার্টন সিগারেট। যার বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। এই ঘটনার জন্য দায়ী থাকা অপরাধের কারণে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জানা যায়, এসব নকল সিগারেট বাজারজাত করার মাধ্যমে ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিপদে প্রসূতি নারীর সহায়তায় এগিয়ে এলো জুরাছড়ি সেনা জোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৩ এম


বিপদে প্রসূতি নারীর সহায়তায় এগিয়ে এলো জুরাছড়ি সেনা জোন

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে একটি অসহায় প্রসূতি নারীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বুধবার (১ জুলাই) জুরাছড়ি উপজেলার জ্যামুরাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সমাপ্তি চাকমা প্রসবজনিত জটিলতার কারণে শিলছড়ি বাজারস্থ গ্রিন হিল ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি ভিত্তিতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু অসচ্ছল অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তর করার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভব ছিলো না।

বিষয়টি জানার পর জুরাছড়ি সেনা জোন মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সেইসাথে জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রোগীকে নিরাপদে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এই মানবিক সহায়তার জন্য রোগীর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং জুরাছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষার সাথে সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতেও জুরাছড়ি জোন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কড়াকড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ এম


আজ থেকে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কড়াকড়ি

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। গতবারের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিতে যাচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন শিক্ষার্থী।

গতবারের পরীক্ষা থেকে এবারের পরীক্ষায় সকল শিক্ষা বোর্ডে একসাথে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানাচ্ছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।

আজ বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এবারের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ঢাকা শহরের ৪০টি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহার এবং শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটে, তবে সারা দেশে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হবে এবং পরে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষাগ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মতামত হচ্ছে, সব বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে প্রশ্নফাঁস রোধ করা এবং সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এবারের লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত, এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাব: বিরোধী দলীয় নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ এম


জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাব: বিরোধী দলীয় নেতা

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জানান, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্কার সনদ (চার্টার) তৈরি হয়েছিল, সেই সনদের ভিত্তিতে জনগণ গণভোট বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করতে পারেনি। যদি সংসদে সংবিধান সংস্কারের সুযোগ না হয়, তবে আমরা জনগণের কাছে যাব এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩১টি দৃশ্যমান রাজনৈতিক সংগঠন একটি সংস্কার সনদে একমত হয়ে পৌঁছায়।

‘বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি’ ছাড়া বাকি সব দল সেগুলোতে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেছে-এমন দাবি করেন তিনি।

জায়াতের আমির বলেন, একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অর্থবহ করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিল। গণভোটে যে রায় আসবে, তা সবাই মেনে নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা ছিল এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।

‘বিরোধী দলের সব সদস্য দুই ধরনের শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। সরকারের যুক্তি ছিল, বিষয়টি সংবিধানে নেই। অথচ অনেক বিষয়ই সংবিধানে আগে ছিল না। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনও সংবিধানে উল্লেখ ছিল না। অতীতে অনুষ্ঠিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু জাতীয় প্রয়োজনেই সেগুলো কার্যকর হয়েছিল’-এটি উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি সুন্দরভাবে বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে সেই রায় উপেক্ষা করে, দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।

ডা. শফিক বলেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও তা কার্যকরভাবে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে নোটিশের মাধ্যমে আলোচনা হলেও কোনো রুলিং বা সিদ্ধান্ত আসেনি। তখন বিরোধী দল সিদ্ধান্ত নেয়, সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছে যাবে এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%