০৯:৪০ পি.এম
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর, আলোচিত জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী মেট্রন সামছুন নাহার হত্যা মামলার রায় দিয়েছে আদালত।
রায়ে কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, দুটি ধারায় তাকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও আড়াই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে, জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আহসান হাবীব চপল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী চিকিৎসক নাবিলা নুসরাত নিহত
দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম (৫৫) জয়পুরহাট শহরের পশ্চিম দেবীপুর মহল্লার ছলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর রাতে জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী মেট্রন সামছুন নাহার নিখোঁজ হন। চার দিন পর, ২৫ নভেম্বর তার ভাই ফেরদৌস আলম লুলু জয়পুরহাট সদর থানায় শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তের একপর্যায়ে, পুলিশ শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ১৮ দিন পর, ৯ ডিসেম্বর কলেজের ছাত্রীনিবাসের সেপটিক ট্যাংক থেকে সামছুন নাহারের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে, শহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামছুন নাহারকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায়, ঘটনার দিন তিনি সামছুন নাহারকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর, তার গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও আংটি খুলে নেন। পরে, হত্যাকাণ্ড গোপন করতে হাসুয়া দিয়ে মরদেহের পেট কেটে, কলেজ চত্বরের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে, তার কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: রংপুরে এক হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবাসহ তরুণী আফসানা মরিয়ম গ্রেফতার
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়পুরহাট সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক জানান, রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত শহিদুল ইসলামকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন