০৬:২৪ পি.এম
ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহবাহী বিমানটি অবতরণ করে। স্বজনরা বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ মাগরিব কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তিনজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
মারাত্মক আহত হয়ে ইতালিতে চিকিৎসাধীন থাকা পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়নও শুক্রবার বিকেলে গ্রামে পৌঁছাবেন। তিনি মা, বাবা ও ছোট বোনের জানাজা ও দাফনে অংশ নিবেন।
পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করায়।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় বিরোধীয় জমিতে রাতের আঁধারে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ।
ইতালিতে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১১ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর স্বজন ও প্রবাসীদের উপস্থিতিতে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কামাল উদ্দিন বাবুল দেশে এলে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতেন এবং সবার সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করতেন বলে জানান তার চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কিছুদিন আগেই দেশে ছুটিতে এসে পারিবারিক কবরস্থানে মাটি ফেলেছিল। আজ সেখানেই তাকে স্ত্রী ও সন্তানসহ দাফন করতে হচ্ছে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
আরও পড়ুন: ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস: শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন