০১:৩৮ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রীর একটি চালান ইরানকে পাঠিয়েছে। সম্প্রতি, কাস্পিয়ান সাগর পার হয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ নিয়ে বিশাল এই অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান পৌঁছেছে।
বিশেষ গোয়েন্দা নথি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উপলব্ধি করতে পারি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের কারণে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।" অর্থাৎ মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে সফল হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঐক্যের সরকার চান নেতানিয়াহু, ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোট গঠনে হুঁশিয়ারি
ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য যেসব জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। উল্লেখ্য, এই কোম্পানি ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রাশিয়া ও ইরান আগামী ২০ বছর ধরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
এদিকে, এই চুক্তির প্রারম্ভের অনেক আগে থেকেই ইরান রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ নিয়মিতই পাঠানো হয়েছে। রাশিয়া নিজের প্রযুক্তি ব্যবহার করে শাহেদ ড্রোনের মান এবং বিধ্বংসী ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র সহায়তা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে এনবিসি ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদির বিমান হামলায় নিহত ৩৩, আহত ৩৯
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন