০৪:৩৬ পি.এম
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, গত মাসের জোড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বিকল্প রানওয়ে ব্যবহার করে যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য চালু করা হবে।
সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরায় অবস্থিত। ২৪ জুনের ৭ দশমিক ৩ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প এর কেন্দ্রস্থল ছিল এই এলাকা। ওই ভূমিকম্পের ফলে অসংখ্য আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হরি বক্সার যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার
ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম এই ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
স্বজনদের খুঁজে বের করতে পরিবারগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লাইটের জন্য খোলা রয়েছে।
রড্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন, ‘বিমানবন্দরের সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করে, যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করতে বিকল্প পরিকল্পনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি।’
আরও পড়ুন: মদিনায় ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সদস্য ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার কাজে সহায়তা প্রদান করছেন। তাছাড়া ত্রাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম সরবরাহ সহজ করতে তারা লা গুয়াইরার ক্ষতিগ্রস্ত বন্দর মেরামতের কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন।
মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ব্যারেট সাংবাদিকদের সঙ্গে এক কনফারেন্স কলে বলেন, বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান জানান, মার্কিন সামরিক সদস্যরা এখনও বিমানবন্দরে আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিতে কার্গো পরিচালনার কাজে সহায়তা করছেন।
আরও পড়ুন: আরাগচির সঙ্গে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আলোচনা
দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রায় ২ হাজার মার্কিন সেনা ভেনেজুয়েলায় মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন হেলিকপ্টার ও বিমান নিয়মিত এই বিমানবন্দরে অবতরণ করে চলেছে।
৭ দশমিক ৩ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানার প্রায় দুই সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান শেষ করছে।
এদিকে স্বজনদের লাশ উদ্ধারে পরিবারগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সরকার মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে জানায়, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ।
আরও পড়ুন: বিয়ে না করায় প্রেমিকাকে গোকাক জলপ্রপাতে হত্যা করলেন কনস্টেবল
হাজারো মানুষ এখন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। তারা ধসে পড়া ভবনের বাইরে তাঁবুতে অথবা বাস্তুচ্যুতদের জন্য স্থাপিত অস্থায়ী শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের দুই দিন পর জাতিসংঘের এক হিসাবে জানানো হয়, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তখনও নিখোঁজ ছিলেন। তবে সরকার এখনও নিখোঁজের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
এই দুর্যোগের পূর্বে ভেনেজুয়েলা অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছিল। এতে দেশটির অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা সিস্টেম অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই ভূমিকম্পে ৬৭০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: হায়দরাবাদে মুসলিম নামের কারণে ডেলিভারি বয়কে পেটালো উগ্রবাদীরা
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্যমতে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের সুরক্ষা, ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয় সহায়তা প্রদানের জন্য আগামী ছয় মাসের জন্য আনুমানিক ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন