ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল-মনে করে বিজিবি


সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল-মনে করে বিজিবি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অঞ্চলে চলতি কিছুদিন ধরে 'পুশ ইন' বা 'পুশ ব্যাক' নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হয়েছে, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটেছে।

একাধিকবার ধাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা পুশ ইন করানোর একটি প্যাটার্ন খুঁজে বের করেছেন। پুশ ইন-এর আগে ভারতের সীমান্তে লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজিবি কর্মকর্তারা এটি 'সিগন্যাল' হিসেবে ধরে সতর্ক অবস্থানে চলে আসেন।

আরও পড়ুন: পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা

বিজিবির রবাত সূত্রে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, মে মাসের শেষ থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে পুশ ইন এবং পুশ ব্যাক নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে অন্তত ২০০ জন মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর সীমান্ত সড়ক রয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়ার বিভিন্ন স্থানে গেট রয়েছে। সীমান্ত সড়ক দিয়ে রাতে বড় গাড়িতে করে মানুষ নিয়ে যাওয়া হয়, লাইট বন্ধ করে, কোনো একটি গেট খুলে দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় তারা।"

প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রেই বিএসএফের এই পুশ ইন প্যাটার্ন বা ঘটনাপ্রবাহ একই রকম রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন, "প্রতিটি পুশ ইন-এর আগে ওই এলাকায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়, এটি সবচেয়ে বড় সিগন্যাল।"

মে মাসের শেষদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সংলগ্ন সীমান্তের ভারত অংশে কয়েকশো মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে বিজিবির। এই ঘটনার পরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সব এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে বিজিবি।

আরও পড়ুন: রেলে ডিউটি কার্ড জালিয়াতি, কোটি টাকার টিকিট কালোবাজারে বিক্রি

ঝিনাইদহ, যশোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেয় বিজিবি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসানের দাবি, সীমান্তের কাছে থাকা গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ যদি এই নজরদারি এবং টহলের কাজে বিজিবিকে সহায়তা না করতেন, তাহলে 'পুশ ইন' ঠেকানো তাদের পক্ষে সম্ভব হত না।

তিনি জানিয়েছেন, বিজিবি নিয়মিত স্থানীয় স্কুল, মসজিদ, বাজারে মাইকিং করে। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জানানো হয়, সীমান্তে এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে, পুশ ইন হতে পারে।

গত ৩ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে একজন চৌকিদারের কাছ থেকে পুশ ইন-এর তথ্য পায় বিজিবি। চৌকিদার জানান, বিজিবি কয়েকদিন আগে থেকেই তাকে সীমান্তের লাইট বন্ধ হওয়া বা রাতে সীমান্তের ওপারে গাড়ি চলাচলের শব্দ শুনলে সতর্ক থাকার জন্য বলেছে।

আরও পড়ুন: সমবায়ের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান গিয়াস কাদেরের

বিজিবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএসএফ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে বিএসএফের কর্মকর্তারা বিজিবির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠকে একাধিকবার এই পুশ ইন-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলছেন বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন হচ্ছে স্টেডিয়ামে, বাইরে সংঘর্ষ চলছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন হচ্ছে স্টেডিয়ামে, বাইরে সংঘর্ষ চলছিল

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোর ঝলকানি, মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপস্থাপনা এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে, স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচের পূর্বে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মেক্সিকো স city's নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের তথ্যে জানা যায়, ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ২০০ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হলেও পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের কারণে শহরের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া একটি ফ্যান জোনেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এসব ঘটনার প্রভাব মাঠে পড়েনি; অধিকাংশ সমর্থক কোনো বড় ধরনের বিলম্ব ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনের আগে থেকেই দেশটির সরকার এবং শিক্ষক সংগঠন সিএনটিই-র একাংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাদের প্রধান দাবি হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৭ সালের বিতর্কিত আইএসএসএসটিই আইন বাতিল করা। এই আইন রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল।

সিএনটিই টানা দশম দিনের মতো দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করছে। সংগঠনটির দাবি হলো, শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার। এই ধর্মঘটের ফলে দেশজুড়ে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক-সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ নিয়েও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার বিক্ষোভকারীরা আজতেকা স্টেডিয়ামের প্রধান সড়ক অবরোধ করে এবং ‘ফিফা, চলে যাও’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মেক্সিকো সরকার ম্যাচের দিন রাজধানীর সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। যদিও এর আগে শিক্ষাবর্ষ ছয় সপ্তাহ আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পরে তা বাতিল করা হয়।

বিশ্বকাপের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের আড়ালে মেক্সিকোর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে উদ্বোধনী আয়োজন নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় আবেদন করবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় আবেদন করবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানায় যে, তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করবে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মগবাজারের হাসপাতালটিতে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, "আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মগবাজার শাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা আমরা সঠিকভাবে পালন করব। এক্ষেত্রে রোগীদের কোনো প্রকার ক্ষতি যে না হয়; সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি এবং খেয়াল রাখব, ইনশাআল্লাহ।"

হাসপাতালটির পরিচালক আরও জানিয়েছেন, "সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করব। আশা করব, জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকার জনস্বার্থে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখতে আমাদের অনুমতি দেবেন।"

তিনি আরো যোগ করেন, "আমাদের যে ওয়ার্ডে ছয়টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে; সেই ওয়ার্ড আমরা বন্ধ রেখেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ওয়ার্ডের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করব।"

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, "দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের যে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। সে কাজে রোগীদের যাতে কোনো প্রকারের ক্ষতি না হয়। আমরা সে বিষয়ে খেয়াল রাখছি। তাদের পাশে আমরা সবসময়ই ছিলাম এবং এখনো আছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সব শ্রেণির মানুষকে বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটকে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়েছে, সেই পরিমাণ শ্রম আমরা দিয়েছি। কতটা সফল হয়েছি, সেই বিষয়টি দেশের মানুষই মূল্যায়ন করবে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট ছিল কিছুটা ভিন্ন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এবং নতুন সরকারের অধীনে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে বর্তমান সরকার একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের এই সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। তবে তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের প্রতিটি মানুষকে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করেছি।

তিনি এই বাজেটের আওতার বাইরে কোনও মানুষ নেই বলেই মনে করেন। এছাড়া, তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যারা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন, তাদেরও বাজেটের আওতায় আনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ প্রদান করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। সবশেষে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, এবং সরকার সেই নীতিতেই অগ্রসর হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্পদের সীমাবদ্ধতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট কঠিন ছিল: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


সম্পদের সীমাবদ্ধতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট কঠিন ছিল: অর্থমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট রিজিমে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি শুক্রবার (১২ জুন) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রিজিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার করে বাজেট পেয়েছে। আওয়ামী আমলের কারণে দেশের প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। এ কারণে সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট করা কঠিন ছিল।

তিনি জানান, বাজেটে মানুষের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি, এবং আমরা সবার সাথে কথা বলে সেই প্রত্যাশা প্রতিফলনের চেষ্টা করেছি বাজেটে। সরকারের লক্ষ্য ছিল, প্রতি নাগরিককে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করা। কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকেনি।

অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এবারের বাজেটে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করার উদ্দেশ্য ছিল। এর আগের বাজেটগুলো কিছু মানুষ বা গোষ্ঠীর জন্য ছিল। এখন সবার জন্য রোডম্যাপ দেয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নে কি কি করতে হবে তা পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ পরিবেশসহ প্রতিটি প্রকল্প ব্যয়ে চার ধরনের কনসিডার করে বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

এবারের বাজেটের ভাবনা, চিন্তা ও দর্শন ভিন্ন। ‘রুল বেইজড অর্ডার’ থেকে বিশ্ব সরে এসেছে, যুদ্ধ নতুন করে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ফলে প্রকৃত অর্থনীতির দিকে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। জ্বালানি খাতে অবিঘাত বেশি হয়েছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ব্যাংকগুলোতে পাচার ও লুটপাটের কারণে ঘাটতি এবং কস্ট অব ফান্ডের অভাব দেখা দিচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে।

সরকার ব্যবসা বান্ধব অবস্থা সৃষ্টি করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর চেষ্টা চলছে। পণ্য খালাস থেকে বাজার পর্যন্ত অধিক খরচ হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে। ইতোমধ্যে তেল-গ্যাসের মূল্য বেড়েছে, এবং বহিরাগত মূল্য বৃদ্ধিতে কিছু করার দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। ফলে অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি কমালে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব থাকবে।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি ক্রয়ে বাফারস্টক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এবং পোর্টে খরচ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৩ লাখ কোটি টাকার পাশাপাশি মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%