ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ডিম-মাছের দাম চড়া, কমেছে মুরগির দর


ডিম-মাছের দাম চড়া, কমেছে মুরগির দর

রাজধানীর বাজারে আবারও ডিমের দাম বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে; সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম কমে গেছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম পূর্বের বাড়তি দামেই স্থিতিশীল রয়েছে। সবজির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না; বেশিরভাগ সবজি ৫০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে এসে ডিমের দাম শোনার পর হতাশ ক্রেতারা নিজেদের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে ডিম ছিল তুলনামূলক সাশ্রয়ী উৎস। কিন্তু বর্তমানে সেটির দামও বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত

পারিজাত নামে এক ক্রেতা বলেন, 'ডিম এমন একটা খাবার, যেটা কমবেশি সব পরিবারই কিনে। কিন্তু একাধিকবার দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়ে। বাজারের খরচ তো আর কমছে না।'

সাইফুল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, 'মাংসের দাম অনেক বেশি। তাই ডিম কেনার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখন ডিমের দামও বাড়তে থাকলে কম আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।'

সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বর্তমানে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজনে ১০ টাকা বাড়িয়ে সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। ডিম বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ও পাইকারি বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম নির্ধারণ হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা সোলেয়মান জানান, 'পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। যদি আমরা বেশি দামে কিনি, তবে খুচরাতেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমতে পারে।'

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে ১৯ মামলার আসামি ফিরোজ বাবু আটক

এদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম পূর্বের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়।

মুরগি বিক্রেতা মনির জানান, 'সোনালি ও লেয়ারের সরবরাহ কিছুটা ভালো হওয়ায় দাম কমেছে। ব্রয়লারের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন নেই। বাজারে যে দামে আসছে, সে অনুযায়ীই আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।'

অন্যদিকে সবজির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকার আশপাশে। বর্তমানে পটল ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতারা বলেছেন, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সুযোগ রয়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন, 'এখন বেশিরভাগ সবজির সরবরাহ মোটামুটি ভালো। তাই দামও খুব বেশি বাড়েনি। বাজারে আরও বেশি সবজি এলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।'

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় বিএনপি'র পথসভা, অস্থিতিশীল পরিবেশের প্রতিবাদে আহ্বান

সবজি কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, 'সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে নেমেছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে টমেটো আর গাজরের দাম এখনো বেশি।'

তবে সবজিতে স্বস্তি থাকলেও মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বেড়েছে রুই ও কাতলার দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং কাতলা ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে মাছের দাম উঠানামা করছে। এক বিক্রেতা বলেন, বড় মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কম। তাই রুই-কাতলার দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।

আরও পড়ুন: পুষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে বাকৃবি-নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের সমঝোতা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি ডলারের প্রচারণা ঠেকিয়ে কংগ্রেসে মুসলিম নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি ডলারের প্রচারণা ঠেকিয়ে কংগ্রেসে মুসলিম নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম নির্বাচনী এলাকা থেকে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও রাজ্য সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের শূন্য আসন পূরণে অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সিদ্ধান্ত ডেস্কও আয়েশা ওয়াহাবের জয় নিশ্চিত করেছে।

এই জয়কে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ নির্বাচনী প্রচারে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজের পক্ষে ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল। এসব প্রচারণার বড় অংশে আয়েশা ওয়াহাবের জননিরাপত্তা ও অন্যান্য নীতির সমালোচনা করা হয়।

আয়েশা ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম মুসলিম নির্বাচিত সিনেটর। এবারের নির্বাচনী প্রচারে তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুযত্নের খরচ কমানো, বড় কোম্পানির অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া ঠেকানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি প্রচারণা না চালালেও ওয়াহাব ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এক প্রার্থী বিতর্কে তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধকে গণহত্যা হিসেবে মনে করেন বলেও জানান।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজ বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে ইসরায়েলপন্থী সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক তহবিল প্রায় ২০ লাখ ডলার ব্যয় করে ওয়াহাবকে আক্রমণ করে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। একই ধরনের আরেকটি গোষ্ঠী আরও প্রায় ১৯ লাখ ডলার ব্যয় করে। ওয়াহাবকে সমর্থনকারী একটি পাল্টা রাজনৈতিক তহবিলও ২ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করে।

বিপুল অর্থের এই প্রচারণার কারণে ওয়াহাবের আগের বড় ব্যবধান কমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটা কঠিন হয়ে ওঠে। জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম দফায় তিনি হার্নান্দেজের চেয়ে ২৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। এর দুই সপ্তাহ আগে দুই বছরের পূর্ণ মেয়াদে জন্য অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনে ওয়াহাব ২১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।

জয়ের পর আয়েশা ওয়াহাব বলেন, এই এলাকার মানুষ বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে তার কাজ ও অবস্থানের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি এ জন্য নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন।

ওয়াহাবের এই জয় ডেমোক্র্যাটিক দলের ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে চলমান মতবিরোধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর দুই সপ্তাহ আগেই মিশিগানে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তাকে ঠেকাতে ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে একই রাতে মিসৌরিতে ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়া ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওয়েসলি বেল সহজ জয় পান। ফলে চলতি নির্বাচনী মৌসুমে ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলাফল একরকম হচ্ছে না।

সোয়ালওয়েলের শূন্য আসনে ওয়াহাব

এরিক সোয়ালওয়েল যৌন অসদাচরণের অভিযোগের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে কংগ্রেস সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে এক সাবেক কর্মী ধর্ষণের অভিযোগও করেছিলেন। সোয়ালওয়েল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পদত্যাগের পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে নিজের প্রার্থিতাও প্রত্যাহার করেন।

সোয়ালওয়েলের পদত্যাগের পর কংগ্রেসের আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আয়েশা ওয়াহাব এখন ২০২৭ সালের শুরুতে নতুন কংগ্রেস শপথ নেওয়া পর্যন্ত এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সানফ্রান্সিসকোর পূর্বাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকা ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১২টি আসন রয়েছে। কয়েকটি আসন আবার শূন্য রয়েছে। ফলে ওয়াহাবের জয় প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি অতিরিক্ত আসন এনে দিল।

তবে ওয়াহাব ও হার্নান্দেজের রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বর মাসে একই দুই প্রার্থী পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য আবারও মুখোমুখি হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরানীগঞ্জে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


কেরানীগঞ্জে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে জানে আলম ও শাহীন নামের দুই মাদক সেবিকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, বিকেল ৫ টায় উপজেলার রোহিতপুর ইউনিয়নের সাহাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঞা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে জানে আলম ও শাহীন নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক ও ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে জানানো হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত জানে আলমকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং শাহীনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স জারি করেছে। মাদক কারবারি বা সেবনকারি কারো সাথে কোন আপোষ নেই। যে কেউ হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাকাই টেস্টে মুশফিকের সামনে মাইলফলকের হাতছানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


ম্যাকাই টেস্টে মুশফিকের সামনে মাইলফলকের হাতছানি

বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের দখলে রয়েছে। তিনি একমাত্র টাইগার ব্যাটার হিসেবে ৬ হাজারি ক্লাব থেকে এবার ৭০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার হাতছানি অনুভব করছেন। সেজন্য, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামীকাল শনিবার শুরু হতে যাওয়া ম্যাকাই টেস্টে অন্তত একটি সেঞ্চুরি অথবা দুই ইনিংসেই ফিফটি করতে হবে তাকে।

লাল বলের ক্রিকেটে অভিজ্ঞ মুশফিকের রান বর্তমানে ১০৪ ম্যাচের ১৯১ ইনিংসে ৬৮৪২। অন্যভাবে বললে, বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই সংস্করণের সাত হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ১৫৮ রান। চলতি সপ্তাহে ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পাওয়া টেস্টে তিনি কেবল প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। পাঁচ নম্বরে নেমে ৫৫ বল খেলে ৩৬ রানে আউট হন মুশফিক। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে স্লিপে ক্যাচ নিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ।

৩৯ বছর বয়সী মুশফিকের টেস্টে গড় হলো ৩৯.০৯। তার নামের পাশে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ২৯টি ফিফটির রেকর্ড। এর মধ্যে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। সর্বোচ্চ অপরাজিত ইনিংস ২১৯ রান খেলেছেন তিনি ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। একই মাঠে, একই প্রতিপক্ষের বিপরীতে ২০২০ বছরেও তিনি দ্বিশতক হাঁকান। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তিনি করেছিলেন ২০১৩ সালে গলে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, আর কোনো টাইগার ব্যাটারের ৬০০০ রান নেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাঁহাতি ব্যাটার মুমিনুল হক ৭৯ টেস্টের ১৪৭ ইনিংসে ৫২১০ রান করেছেন ৩৮.৩০ গড়ের সঙ্গে। সাবেক ওপেনার ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই তালিকার তিন নম্বরে আছেন। ৭০ টেস্টের ১৩৪ ইনিংসে তার রান ৫১৩৪ এবং গড় ৩৮.৮৯। এছাড়া, চার হাজারি ক্লাবে সাকিব আল হাসান এবং তিন হাজারি ক্লাবে হাবিবুল বাশার ও লিটন দাস রয়েছেন।

মুশফিকের টেস্ট অভিষেক ২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ৫৬ বলে ১৯ রান করার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ বলে ৩ রান করে আউট হয়েছিলেন তিনি। এরপর বহু পথ পেরিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই সংস্করণে তিনি পার করেছেন। বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ গড় (অন্তত ৫ টেস্ট), সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি— সব রেকর্ডই রয়েছে তার হাতে।

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে। তারা অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট হারানোর স্বাদ প্রদান করেছে। এইবার সফরকারীদের সামনে আরও বড় কিছুর হাতছানি রয়েছে। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ জিতলে বা ড্র করলে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয় করার আনন্দে টাইগাররা স্তব্ধ হয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পের নিন্দা ৫ দেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পের নিন্দা ৫ দেশের

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের গুরুত্বপূর্ণ ই১ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন বসতি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা।

বৃহস্পতিবার দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পরিকল্পনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে উল্লেখ করে। তারা এই সঙ্গেই ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘ দিন ধরে বিতর্কিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতিকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।

তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। ই১ এলাকায় বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক চাপ ও বিরোধিতার কারণে আটকে ছিল। নতুন এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে এরই মধ্যে গুরুতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিদ্যমান।

সেখানে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর বসতি স্থাপনকারী সহিংসতা বেড়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা আরো উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে উল্লিখিত দেশগুলো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরো দূরে সরিয়ে দেবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানকেও আরো দুর্বল করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও আলাদা এক বিবৃতিতে ই১ প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এই পরিকল্পনা একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য 'অস্তিত্বের হুমকি' তৈরি করেছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও ই১ পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪টির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত আগস্টে ইসরায়েল সরকার এসব আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। প্রকল্পটির আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালএ আদুমিমের মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। ওই সময়ের মাত্র কয়েক দিন পরে ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনের পর নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় এলেও ইতিমধ্যে দেওয়া দরপত্র বাতিল করা খুব কঠিন হতে পারে বলেও মনে করছেন প্রকল্পটির বিরোধীরা।

ই১ প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়ার সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা 'মুছে ফেলা হচ্ছে'। স্মোটরিচ ইসরায়েলের কট্টর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত নেতা। তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদেরও শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বসতি সম্প্রসারণের পক্ষের ইসরায়েলি নেতাদের মতে, পশ্চিম তীর ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। তবে ফিলিস্তিনিরা এবং ইসরায়েলের অনেক মিত্র দেশ মনে করে, নতুন বসতি নির্মাণ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরো কঠিন করে তুলবে।

 

ই১ এলাকা পশ্চিম তীরের মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। এর একদিকে পূর্ব জেরুজালেম, অন্যদিকে মালএ আদুমিমসহ ইসরায়েলি বসতি। এই এলাকার বড় আকারে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ফিলিস্তিনি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পটির বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমও পশ্চিম তীরের অন্যান্য ফিলিস্তিনি এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় অংশে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি শহরাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই শহরাঞ্চলের মাধ্যমে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ই১ এলাকায় বসবাসকারী বেদুইন ফিলিস্তিনিরা এবং ইসরায়েলের কয়েকটি শান্তিকামী সংগঠন এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নতুন বসতি নির্মাণের ফলে ওই এলাকায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের জীবন ও চলাচল আরো কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন নির্মাণকাজের কারণে তাদের বসবাসের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও তুলেছে।

 

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। ফিলিস্তিনিরা এসব এলাকা এবং গাজা উপত্যকাকে নিয়ে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসরায়েলের দখলের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছে। একই এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনিও বসবাস করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিরোধিতা থাকলেও একের পর এক ইসরায়েলি সরকার এসব বসতি সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়ে আসছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফেরার পর পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের গতি আরো বেড়েছে। নেতানিয়াহু ডানপন্থী ও বসতি স্থাপনকারীদের সমর্থন পাওয়া একটি জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছেন। তার সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধের মধ্যেও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

 

ই১ প্রকল্পের বিরোধীরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে। তাদের মতে, ই১ এলাকায় বড় ধরনের বসতি গড়ে উঠলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হতে থাকবে। ফলে একটি ধারাবাহিক ও সংযুক্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গড়ে তোলা কঠিন হয়ে যাবে। বিশেষ করে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে পশ্চিম তীরের কেন্দ্রে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি শহরাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%