প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বোরো মৌসুমে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কারণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওর রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় আকস্মিক বন্যা বা ঢলের ফলে হাওরের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের মোট উৎপাদিত ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশ হাওর এলাকা থেকে আসে। হাওরের বিস্তৃত জলরাশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শুকিয়ে গেলে কৃষকরা ভূমির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। কিন্তু এ বছরও হাওর অধ্যুষিত অনেক স্থানে ফসল রক্ষা বাঁধ অরক্ষিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায়ই অকালবন্যা দেখা দেয়। মার্চ মাসে শুরু হওয়া ওই বন্যার পানি হাওরের কৃষকদের বোরো ধান ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রতি বছর সুনামগঞ্জ জেলায় সরকারিভাবে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ নির্মাণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার ছাড়া অন্য জেলায় বোরো ফসল রক্ষার জন্য ৭২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৬৮৭টি, সিলেটে ২২টি এবং হবিগঞ্জে ১৬টি পিআইসি রয়েছে।
সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জে ৮০ ভাগ, সিলেটে ৬০ ভাগ এবং হবিগঞ্জে ৬৯ ভাগ বাঁধ নির্মাণকাজ সরকারি হিসাবে সম্পন্ন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব। কিন্তু হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের মতে, এখনও অর্ধেক কাজ বাকি রয়েছে। মাটি কাটার কাজ শেষ হলেও দুরমুজ, বস্তা বাঁধা, ঘাস লাগানোসহ অনেক কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার ৫৩টি হাওরে বোরো ফসল সুরক্ষার জন্য ৬৮৭টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো জেলায় ৫৮৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া বাঁধে মাটি ফেলার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না।
সূত্র আরও জানায়, সুনামগঞ্জে এখন পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাঁধের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সঠিক সময়ে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হলে পাহাড়ি ঢলে বোরো ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বাঁধের কাজে গাফিলতি করা হচ্ছে। কেবল কাগজপত্রে ৭০-৮০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বাঁধের কাজ ধীরগতিতে চলছে, ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব নয়। এর ফলে হাওরের বোরো ফসল ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এদিকে, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকের ধান রক্ষায় বাঁধের কাজ সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অনেক বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুদিন পর শুরু করেছে। সরকারি হিসাবে ৭০-৮০ ভাগ কাজ হলেও প্রকৃতপক্ষে এখনও অনেক বাঁধের কাজ বাকি রয়েছে। শুধু মাটি ফেলেই কাজ শেষ নয়, বাঁধের কম্পেকশন, দুরমুজ ও ঘাস লাগানোও বাকি রয়েছে। হাতে মাত্র কয়েকদিন সময় রয়েছে। এর মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
অন্যদিকে, পাউবো সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে। সিলেটের তিন উপজেলার পাঁচটি হাওরে ২২টি পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ১৬টি হাওর রয়েছে। সেখানে ১৬টি পিআইসির মাধ্যমে কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।
সার্বিক বিষয়ে পাউবো সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এটি আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কঠোর তদারকির মধ্যে কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন