ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ওমরাহ যাত্রীদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও, দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ


ওমরাহ যাত্রীদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও, দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৬ জুন, ২০২৬: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহ যাত্রীদের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওমরাহ কাফেলার প্রধান মাওলানা মো. গোলাম মাওলা চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন। দুই পীরজাদা শুধুমাত্র একই ব্যক্তি নয়, আরো ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিবন্ধন ছাড়া ‘এসবি ওভারসিজ’ এর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে, মামলা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেয়া অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলার কচুয়া উপজেলার আইনগিরি গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মাওলানা মো. গোলাম মাওলা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে অভিযুক্ত হাম্মাদ ও মিশকাতের সঙ্গে পরিচিত হন। এর আগে তিনি বিভিন্ন ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রী সৌদিতে পাঠিয়েছেন। নিজ জেলা এবং পীরজাদা হিসেবে হাম্মাদ এবং মিশকাতের সঙ্গে খুবই আস্থার সঙ্গে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ওমরাহ যাত্রীদের পাঠানোর জন্য টাকা লেনদেন শুরু করেন। ৬৫ জন ওমরাহ হজ্জযাত্রীর জন্য গোলাম মাওলা নগদ এবং ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেন করেন। এর মধ্যে নগদ অর্থ লেনদেন হয় হাম্মাদের ব্যাংক একাউন্টে এবং বাকি নগদ টাকা দেয়া হয় হাম্মাদের পিতা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরীর হাতে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা বলেন, আমি হোসাইনিয়া হজ্জ কাফেলা নামে ইতোপূর্বে কয়েকবার যাত্রীদের ওমরাহ সম্পন্ন করেছি। ২০২৫ সালে হাম্মাদ ও মিশকাত চৌধুরীর অনুরোধে তাদের মাধ্যমে যাত্রীদের পাঠানোর কাজ শুরু করি। তারা ওইবছর ১৪ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমার কাছ থেকে ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহ পাঠাতে গড়িমসি করেন। এতে তাদের প্রতি আমার সন্দেহ হয় এবং মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখি তাদের এসবি ওভারসিজ নামে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নেই।

তিনি আরো বলেন, তারা যাত্রীদের পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আমাকে ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট দেন। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হলে এক পর্যায়ে আমাকে ২০ ও ২৫ লাখ টাকার দুটি চেক দেন ইসলামী ব্যাংকের। ওই চেকগুলোতে যথেষ্ট টাকা না থাকায় শেষ পর্যন্ত হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামী করে এন.আই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় ঢাকার এম এম আদালতে পৃথক দুটি মামলা করি। মামলায় দুটি হাজিরার নির্ধারিত তারিখে হাম্মাদ উপস্থিত হননি। তার বাবা যাকারিয়া চৌধুরী সন্তানদের দায়ভার নিতে নারাজ। হাম্মাদ ঢাকায় আত্মগোপনে এবং মিশকাত চৌধুরী বিদেশে রয়েছেন। এসব বিষয় আমি মৌখিকভাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি পুলিশ সুপারের নিকট।

এই ভুক্তভোগী বলেন, তাদের কাছ থেকে আমি যাত্রীদের টাকা উদ্ধারে সামাজিকভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তারা শুধুমাত্র আমার নয়, বহু ওমরাহ যাত্রীদের টাকা নিয়ে আত্মগোপনে। এখন বড় সমস্যা হচ্ছে যারা আমাকে ওমরাহ করার জন্য টাকা দিয়েছেন তাদেরকে আমি টাকাও ফিরত দিতে পারছি না এবং ওমরাহ করার ব্যবস্থা হচ্ছে না। তাদের জীবনের সবশেষ স্বপ্ন ভেঙেছে। যার ফলে আমি এখন পথে বসার উপক্রম। এই প্রতারক চক্রের কাছ থেকে যাত্রীদের টাকা উদ্ধারের জন্য আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।

আরেক ভুক্তভোগী কুমিল্লার মুরাদ নগরের নছরুল্লাহ হুসাইন জানান, আমার ১৭৬ জন ওমরাহ হজ্জ যাত্রীর ভিসা ও এয়ার টিকিট বাবদ মিশকাত চৌধুরী তার দুই ভাই হাম্মাদ ও ইয়াহিয়া চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে নিয়েছেন ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। যাত্রীদের কাজ করে দিতে না পেরে আমাকে ৭৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন। সময় পার হয়ে যাওয়ার পর আমি ওই দুই চেকের বিপরীতে কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা করেছি। ওই মামলায় খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হবে। তাদের এই ধরণের প্রতারণায় আমি পথে বসার উপক্রম। দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো লোকদের সঙ্গে তারা এই ধরণের প্রতারণা করেছে।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪

এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় দিয়ে কথা বলার জন্য ক্ষুদে বার্তা দেয়া হয়, তবে তাতেও তারা কোন সাড়া দেননি। যার ফলে তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে এসব ঘটনার বিষয় জানেন হাম্মাদ ও মিশকাতের বাবা মুহাম্মদ যাকারিয়া চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে জানান, ছেলেরা প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা নিজেদের ব্যবসা করেন লোকজনের সাথে। এসব বিষয়ে আমাকে জড়াবে কেন। মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে, আমি নগদ অর্থ গ্রহন করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সাথে কোন লেনদেন হয়নি। এসব জামেলার কারণে আমি ছেলেদের সঙ্গে এখন যোগাযোগ রাখি না। কারণ লোকজন আমার সঙ্গে জামেলা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ. কোরিয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২২ পি.এম


দ. কোরিয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি

দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর জন্য দাবি তুলে ধরেছে দেশটির প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো। তারা ২০২৭ সালের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার উয়ন নির্ধারণের জন্য দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানী সিউলের সেজংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোরিয়ান কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশন অব কোরিয়ান ট্রেড ইউনিয়নসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এ দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে ন্যূনতম মজুরিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। তারা ২০২৭ সালের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার উয়ন নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের দাবির সমর্থনে তিনটি প্রধান বিষয় উল্লেখ করেন। প্রথমত, শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মজুরির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, বিশেষ কর্মসংস্থানভিত্তিক ও প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি আইনকে সম্প্রসারণ করা উচিত, এভাবে যাতে নতুন কর্মসংস্থানের ধরনগুলোর অন্তর্ভুক্তিও আইনগত সুরক্ষা পায়।

সর্বশেষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্বনিয়োজিত উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকার আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা মূলত শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক শ্রমিক এখনও পর্যাপ্ত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাই ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য পুনরুদ্ধার এবং সব শ্রমিককে বৈষম্যহীনভাবে সুরক্ষার আওতায় আনতে সরকার ও জাতীয় সংসদের প্রতি তারা আহ্বান জানান।

একদিকে শ্রমিকপক্ষ জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় বড় ধরনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি করছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন আগামী বছরের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার উয়ন করার দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচের আগে স্মৃতি ফিরছে ২০০২ বিশ্বকাপের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচের আগে স্মৃতি ফিরছে ২০০২ বিশ্বকাপের

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ফ্রান্স বর্তমানে নিজেদের অন্যতম সেরা সময় কাটাচ্ছে। তারা গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে হট ফেভারিট হিসেবে উপস্থিত ছিল। ২০১৮ সালে দাপটের সঙ্গে বিশ্বকাপ জেতার পর গত আসরে ফাইনালে পৌঁছেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন দলটি। ফাইনালে শিরোপা অর্জন না করলেও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নাভিশ্বাস তুলেছিল এমবাপ্পের দল। এবারের বিশ্বকাপে সবদিক থেকে ফ্রান্স আবারও অন্যতম সেরা দল হিসেবে পরিচিত।

আজ (১৬ জুন) রাতে ফ্রান্স তাদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে। এই ম্যাচের পূর্বে ২০০২ সালের ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচের কথা ঘটা করে আলোচনা হচ্ছে। সেবার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স নবাগত সেনেগালের কাছে হার মেনে নিয়েছিল।

২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স অংশগ্রহণ করেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। তারা তখনকার ইউরো চ্যাম্পিয়ানও ছিল জিনেদিন জিদানের অধীনে। তবে, এতসব পরিচয়ের পরও সেই বছরে সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ফ্রান্স।

সেসময়ও ফ্রান্সের দলে তারকার কোন অভাব ছিল না। ফরোয়ার্ড লাইনে প্রিমিয়ার লিগ, লিগ ১ এবং সিরি এ-তে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে সমাদৃত থিয়রি অঁরি, ডেজব্রিল সিসে এবং ডেভিড ট্রেজাগে ছিলেন। যদিও তাদের সত্ত্বেও সেই বিশ্বকাপে সেনেগালের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের হতাশাজনক ১-০ পরাজয় ছিল। ইশারাতে বলা যায় সেইবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা গোটা গ্রুপ পর্বে একটিও গোল করতে পারেনি এবং গ্রুপে অবস্থান করেছিল সবার নীচে।

এখন গতবারের মতো এবারের ফ্রান্স দলেও তারকা খেলোয়াড়দের কোনও অভাব নেই। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিজের মতো বিশ্বনন্দিত প্রতিভা রয়েছেন।

অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির অধীনে মামাদু সার, আবদুলায়েক সেকর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির মতো অভিজ্ঞ একজন তারকা দলের মূল ভরসা।

আক্রমণের ক্ষেত্রে করোনা ক্লাব আল নাসরের ৩৪ বছর বয়সী সাদিও মানে পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামবেন। তাঁর সঙ্গে আছেন আসানে দিয়াঁও, বাম্বা দিয়েংদের মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়রাও।

স্কোয়াডের অধিকাংশ খেলোয়াড় ফরাসি এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে থাকেন। ফলে মনে করা হচ্ছে, ফ্রান্স সেনেগালকে সহজেই পরাজিত করবে; কিন্তু এই ব্যাপারে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম হয়তো খুব একটা আশাবাদী নন।

আজ রাতে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামুতে রেঞ্জ অফিসের লাগোয়া পাহাড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় নিধনের মহোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


রামুতে রেঞ্জ অফিসের লাগোয়া পাহাড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় নিধনের মহোৎসব

১৬ জুন, ২০২৬: কক্সবাজার দক্ষিন বনবিভাগের আওতাধীন ধোয়া পালং রেঞ্জে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে, যা পাহাড় নিধন করছে। ফলে পরিবেশ মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বনাঞ্চল ও পাহাড় উজাড় হচ্ছে। স্থানীয় বনবিভাগ গোপন সমঝোতার কারণে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার দক্ষিন বনবিভাগের রামু থানাধীন ধোয়া পালং রেঞ্জ ও বিট অফিসের লাগোয়া সরকারি বনবিভাগের পাহাড়ে কয়েকটি ড্রেজার স্থাপন করে বালু উত্তোলন চলছে। ফরেস্ট অফিসের পশ্চিমে ও উত্তরে গত ২ মাস ধরে টানা ৩/৪ টি ড্রেজার বসানো হচ্ছে। আরও দেখা যায়, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক বনায়নের ২য় আবর্তের ৭/৮ টি পাহাড় ইতিমধ্যে উজাড় হয়ে সমতল ভূমিকর ও গর্তে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিলামকৃত খালে সরকারের খাস জায়গায় বালি উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেখানে বনবিভাগের মালিকানাধীন পাহাড় ও বনভূমিতে বিনাবাধায় ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন চলছিল।

ধোয়া পালং এলাকার জনৈক আবদুল করিম, কামাল উদ্দিন, বদি রহমানসহ ১০/১২ জন সিন্ডিকেট করে এ বালি উত্তোলন করছে। ধোয়া পালংয়ের বদলিকৃত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোসাদ্দেক ও বিট অফিসের স্টাফদের সাথে সহযোগিতা করে তারা এ বালু উত্তোলন ও পাহাড় নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে।

ধোয়া পালং রেঞ্জ অফিসে বসেই প্রতিদিন ড্রেজার মেশিনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে কিন্তু স্থানীয় বনবিভাগ এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন যে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন জব্দ করা সহ বালু খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের যুব সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে সরকার দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটা বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব অথবা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।’

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু করেছি। সম্প্রতি এক শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লক্ষ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সব পরিবারের সন্তানরা এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বৃহৎ একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না? যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটি জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এই মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%