০৩:২৫ পি.এম
বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ করতে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে সামাজিক বিপ্লব ও যুদ্ধ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, মাদক বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বগ্রাসী ও ‘বার্নিং ইস্যু’। শুধু জেলা প্রশাসন, পুলিশ কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দিয়ে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সমাজ ও পরিবারকে সচেতন করতে হবে এবং সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।
আজ সকালে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বিশ্বের মাদক সমস্যা : চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী সমাধান’ নামক প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় প্রবাসীর জমিতে ঘর নির্মাণে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম
এর আগে সকাল ৯:৩০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বটতলায় বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর একটি মাদকবিরোধী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে।
সভায় জানানো হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে জেলাজুড়ে সপ্তাহব্যাপী নানা মুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে মাদকবিরোধী স্টিকার ও পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা। এ ছাড়াও বগুড়ার ১২টি উপজেলার ১৩টি স্থানে বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী মাইকিং এবং ১৪টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে ফ্রি কাউন্সেলিং সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা আরও বলেন, ‘সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যই মাদকের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেছেন। মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার। বর্তমানে শহর থেকে গ্রামেও এটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাই প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার। এখানে কোনো ছাড় নেই।’
তিনি বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে ২১টি ওয়ার্ডে দ্রুত মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান এবং মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা স্থানীয় যুবক তানভীরের উদাহরণ টেনে তাকে ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: মধ্যনগরে সারের ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ, ১,৪০০ টাকা মূল্য নিয়ে মেমো দিচ্ছেন ১,০৫০ টাকার!
বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযানের সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে জেলায় ১, ৮০৩টি অভিযান পরিচালনা করে ৭০২টি মামলায় ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৮৩৮টি অভিযানে ৩৩৬টি মামলায় ৩৫০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনকারীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহা. জিল্লুর রহমান সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রায়হান উদ্দিন মোরাদ এবং সিভিল সার্জন ড. মো. খুরশীদ আলম। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, शिक्षक-শিক্ষার্থী, ইমাম, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন