প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের পক্ষে মার্কিন রক্ষণশীল তরুণদের সমর্থন ধরে রাখার জন্য মাসে ১৫ লাখ ডলারের একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা চালানো হয়েছে, তবুও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং মার্কিন রক্ষণশীল তরুণদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন আরও কমেছে। এই কারণে দেশটির কর্মকর্তারা খুবই ক্ষুব্ধ বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।
প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেল এই প্রচারণার নেতৃত্ব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ, মাগা সমর্থকদের লক্ষ্য করে প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল-সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনে প্রভাব বিস্তারের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে, তবে এটি জনমতের পরিবর্তন করতে পারেনি।
টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন সংস্থা হাভাস ইসরাইলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা পরিচালনার জন্য পার্সকেলের প্রতিষ্ঠানের ক্লক টাওয়ার এক্স-কে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি মাসে অন্তত ১০০টি মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে হত, যাতে অন্তত ৮০ শতাংশ জেনারেশন জেডকে লক্ষ্য করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং পডকাস্টে প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৫ কোটি ডিজিটাল ইমপ্রেশন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রচারণার অংশ হিসাবে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর চ্যাপজিপিটি, অ্যানথ্রোপিক-এর ক্লড এবং গুগল-এর জেমিনি-এর মতো এআই প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল ও যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে উপস্থাপিত হয়, সেটা নিয়েও প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইসরাইল পার্সকেলের প্রতিষ্ঠানে ৯০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে এবং পরে চুক্তির মেয়াদও নবায়ন করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে অনলাইন বিজ্ঞাপন, মোবাইল ফোনে টেক্সট বার্তা পাঠানো এবং এআই সিস্টেম যে অনলাইন উৎস ব্যবহার করে, সেখানে ইসরাইলপন্থি তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
টাইম জানায়, প্রচারণার সাথে পরিচিত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যক্তিগত গ্রুপ চ্যাটে নির্দিষ্ট ভাষা বা বার্তা পাঠানো হতো। তাদের পোস্টের ভিউ ও সম্পৃক্ততার (এনগেজমেন্ট) উপর ভিত্তি করে অর্থ প্রদান করা হতো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি প্রচারণায় অংশ নেওয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ২ হাজার ২৫০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বাধিক ৪ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল।
টাইমের প্রতিবেদনে একটি ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, 'আমরা ব্র্যাড পার্সকেলের ওপর গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। তার কাজ ছিল পরিস্থিতির উন্নতি করা। আমরা তাকে অনেক অর্থ দিয়েছি। কিন্তু তার কৃতকর্মে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।'
পিউ রিসার্চ সেন্টারের এপ্রিলের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইলকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ, এবং ২০২২ সালে ছিল ৪২ শতাংশ। এছাড়া ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, যা এক বছর আগে ছিল ৫০ শতাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন যে, অনেক মাগা-ঘনিষ্ঠ ইনফ্লুয়েন্সার একই ধরনের বার্তা দিয়ে যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস না করেই 'আত্মসমর্পণ' করার অভিযোগ করছেন।
এতে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের অর্থায়নে পরিচালিত রক্ষণশীল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা টাইমকে জানান, বিদেশি অর্থ নিয়ে মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রেসিডেন্টের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা 'অত্যন্ত, অত্যন্ত বিপজ্জনক' এবং এটি তুচ্ছ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ইসরাইলের ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় প্রায় ২০ লাখ ডলারের একটি প্রচারণা চালিয়েছিল, যেখানে শত শত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের ওপর ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।
টাইমের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ায় দেশটি জনসংযোগ কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭৩ কোটি ডলার করেছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও তরুণ মার্কিন ভোটার, ডেমোক্র্যাট এবং কমবয়সি রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমার প্রবণতা এখনো থামানো যায়নি।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন