০৬:৪৬ এম
শত বছরের ঐতিহ্য এবং লোকবিশ্বাসের আশেপাশে পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত গ্রামে পাগলির বাজার বসেছে। একদিকে বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণার সঙ্গে, দেশের বিভিন্ন খাবার, মুড়ি-মুড়কি, জিলাপি, স্থানীয় কুটির ও মৃৎশিল্পীদের তৈরি নিজের নানা সামগ্রী এবং খেলনার পসরার মাঝে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।
প্রতিবছরের মতো গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারে শনিবার (২৭ জুন) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত একদিনের জন্য পাগলির বাজারের আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মেলার প্রবেশমুখে পাগলির কবর ঘিরেও মানুষের ভিড় ছিল। কবর ঘিরে কেউ এসেছেন মানত পূরণে টাকা, জিলাপি কিংবা মিষ্টি নিয়ে।
আরও পড়ুন: আকুর বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে
প্রতিবছর পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে আশুরার পরদিন, মহররম মাসে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের অভাবের কারণে গ্রামের কাঁচা সড়কের দুপাশ জুড়ে বসে যান সারি সারি দোকান। চারদিকে জিলাপি ভাজার সুগন্ধ, রঙিন বেলুন, খেলনা, বাঁশির সুর এবং শিশুদের উচ্ছ্বাসে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গ্রামে।
কেনাকাটার পাশাপাশি শত বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে কাছ থেকে উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসেন।
শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আশিকুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে পাগলির বাজারে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে, বিভিন্ন ধরনের দোকান ও আয়োজন পাগলির বাজারকে ঘিরে শুরু হয়েছে।’
সুজন ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘এই মেলাটি দীর্ঘ বছরের মেলা। কাউকে আয়োজনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। প্রতিবছর এই সময়ে বিভিন্ন দোকান এসে বসে। এটা একটা উৎসবের আয়োজন হয়।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা: বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি শুরু
শেফালী আক্তার সময় সংবাদকে বলেন, ‘এই এলাকায় একজন পাগলি বসবাস করতেন। তার মারা যাওয়ার পর থেকে এই বাজার বা মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এই আয়োজনের সঠিক সময় বা ইতিহাস কেউ জানে না। তবে এখানে অনেকেই পাগলির কবরে এসে মানত করেন। এরপর পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় কিছু সময়ের জন্য সময় কাটান।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর আগে আমিরন নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী এই গ্রামে বসবাস করতেন। আশুরার সময় তিনি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইমাম হাসান-হোসাইনের স্মরণে রচিত মার্সিয়া শুনাতেন গ্রামবাসীদের। মৃত্যুর পর তাকে গ্রামের সড়কের পাশে সমাহিত করা হয়। সেই সময় থেকেই তার কবর ঘিরে শুরু ঘটে ফাতেহা পাঠ ও মানতের প্রচলন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐ আয়োজনই পরিচিতি পায় পাগলির বাজার নামে।
বাজারে বসা দোকানীরা বলেন, প্রতিবছর এই মেলা ও বাজারকে ঘিরে এক উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় শিক্ষক আতাউর রহমান সময় সংবাদকে জানান, স্থানীয় বয়ঃজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে শুনেছি, এক সময় আমিরন নামে এক ভারসাম্যহীন নারী এই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আশুরার সময় তিনি লোকালয়ে আসতেন এবং স্থানীয় লোকজনকে মহররমে শোনাতেন ইমাম হাসান-হোসাইনের ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে রচিত মার্সিয়া গীত। স্থানীয়রা আমিরনের কণ্ঠে মার্সিয়া শুনে আবেগে আপ্লুত হতো। আমিরনের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা ওই গ্রামের সড়কের পাশে তাকে সমাহিত করেন। বছর ঘুরে আমিরনের কবরকে ঘিরে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করলেও একসময় এটি রীতিতে পরিণত হয়। প্রতিবছর মহররম মাসে মেলাটি বসে।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
আয়োজক আসাদুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, প্রতিবছর এই আয়োজন হয়ে থাকলেও এবার বাজারটির দেখাশোনা আমরা করছি। সুশৃঙ্খলভাবে বাজারটি পরিচালনা করার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন