ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিস্টের বদলে দেওয়া নাম বদলে চট্টগ্রামের ‘মিনি বাংলাদেশ’ ফিরে পেল পুরোনো নাম


ফ্যাসিস্টের বদলে দেওয়া নাম বদলে চট্টগ্রামের ‘মিনি বাংলাদেশ’ ফিরে পেল পুরোনো নাম

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে বদলে ফেলা চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ অবশেষে আবার নিজের নাম ফিরে পেয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’টি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েক বছর পর সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ রাখা হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনকালে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য প্রদানের সময় বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’-এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সেটি ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিত ছিল; যা ছিল প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির এক প্রদর্শনী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেই নাম পরিবর্তন করা হবে এবং সেটি আবারও ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবে পরিচিত হবে।

এ প্রসঙ্গে, গত ১২ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমপ্লেক্সটির নতুন নাম ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক কালুরঘাটস্থ ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’টি এখন থেকে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ নামে অভিহিত হবে এবং এর বিস্তারিত ঠিকানা ও জমির পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

এর আগে, গত ২৪ মার্চ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ আজ বাসসকে বলেন, ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স-এর নাম পুনর্বহালের জন্য মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এই নাম পরিবর্তন করেছে। এজন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই এবং মন্ত্রী মহোদয় ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় তৎকালীন বিএনপির সরকার এই কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করেছিল। এখানে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী সকল স্থাপনার রেপ্লিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি চট্টগ্রামের মানুষের জন্য একটি চমৎকার বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করেছিল। কিন্তু গত বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে এটির নাম বদলে দেওয়া হয়েছিল।’

এমনকি, এরশাদ উল্লাহ এমপি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই এটিকে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবেই চেনে এবং জানে। যদিও বিগত সরকার নাম পরিবর্তন করেছিল, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এটি কখনোই ওই নামে পরিচিতি পায়নি এবং তারা সবসময় এটি জিয়া কমপ্লেক্স নামেই অভিহিত করে এসেছে।’

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন পর্যন্ত পার্কটি পরিচালনায় তখনকার আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের একজন সংসদ সদস্যের ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছিল। সরকার পতনের পর ওই দিন রাতে শতশত বিক্ষুব্ধ মানুষ পার্কটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং এরপর থেকে পার্কটি খুলে দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রামে ‘মিনি বাংলাদেশ’ :

চট্টগ্রামের মহানগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের বিপরীতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৬ দশমিক ৩৭ একর পরিত্যক্ত জায়গায় ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কমপ্লেক্সটি ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

দেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য এক নজরে দর্শনীয় করার লক্ষ্যে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, লালবাগ কেল্লা, কান্তজিউ মন্দির, বড় কুঠি, ছোট সোনা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের স্মরণে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি রিভলভিং বা ঘূর্ণায়মান টাওয়ার; যেটির উপরে একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। টাওয়ারটির উচ্চতা ৭১ মিটার এবং ব্যাস ৫২ মিটার। বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এ কমপ্লেক্সে দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার বিষয়ে জানা সুযোগ পেতেন এবং সেই কারণেই এটি ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

পার্কটি নির্মাণের চুক্তি অনুযায়ী, নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি পরিচালনা করেছিল কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কমপ্লেক্সটির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চসিক নতুন করে ইজারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। পরে একই বছরের নভেম্বরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্সটির ইজারা নেয় এবং সেই সময় পার্কে প্রবেশের মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যিনি সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর ভাই। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর জানানো হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ইজারার চুক্তি শেষ হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে মুচলেকায় ২১ ঘণ্টা পর ছাত্রনেতা মাহদীসহ ৩ জনের মুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


হবিগঞ্জে মুচলেকায় ২১ ঘণ্টা পর ছাত্রনেতা মাহদীসহ ৩ জনের মুক্তি

লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানসহ তিনজন আটক হন। আটকের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর থানায় মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে মুক্তি দেয়া হয় তাদের। মুক্তি পাওয়া অন্য দুজন হলেন মীর্জা সুমন ও রাজু। এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখার ঘটনায় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়। আটকের বিষয়টি জানতে এবং খোঁজ নিতে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে ছুটে আসেন জাতীয় নারীশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারজানা আহমেদ। পরে মঙ্গলবার দুপুরে নানা আলোচনা ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে মুচলেকায় মাহদী হাসান, মীর্জা সুমন ও রাজুকে মুক্তি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে তারা লিখিত আকারে মুচলেকা দিয়ে জানিয়েছেন, এমন কোনো কর্মসূচি আর করবেন না, জানালে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে, থানা থেকে মুক্তির পর মাহদী হাসান জানান, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তাদের প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাকে যেভাবে আটক করা হয়েছে, এতে তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা জানান এবং জনগণের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রাইম মিনিস্টারের ভিজিট নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই। ভিজিট যখন যে দেশে ঠিক হবে প্রাইম মিনিস্টারের অফিস থেকে জানানো হবে।’

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, গত রোববার ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় পক্ষ কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ মনে করে, এ সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি স্পষ্ট করেছেন, শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। ভারত বলেছে, ‘ভারত পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও অগ্রগামী সম্পর্ক চায়।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেছে তা নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এছাড়া হাদির হত্যার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ম অনুয়ায়ী যাচাই করা হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভাষণের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ জানিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্ট করা হয়, শেখ হাসিনার আয়োজনটি ছিল বেসরকারি এবং ভারত সরকারের এতে সম্পৃক্ততা নেই।

ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুদেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাওয়ার বিষয়টিতে উভয় দেশের আলোচনা অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক, ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক চায়। ভারতও দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, ভিসা সুবিধা এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষই কাজ করছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুতে অগ্রগতির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে এবং দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতেই মূল জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ ঘোষণা করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা চালুর প্রথম ৭ ঘণ্টায় ৪২৯ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা চালুর প্রথম ৭ ঘণ্টায় ৪২৯ মামলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরায় নজরদারি শুরু হওয়ার পর প্রথম সাত ঘণ্টায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪২৯টি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এসব মামলা করা হয়।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এআই ক্যামেরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা শনাক্ত করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলাগুলি করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এআই ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এই মহাসড়কের বিভিন্ন ৪৯০টি পয়েন্টে এক হাজার ৪২৪টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম মন্তব্য করেছেন, মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলতে আরো সচেতন হবেন। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমবে।

এর আগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা—বিকাশ, নগদসহ অন্যান্য মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

এই ব্যবস্থার আওতায় মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবশেষে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের জমি ও ভবন নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


অবশেষে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের জমি ও ভবন নিয়ে দ্বন্দ্বের সমাধান

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের জমি ও ভবন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আদালত আদেশ প্রদান করেছেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কার কারণে দ্বিতীয় পক্ষকে সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেছেন। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার প্রতিবেদন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৬ আগস্ট এ আদেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে এই ঘটনায় মামলা করা হয়েছিল।

আদালতের নথি ও তথ্যে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভিটিঝগড়ারচর মৌজার বিএস গেজেটেড ১৬ নম্বর খতিয়ানের ২৫৮ নম্বর দাগের ৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

প্রথম পক্ষের দাবি হলো, ওই জমিতে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্বিতীয় পক্ষ সেখানে দখলের চেষ্টা করছে।

১৯৯১ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের সঙ্গে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্য প্রেসক্লাব ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নামে ৬ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা হলেও ৩৬ বছরের পরে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ ‘প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুর’ নামে পৃথক কমিটি গঠন করার ফলে দুই পক্ষের নাম ও পরিচয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, প্রেসক্লাবের পক্ষে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর পরিশোধের কাগজপত্র, নির্মাণসামগ্রী কেনার ভাউচার এবং ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ২ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকের ফটোকপিসহ নথি দাখিল করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মোল্লা মো. নাসির আহমেদ বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যও।

আলোচনায় বলা হয়েছে, বিতর্কিত জমিতে প্রেসক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে।

দ্বিতীয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

পরে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত দ্বিতীয় পক্ষকে বিতর্কিত জমিতে এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবার নির্দেশ দিয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা শান্তি ভঙ্গের কারণ হতে পারে।

আদেশের অনুলিপি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%