০৯:৩৮ এম
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার কাবাল পুলিশ স্টেশনের কাছে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
এছাড়াও আহত হয়েছেন আরো ২৭ জন। এই তথ্যটি সোমবার ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোয়াত পুলিশের মুখপাত্র নাসির ইকবাল কারিমি হতাহতদের একটি তালিকা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় ১০ জন সাধারণ মানুষ এবং সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প প্রসারের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর
আহত অবস্থায় হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে ১৮ জন পুলিশ সদস্য ও নয়জন সাধারণ মানুষকে। কাবাল পুলিশ স্টেশনের পাশে কাবাল চকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে তখন একটি জনসমাবেশ চলছিল। হামলার সময় এই জনসমাবেশে উপস্থিত লোকজনের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলাটি ঘটে। ডনের তথ্য অনুযায়ী, সোয়াত পুলিশের মতে, হামলাকারীকে পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথে থামিয়ে তল্লাশি করার চেষ্টা করলে, সে নিজ সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটায়।
কারিমির বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পরপরই একটি বড় আকারের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এতে রেসকিউ ১১২২-এর ৫০ জনের বেশি সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। উদ্ধারকারিরা আহতদের স্থানেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার কাজ এবং হামলার তদন্ত এখনো চলমান।
পত্রিকাটি জানাচ্ছে, হামলায় নিহত দুই পুলিশ সদস্য, কনস্টেবল মুকাররম খান ও কনস্টেবল হুসাইন খানের জানাজার স্থান সোমবার জাভেদ ইকবাল শহীদ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
পুলিশের একটি দল নিহতদের প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করে। তাদের কফিনে ফুলের তোড়া অর্পণ করা হয়। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে মালাকান্দ অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ ফিদা হাসান শাহ, সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ উমর খান, পুলিশ সুপার (অপারেশনস) গুলাম সাদিক খান, পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) আতাউল্লাহ এবং পুলিশের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সোয়াত উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলা বাড়তে থাকা পরিস্থিতির প্রতিবাদে তখন একটি বড় জনসমাবেশ চলছে। সেখানে উপস্থিত লোকজন নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছিলেন।
এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানজুড়ে জঙ্গি সহিংসতা বাড়তে থাকা অবস্থায় এই হামলার ঘটনা ঘটল। ডনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত ঘটনায় ১৫৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন