০২:২৯ এম
ইবনু আবি মুলায়কাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, দুজন নারী একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। এর মধ্যে হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপর একজনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে।
বিষয়টি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর কাছে পেশ করা হলে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি শুধু দাবির ওপর ভিত্তি করে মানুষের দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা কোনোভাবেই থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদীদের আল্লাহর নামে শপথ করাও এবং এ আয়াত (আলে ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াত) তার সম্মুখে পাঠ করো।
আরও পড়ুন: পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা
এরপর তারা তাকে শপথ করানোর পর সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু আব্বাস (রা.) বললেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শপথ বিবাদীকে করতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৫২)।
হাদিসে উদ্ধৃত আয়াতটি হলো- ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে চাইবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)।
হাদিসের শিক্ষা
উল্লিখিত হাদিসের আলোকে প্রাজ্ঞ আলেমরা কয়েকটি শিক্ষা ও বিধান বর্ণনা করেন। যা হলো-
আরও পড়ুন: রেলে ডিউটি কার্ড জালিয়াতি, কোটি টাকার টিকিট কালোবাজারে বিক্রি
১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার রক্ষা করা আবশ্যক।
২. অভিযোগ অন্যায় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।
৩. যথাযথভাবে অনুসন্ধান করার পর বিচারক রায় দেবেন। কেবল অভিযোগ শুনেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না।
৪. বিচার ও সালিসের জন্য প্রাজ্ঞ লোকদের বেছে নেওয়া আবশ্যক। যেভাবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার অফিসার্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত
৫. হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, নারীদ্বয় পৃথক ঘরে কাজ করছিল। সুতরাং ইসলামী সমাজে নারীর কর্মক্ষেত্র পৃথক হবে। যেখানে নারী-পুরুষের মিশ্রণ নেই এবং পরিবেশ নিরাপদ সেখানে নারী কাজ করতে পারে।
৬. শুধু পার্থিব শাস্তির ভয় নয়, বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির ভেতর আল্লাহভীতি জাগিয়ে তোলাও প্রয়োজন।
৭. শরিয়তে শপথ দাবি প্রমাণের একটি মাধ্যম। শর্ত হলো শপথকারী মিথ্যাবাদী হবে না।
৮. আল্লাহর অবাধ্য হওয়া তার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল। কেননা রুহের জগতে সবাই আল্লাহর আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল।
আরও পড়ুন: পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব সোমবার উপস্থাপন করবে শ্রমিকপক্ষ
৯. মিথ্যা শপথের প্রতিবিধান হলো তাওবা ও কাফফারা প্রদান করা।
১০. তাওবা মানুষকে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়। গুনাহের পর তাওবা না করলে পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন