০৭:৪৪ পি.এম
নওগাঁ, ২৩ আগষ্ট, ২০২৬ : সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ রোববার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসী এবং রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে স্যালাইন না দেওয়ার জন্য এবং বাইর থেকে রোগীকে স্যালাইন কিনে আনানোর ঘটনায় রোগীকে টাকা ফেরত দেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
স্বাস্থ्यमন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের তীব্র সংকট দূর করার জন্য আড়াই হাজার নার্স এবং আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ মোট প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে স্বাস্থ্যখাতে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছিল না। বর্তমান সরকার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডায়ালাইসিস সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে বিশেষ করে ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক ৩ শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রাখবে। এছাড়া, আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাব সমৃদ্ধ নতুন ৯ তলা ভবন হবে, এমনটি জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো ও আধুনিকায়নে উপজেলা পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি (ডিপ্রোজেক্ট প্রোফাইল) অনুমোদন ও টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতিদের চিকিৎসার জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য আলাদা ২০টি বিশেষ শয্যা রাখা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘জনবল সংকট’ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী জানান, জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সকল আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম রোধ করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, নিবন্ধনের শর্ত চুর্মাণ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ডিসি-সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পরিসরে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এসময় নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন