মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
১১:৫৪ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সরকারি রাস্তা ও জায়গা থেকে অবাধে লক্ষ লক্ষ টাকার মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার উৎসব চলছে। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সরকারি গাছ চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। নামমাত্র অভিযোগের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার আগরপুর - ভাগলপুর রাস্তার রামদী বড়চর ফিডমিল সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় হেলাল মুন্সির জমির সীমানা ঘেঁষে থাকা রাস্তা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক লক্ষ টাকা মূল্যের কয়েকটি সরকারি গাছ কেটে মাঠিতে ফেলে রাখা হচ্ছে। এসময় কাটুরিয়াদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানান পার্শ্ববর্তী মনোহরপুর গ্রামের শহিদুল গাছগুলো কাটতে তাদেরকে পাটিয়েছেন। তবে এসব গাছ বিক্রির সাথে কারা জড়িত তা বলতে পারেনি তারা।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার ও কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনকে অবহিত করার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটতে ও নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতে উপজেলার গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাত্র ১০০ গজ দূরে সরকারি খাল ও রাস্তার পাশ থেকে একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ২০-২৫টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠে সদ্য বদলীকৃত গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাছ বিক্রির আনুমানিক ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ১৫ জানুয়ারি কুলিয়ারচর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৮টি গাছ চুরির একটি লিখিত আবেদন জমা দেন নাছিমা আক্তার। তবে স্থানীয়দের দাবি, সেই অভিযোগ থানায় মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড হয়নি এবং কোনো তদন্তও করা হয়নি। ওই কাগজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে শান্ত রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়। এর কিছুদিন পর একইভাবে আরও ৩টি গাছ বিক্রি করে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায়ও রহস্যজনক কারনে আইনি কোন পদক্ষেপ নেননি তারা।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে গত ২৪ থেকে ২৬ জুলাই একই স্থান থেকে আরও তিনটি মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ কাটার স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের পাঠালেও অজ্ঞাত কারণে চিহ্নিত অপরাধীদের নাম বাদ দিয়ে গত ২৬ জুলাই পুনরায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে দায়সারা অভিযোগ দেন নাছিমা আক্তার। গাছ কাটার ধারণকৃত ভিডিওতে শুনা গেছে কাটুরিয়ারা স্পষ্ট বলেছেন, মাসুদ নামে জৈনক এক ব্যক্তি তাদেরকে গাছ কাটতে পাঠিয়েছেন। তাই তারা গাছ কাটছেন।
গাছ কাটার সময় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর প্রথমে গাছগুলো কাটা বন্ধ করা হলেও এর কয়েকদিনপর অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে গাছগুলো নিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারনে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, "সম্প্রতি বদলীকৃত গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা
নাছিমা আক্তার তার লিখিত অভিযোগে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি। পুলিশ আসামিদের নাম দিতে বললেও বাদী তা দেননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে গত ১৬-১৭ নভেম্বর উপজেলার বাজরা মাছিমপুর এলাকায় সরকারি রাস্তা ও ঈদগাহ মাঠ থেকে শতবর্ষী জাম, আম ও রেন্টি গাছ কেটে এক লাখ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৭ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এলাকাবাসী। অভিযোগ দাখিলের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছ জব্দ করে স্থানীয় সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুম এর জিম্মায় রেখে যান।
অভিযোগকারীরা জানান, বাজরা মাছিমপুর খেলার মাঠের পাশদিয়ে যাওয়া পুরনো সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তায় ও ঈদগাহ মাঠে রোপিত শতবর্ষী ১টি রেন্টি গাছ, ১টি আম গাছ, ১টি জাম গাছ কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রাস্তা সংস্কারের নামে মাছিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম লিটন, নুরুল মনছুর টেনাম ও তানভীর আহম্মেদ গংরা গাছগুলো বিক্রি করে দেয়। তিনটি গাছের আনুমানিক মূল্য দুই লক্ষ টাকা হবে। গাছ বিক্রির পর গাছ ক্রয়কারী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে গাছ ব্যবসায়ী মো. ফুল মিয়া (৪৫) গাছগুলো কেটে নেওয়ার সময় সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাছ কাটতে ও নিয়ে যেতে বাধা দেয়।
এব্যাপারে মাছিমপুর গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম লিটন (৫০) সহ গাছ বিক্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা গাছ বিক্রি করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের গ্রামবাসীর যাতায়াতের পূর্বের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায়, নিরুপায় হয়ে বাজরা মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি ব্যবহারে উপযোগী করতে ও সরকারি ভাবে রাস্তা সংস্কারের জন্য একটি প্রজেক্ট পেতে রাস্তটি দৃশ্যমান করার প্রয়োজন হয়। সরকারি রেকর্ডভূক্ত ওই রাস্তা নির্মানের জন্য এলাকার মুরুব্বিদের সাথে পরামর্শ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে অবগত করে রাস্তার উপর থাকা একটি জাম গাছ ও ঈদগাহের সীমানায় থাকা একটি রেন্ট্রি গাছ ও একটি আম গাছ ১লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রি করি। পরে প্রশাসনের নির্দেশে গাছ কাটা ও নেওয়া বন্ধ রেখেছি।
এ ঘটনায় তারা তাদের ভুল স্বীকার করেন।
এছাড়াও গত ৭ ও ৮ মে বাজরা বাসস্ট্যান্ড হতে কামালপুর যাওয়ার রাস্তার মোড় থেকে একটি মূল্যবান রেনটি গাছ আশি শতাংশ কাটার পর স্থানীয়দের বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক পৌর কমিশনার শহিদ মিয়া এ গাছটি কাটাচ্ছিলেন। শহিদ মিয়া গাছটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, এ গাছটি তাদের সীমানায় তারা নিজরাই রোপন করেছিলেন। গাছের সীমানা ঘেষে যানবাহন যাতায়াতে ও দোকানদারদের সমস্যা হওয়ার কারনে তিনি গাছটি কাটাচ্ছিলেন।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকেরা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তার শুধু বদলিই সমাধান হতে পারে না। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত কর্মকর্তা ও মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অপর দিকে অন্যান্য সরকারি রাস্তা ও জায়গা থেকে যারা নিয়মবহির্ভূত ভাবে গাছ কেটে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসব বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার জানান, "নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি থেকে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কাজ চলছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা, ইট দিয়ে আঘাত করা, কক্ষে আটকে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি ছাত্রাবাসের যৌথ বাথরুম পরিষ্কার করার প্রসঙ্গ নিয়ে ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত হাসানুজ্জামানকে (লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের বাসিন্দা) গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন মেহেরচণ্ডী পূর্বপাড়ার ‘শুভ ভিলা’ নামে একটি বেসরকারি ছাত্রাবাসে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম লেবানন বম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ওই ছাত্রাবাসের নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকেন।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাথরুম অপরিষ্কার রাখা নিয়ে হাসানুজ্জামানের সঙ্গে লেবানন বম ও অন্য একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক্ষেত্রে হাসানুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে লেবাননের কক্ষে গিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং হঠাৎ করেই এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। লেবানন তাকে শান্ত করতে গেলে হাসানুজ্জামান তার গলার নালি চেপে ধরেন। প্রাণ বাঁচাতে লেবানন নিজেকে ছাড়িয়ে নিলে, হাসানুজ্জামান তাকে ইট দিয়ে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে জখম করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এদিকে, লেবানন যখন চিৎকার শুরু করেন, তখন অভিযুক্ত যুবক কক্ষের বাইরে থেকে দরজার হ্যাজবল লাগিয়ে তাকে ভেতরে আটকে রেখে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে রাবি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, তিনি একজন বহিরাগত ভাড়াটিয়া। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব বিধিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্র মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৭০টি ব্যাটারি জব্দ এবং ২৫টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ ও ডেসকোর উদ্যোগে হাজী রোড, ঢাকা কমার্স কলেজ রোড, চিড়িয়াখানা রোড ও আল-কামাল হাউজিং এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও পিওএম ফোর্সের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এসময় ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য ব্যবহৃত ২৫টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শনাক্ত করে তা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মোট ৭০টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাজ্যে জুলাই মাসে জ্বালানি বিলের বৃদ্ধির কারণে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ীই মূল্যস্ফীতি বেড়ে চলেছে। সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ওএনএস) তাদের এক বিবৃতিতে জানায় যে, জুলাই মাস পর্যন্ত ১২ মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। জুন মাসে এই হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।
গত মাসে গৃহস্থালি জ্বালানি বিলের সীমা ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক কারণ হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে এই মূল্যসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ওএনএস একে ‘প্রায় চার বছরের মধ্যে গ্যাসের দামের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি’ বলে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম চূড়ান্তভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর চাপ লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি গৃহস্থালির বিদ্যুতের দামে কর কমানো এবং বাসভাড়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানে অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতির প্রভাব এখনো দেশের অভ্যন্তরে দামের ওপর পড়ছে। তবে ব্রিটেনের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা ফিরিয়ে আনতে এবং এমন একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে আমাদের আরও কাজ করতে হবে, যেখানে ব্রিটেনজুড়ে সমৃদ্ধি আরও ন্যায্যভাবে ভাগ হবে।’
বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব আরও বেশি করে বিলের ওপর পড়বে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসানের কোনো চুক্তিরও তেমন লক্ষণ নেই।
মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে চললেও, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গত মাসে তার মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে।
কুইল্টার শেভিওটের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক জোনাথন রেমন্ড বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকালে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির মধ্যে মূল্যস্ফীতে নতুন করে উল্লম্ফনের আশঙ্কা করা হয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিকের অনেক দূরে রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এর সমাধানের সম্ভাবনা কম। ফলে অন্তত বছরের বাকি সময়জুড়ে দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একই সাথে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশের সাথে সম্পর্কযুক্ত, কারণ তিনি তাদের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার সাম্প্রতিক বার্তার ইতিবাচক জবাব দিয়েছেন কিম জং উন। মার্কিন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি আগামী নির্বাচনের আগেই কিমের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে চান। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটের মাঝে কিমের সঙ্গে এই সমঝোতা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে বলেও মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির মূল কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপে সিউলের অনাগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রতিশ্রুত বিনিয়োগে ধীরগতি। তাই যৌথ সামরিক মহড়া সীমিত করে ট্রাম্প কার্যত সিউলকে নিজের শর্ত মানতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে কড়া বার্তা দিলেন, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াকেও আবার আলোচনার টেবিলে আনার পথ তৈরি করলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ