০২:২৪ পি.এম
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া ক্যানোনিকো। সে সব সময় শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
লাস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘আমি কখনো আশা হারাইনি।’
তবে তার ২০ বছর বয়সী ভাই ও ৯১ বছর বয়সী ফুফু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ব্যাংক ধসের কারণে পদত্যাগ
গত বুধবার, দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে।
হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা আন্দ্রেয়া বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ার সময় তিনি নিজেকে বলেছেন, ‘আমি ঘুমিয়ে পড়ব।’
অন্যদিকে, আন্দ্রেয়া আরও জানায়, ‘আমি নিজেকে বলছিলাম, এখন আমি একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আছি। নিশ্চয়ই আবার ক্রমাগত কম্পন হবে। আমি শান্ত থাকব, উদ্বিগ্ন হব না।’
তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মিটার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় তিনি বসে থাকতে পেরেছিলেন। মোবাইল ফোন থাকার কারণে তিনি সময় জানতে পেরেছেন এবং কিছুটা আলো পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান মহড়া ‘এক্সারসাইজ কোপ সাউথ-২০২৬’ শেষ
আন্দ্রেয়া আরো জানান, তার চেয়ে কিছুটা ওপরে আটকে থাকা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের জানান যে নিচে আরও একজন জীবিত রয়েছেন।
আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আমার ওপরে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল, যেটি দিয়ে আমি ওপরে উঠতে পেরেছিলাম। এরপর উদ্ধারকারীরা যে পথ তৈরি করছিলেন সেখানে পৌঁছে ধীরে ধীরে ওপরে উঠেছি। তারা আমাকে টেনে তুললে আমি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’
এদিকে একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন ২৬ বছর বয়সী সাবেক খনি শ্রমিক মোইসেস ফারামায়া।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এখানে কেউ কি জীবিত আছেন?’
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সরকারি অফিসের সামনে ৩ পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, আতঙ্ক ছড়িয়েছে
মোইসেস জানান, তিনি এখন পর্যন্ত লা গুইরায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এবং ২২টি লাশ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে।
মোইসেস জানান, তিনি একজনের দেয়ালে আঁচড়ানোর শব্দ শুনতে পান। একজন আটকে ছিলেন, কিন্তু হাত নাড়াতে পারছিলেন। পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, তিনি শুধু একটি গাঁইতি ও একটি কোদাল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরান। বলিভার রাজ্যের এল কায়াও অঞ্চলের খনিতে ছয় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এই কাজে দক্ষ করে তুলেছে। এ কারণে উদ্ধারকাজে দমকল বাহিনী ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেন।
‘দ্য মোল’ নামে পরিচিত মোইসেস বলেন, তিনি প্রায় না খেয়েই এবং না ঘুমিয়েই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু
তিনি বলেন, ‘এই কাজ সহজ নয়। ধুলাবালি আর পচে যাওয়া লাশের গন্ধের মধ্যে কাজ করতে হয়। তারপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
অন্যদিকে, আন্দ্রেয়ার ভবনের সকলেই মারা গেছেন বলে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী রেস্তোরাঁ কর্মী আলেকজান্ডার গার্সিয়া জানান, তিনি দমকলকর্মীদের ‘কোড-১৪’ ঘোষণা করতে শুনেছিলেন, যার অর্থ ছিল সেখানে আর কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ও স্পেনের প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর জীবিত মানুষের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা তার দুই ভাইকে জীবিত উদ্ধারের আশা আবারও জেগে ওঠে।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যা হলেই বন্ধ চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের জন্য সংকট পরিবহনেও
গার্সিয়া বলেন, ‘সবাই তাদের আওয়াজ শুনেছিল, সবাই।’
তার মা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেও পরে মারা যান।
রাত নামার পরও টর্চের আলোয় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালের ভারী বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকর্মীদের মনোবলেও প্রভাব পড়ে।
ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
মঙ্গলবারের মধ্যে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন