আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০১:৪৬ পি.এম
“তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে রবিবার মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সাজানো হয়েছে শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে সনদপত্র এবং ক্রেস্ট বিতরণ অনুষ্ঠান।
মধুপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি নঈম উদ্দীন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উজ্জ্বল বৈরাগীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা সুমি, একাডেমিক সুপার ভাইজার মহি উদ্দিন আহমেদ, ডা. খ. সায়ফুজ্জামান, ডা. রেজুয়ানা সুলতানা প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিগন শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
অলোচনা সভায় বক্তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বক্তারা বলেন, সুশিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীই দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
, নিহতদের মধ্যে তিনজন একই গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল তারা ছিলেন সুস্থ ও স্বাভাবিক। সবার মুখে ছিল আগামী দিনের স্বপ্ন। কিন্তু আজ তারা পরিণত হয়েছেন লাশে।
মহাসড়কে একটি ডিমবাহী ট্রাক উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদি গ্রামের কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে, তারা জানতেন না, সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পরিণতি।
ডিমবাহী ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন এবং আহত হন অনেকে। নিহতদের মধ্যে তিনজনই সুয়াদি গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা গ্রহণ করেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সুয়াদি গ্রামে তাদের জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। গ্রাম ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ ও স্বজনেরা জানাজায় উপস্থিত হন। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলও সেখানে উপস্থিত হন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষ তাদের অঞ্চলের তিন সন্তানের বিদায় জানান।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, নিহত পাঁচজন হলেন ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদি গ্রামের জয়নাল (৩০), ওবায়দুল শেখ (৪৫), আরিফ মিয়া (৪২), নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের হাফিজুল মাতুব্বর (২৮) এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার রেকারগাড়ির চালকের সহযোগী বরগুনা সদর উপজেলার তুলশিবাড়িয়া গ্রামের জালাল খান (৩৬)।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আকস্মিক ও বেদনাদায়ক এই দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’
এটি উল্লেখ্য যে, ভাঙ্গায় বাসচাপায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে যে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতে কাজ করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হামলা চালানোর পরে প্রতিবেশী বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে শোনা বিকট শব্দটি ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার চলমান অভিযানের ফলে হচ্ছে।
এদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, ‘গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। এটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
রাষ্ট্রপতি আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার জনসংখ্যার আকারের উপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমবাজার, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দেয়।’
এছাড়া তিনি ভারসাম্যপূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিত করতে এবং এর গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘তিনি ১৯৭৬ সালে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন ও ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করেন, যা তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি কর্মসূচির অন্যতম দফা ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই প্রক্রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেন জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের লক্ষ্যে।
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন, যার ফলে বাল্যবিবাহ কমে যায় এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবার পরিকল্পনার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ। আমাদের জনসংখ্যার চাপ সীমিত ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর তুলনায় অত্যন্ত বেশি। দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি, সীমিত বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
এমন বাস্তবতায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র পরিবার পরিকল্পনা বা স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এবং এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। অর্থনীতির ভাষায় যা জনমিতিক লভ্যাংশ।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং চীনের মতো বহু দেশ এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদাহরণ স্থাপন করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই আজকের তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে এ year's বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’, যা আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে মিল রেখে চলেছে।’
তিনি এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে তরুণদের বিভিন্ন দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব ও নৈতিকতা উন্নয়ন প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা তরুণদের দেশীয় এবং বৈশ্বিক উভয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যার বিশাল ভিত্তির কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করছে।
দ্বিতীয়ত, মোট প্রজনন হার গত দেড় দশক ধরে প্রায় দুই দশমিক তিন-এ স্থির রয়েছে। এই হারকে দুই এর কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ।
তৃতীয়ত, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।
চতুর্থত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিয়ের গড় বয়স বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম সামাজিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু নয়’ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং জনগণের অংশগ্রহণও অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সুযোগও আছে। আমি মনে করি, আজকের সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি রচনা করবে। পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসন এই ছয়টি ভিত্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।
রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’
এর আগে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য খাতের তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নকআউটে শেষবার ইংল্যান্ডকে হাত দিয়ে গোল করে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এই বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্বকাপে সবশেষ, ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জয় এনে দিয়েছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। এরপর কেটে গেছে ২৪টি বছর। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে আলবিসেলেস্তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি ইংলিশদের।
অন্যদিকে, শেষ হচ্ছে অপেক্ষা। আগামী ১৬ জুলাই আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ২০০২ সালে গ্রুপ পর্বে খেললেও নকআউট পর্বে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল ১৯৮৬ সালে। সেই সময় ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২২ জুন ১৯৮৬ তারিখে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। এর পেছনে জড়িয়ে ছিল রাজনৈতিক ও আবেগীয় আবহ।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র চার বছর আগে (১৯৮২ সালে) ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের (ইংল্যান্ড) মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়েছিল। ফলে ফুটবল মাঠে দুই দলের মুখোমুখি হওয়াটা দুই দেশের মানুষের কাছে এক ভিন্ন মাত্রার মর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হলেও, দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা এমন দুটি গোল করেন, যেগুলি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ভিতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলবশত নিজেদের বক্সের দিকে ভাসিয়ে দেন ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিভ হজ।
ম্যারাডোনা এবং ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটন দুজনেই বলের দিকে লাফিয়ে ওঠেন। শিলটন ম্যারাডোনার চেয়ে উচ্চতায় অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও, ম্যারাডোনা চালাকি করে তার বাম হাত দিয়ে বলটি শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে জালে ঠেলে দেন। তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের ফাউলটি খেয়াল না করায় এটিকে বৈধ গোল হিসেবে ঘোষণা করেন।
ম্যাচের পর সেই গোল নিয়ে ম্যারাডোনা রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে গোল করা হয়েছিল।’ পরবর্তীতে এই গোলটি ইতিহাসে হ্যান্ড অব গড নামে পরিচিতি পায়। এরপর আরও একটি গোল জানিয়েছিল এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় পায় তারা। সেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
ফলে, প্রায় ৪০ বছর পর আবারও নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই ম্যাচের আগে আবারও আলোচনায় এসেছে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক গোলটি।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে ফলাফলের দিক থেকে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই ম্যাচ হচ্ছে ১৯৮৬ ও ১৯৯৮। এই দুই ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে দুই দলের আগের পাঁচ লড়াইয়ের ফলাফল
১৯৬২ (গ্রুপ পর্ব): ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা
১৯৬৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা
১৯৮৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড— ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচ
১৯৯৮ (শেষ ষোল): আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার ৪-৩ জয়)—মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ গোল এবং ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডে আলোচিত ম্যাচ।
২০০২ (গ্রুপ পর্ব): ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা— ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে জয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ