০৭:২৮ পি.এম
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পুরো দেশে যেভাবে হচ্ছে সেভাবেই যশোরেও দফায় দফায় ভারী ও হালকা বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টির ফলে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এর ফলে রাস্তা-ঘাটও তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২০ ঘণ্টায় যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টির পরিমাণ ছিল। ছুটির দিনে এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের খড়কি, বেজপাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, আরবপুর, পালবাড়ি ও বকচর এলাকাগুলোতে বৃষ্টি নামলেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ঘণ্টা ঘণ্টা ধরে পানি জমে থাকার ফলে স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান
খড়কি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান ও রাশিদুল ইসলাম জানালেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। যদিও ড্রেন রয়েছে, কিন্তু পানি ঠিকভাবে নামছে না।
শংকরপুর এলাকার তাহমিনা খাতুন বললেন, ঘরের সামনে হাঁটুপানি জমে গেছে। বাইরে বের হওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বাইরে যাওয়া খুব কষ্টের।
পৌরসভার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১.৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৯.২২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৬৯.২৫ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনির ড্রেন, পাঁচ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন এবং ১২৮.৪৯ কিলোমিটার কাঁচা ড্রেন রয়েছে। অর্থাৎ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অর্ধেকের বেশি অংশ কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি করছে।
এছাড়া, পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাত কিলোমিটার নতুন আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করতে ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা খরচ হবে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় বিরোধীয় জমিতে রাতের আঁধারে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী (পানি ও পয় নিস্কাশন) এস এম কামাল হোসেন বললেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই শহরের অধিকাংশ ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের অসচেতনতার কারণে এসব ড্রেন আবার প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্যে ভরে গেছে। তাছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেও পানি জমে যাচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনে সময় লাগছে। আশা করা যাচ্ছে নতুন করে বৃষ্টিপাত না হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহরের রাস্তাঘাটের পানি নেমে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন