১০:৫৭ পি.এম
ফেনীর ফুলগাজীর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী আবদুল বাকের হোসেনের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে ফুলগাজী যুব উন্নয়ন কার্যালয় সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসার নিচতলায় থেকে এসব মালামালগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুল বাকেরের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ফুলগাজীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে, তাই তিনি বাসা পরিবর্তন করেননি। অভিযুক্ত আবদুল বাকের (৪৫) নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ানই ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আমিনউল্লাহর ছেলে।
আরও পড়ুন: মাইশার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক লরি চালককে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য থেকে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া বাসা থেকে ১০ বস্তা ত্রাণসামগ্রী এবং তিন বস্তা শুকনা খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালগুলোর মধ্যে ৩০০ কেজি চাল, ৩২ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ কেজি লবণ, ৩০ কেজি চিনি, ৩৩ কেজি মসুর ডাল, ৩০ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ২০০ গ্রাম) হলুদের গুঁড়া, ৩২ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) মরিচের গুঁড়া এবং ৩১ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) ধনিয়ার গুঁড়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব ত্রাণসামগ্রী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত ছিল। উদ্ধার হওয়া ত্রাণের প্যাকেটের গায়ে '২০২৪-২৫ অর্থবছর' লেখা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবদুল বাকের গত বছরের ১০ জুলাই ফুলগাজী উপজেলায় যোগদান করেন। পরে চলতি বছরের ২২ জুলাই তিনি ফুলগাজী থেকে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় বদলি হন। বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর ভাড়া বাসাটি পরিবর্তন করেননি বলেই জানা গেছে।
এদিকে, ২০২৫ সালে ফুলগাজীতে ভয়াবহ বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এসব ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের। সরকারি ত্রাণের মালামাল একজন কর্মচারীর ভাড়া বাসায় কীভাবে এলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারকালে ৪৯২ বস্তা ইউরিয়া ও ৮ পাচারকারী আটক
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবদুল বাকেরকে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ. দা.) রাজীব আহমেদ বলেন, 'বাকের বর্তমানে সন্দ্বীপে কর্মরত। সন্তানদের পড়ালেখার কারণে বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর বাসা পরিবর্তন করেননি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।'
ফুলগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, 'জব্দ হওয়া মালামাল থানা হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন।'
এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, 'স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার মালামালের প্যাকেটে থাকা লেখা অনুযায়ী, এগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকারি ত্রাণ। ওই ব্যক্তি ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মাসে বদলি হয়ে বর্তমানে নোয়াখালীর সন্দ্বীপ উপজেলায় কর্মরত বলে জানতে পেরেছি।'
আরও পড়ুন: প্রজন্মকে অপরাধী নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: ফখর উদ্দিন এমপি
তিনি আরও বলেন, 'উদ্ধার করা মালামালগুলো বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন