ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাকিস্তানে ৮ জন নিরাপত্তাকর্মীকে অপহরণ, নিহত ৬


পাকিস্তানে ৮ জন নিরাপত্তাকর্মীকে অপহরণ, নিহত ৬

ছবি : রয়টার্স।

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি চেকপয়েন্টে হামলা চালিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ছয়জন আধাসামরিক সদস্যকে হত্যা করেছে এবং আরো আটজনকে অপহরণ করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

এ হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। গোষ্ঠীটির কিছু সদস্য সোমবার পেশোয়ার শহরের একটি চেকপয়েন্টে আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং মর্টার শেল ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: মহেশখালীতে তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের

পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির (এফসি) ঘটনা উল্লেখ করে দ্বিতীয় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘সশস্ত্র যোদ্ধাদের চালানো একটি হামলায় এফসির ছয় সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং আরো চারজন আহত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, তার দল আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সম্মুখভাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

দ্বিতীয় সূত্র জানায়, ‘জঙ্গিরা এফসির আটজন সদস্যকে অপহরণ করে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে।’

মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি। টিটিপি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তিদের ছবি পোস্ট করে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পাকিস্তান আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তি এলাকাগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়ছে। ইসলামাবাদ আফগানিস্তানকে যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, তবে কাবুলের আফগান তালেবান সরকার এ অভিযোগগুলো বারবার অস্বীকার করে আসছে।

আরও পড়ুন: ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদির পতন হবে : অভিজিৎ দীপকে

গত মাসে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় একাধিক হামলায় সশস্ত্র যোদ্ধারা ২৬টি মানুষের প্রাণ নিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে।

এই কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন আর শুধুই কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সীমান্তে সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও আফগানিস্তানের ভেতরে ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়িয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন, ইউএনওর দাবি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঠবাড়িয়া পিরোজপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


মঠবাড়িয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন, ইউএনওর দাবি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানি

মঠবাড়িয়ায় আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছেন, যেখানে উপজেলা বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত বর্জন করা হয়। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে আইনজীবীরা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত বর্জন করেন। পরে তারা আইনজীবী সমিতির সভা কক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। এ সময় আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম সহ মোট ১৮ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

বর্জনের কারণ হিসেবে আইনজীবীরা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চলাকালীন সময়ে আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ, বিচারকের স্বেচ্ছাচারিতা, নির্ধারিত মামলার ক্ষেত্রে আইনানুগ নোটিশ ছাড়াই মামলা খারিজ করা, অকারণে সিনিয়র আইনজীবীদের চেম্বার থেকে ডেকে নেওয়া এবং আদেশের সইমহরী প্রদানে গড়িমসি সহ বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

তবে এসবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আকলিমা আক্তার সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আইনজীবীদের দাবি যে তার আচরণ অশোভনীয়, তা পুরোপুরি হয়রানি মূলক এবং মিথ্যা। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল কোর্টের কাগজপত্রে যে আইনজীবীর সীল পাওয়া যাবে তাকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। যদি আইনজীবী সিনিয়র হন তবে জুনিয়রদের পাঠানো হতে পারে। তিনি সকল অভিযোগ ডিনাই করেছেন এবং বলেন, প্রতিবেদনগুলি নারাজি দিয়ে থাকে। তারা যদি চান, তাহলে প্রতিবেশীও আসতে পারে। তবে তারা এখানে সুযোগ নেওয়ার জন্য এ ধরনের কাজ করছেন।

এছাড়া, কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পিছনের মামলাগুলো সঠিক নিয়ম মেনে নিষ্পত্তি করা হবে। আদেশের সইমহরী আবেদনের মাধ্যমেই জেলা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু আইনজীবীরা তার কাছ থেকে নিতে চান, যা নিয়মবহির্ভূত। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আরও যোগ করেছেন যে, সরকারি খাল খননের সময় কিছু আইনজীবীর খালের জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে, তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি করার জন্য তারা এ আচরণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইরানের পতাকা রাজনীতি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইরানের পতাকা রাজনীতি’

‘ইরান দল খেলছে না, খেলছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দল।’ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে ফুটবল ও রাজনীতিকে আলাদা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রুজবেহ ফারাহানিপানি। ২০০০ সালে রাজনৈতিক কারণে ইরান থেকে পালিয়ে আসা এই অধিকারকর্মী বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের বৃহৎ ইরানি কমিউনিটির একজন পরিচিত মুখ। তার জন্য এই বিরোধিতা ব্যক্তিগত কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান সরকারের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নে তিনি হারিয়েছেন তার মা ও স্বজনদের। তবে এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বা সংঘাতের বদলে একটি ছায়াযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

চলতি বিশ্বকাপে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে ইরানের ম্যাচ থাকায় স্থানীয় ইরানি-আমেরিকান প্রবাসীদের মধ্যে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। একদিকে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে নিজেদের দলের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, অন্যদিকে দেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ; এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। বিশেষ করে ১৫ জুন সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্টেডিয়ামের বাইরেও তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে রয়েছে সবুজ, সাদা ও লাল রঙের পতাকা, যার মাঝে সিংহ ও সূর্যের প্রতীক প্রদর্শিত। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগে তৈরি এই পতাকাটি বর্তমানে প্রবাসীদের কাছে প্রতিরোধের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বর্তমান সরকারের পতাকায় থাকা ইসলামিক প্রতীক তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি একটি দমনকারী সরকারের পরিচায়ক। অতি সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের বৈধতা অর্জনের জন্য তেহরান ফুটবলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

তবে ফিফা এই সিংহ ও সূর্য খচিত পতাকাটিকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত করে স্টেডিয়ামের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ফিফা মানুষের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অন্যদিকে, ইরান ফুটবল ফেডারেশন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য তাদের বর্তমান অফিশিয়াল পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছে।

খেলোয়াড়রা রাজনীতিকে ফুটবল থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানালেও, সাধারণ ইরানি প্রবাসীদের পক্ষে এটি মানা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে মন্তব্য করছেন যে, মাঠে লড়াই করা খেলোয়াড়রা তাদের সন্তানদের মতো, কিন্তু বর্তমান সরকারের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর তারা আর শুধু খেলোয়াড় থাকছেন না, বরং সরকারের প্রচারযন্ত্রের অংশ হয়ে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও মা হচ্ছেন দীপিকা, নজর কাড়ল বেবিবাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


আবারও মা হচ্ছেন দীপিকা, নজর কাড়ল বেবিবাম্প

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। কয়েক মাস আগে তিনি স্বামী রণ্যবীর সিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সুখবর জানান, যেখানে নতুন অতিথির আগমনের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

সেই ঘোষণার পর এবার প্রথমবারের মতো দীপিকা জনসমক্ষে এসেছেন। প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তার স্পষ্ট বেবিবাম্প।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিংকে নতুন বাড়ির বারান্দায় একসঙ্গে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবিগুলো ছড়িয়েছে, তাতে দীপিকাকে সাদা রঙের কো-অর্ড পোশাক পরে দেখা যায়।

রণবীর সিং পাশে ছিলেন, যিনি লাল টি-শার্ট, কালো প্যান্ট ও ক্যাপ পরে একদম স্বাভাবিক লুকে ধরা দেন।

ছবিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পরই ভক্তদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, মাতৃত্বের বিশেষ উজ্জ্বলতা দীপিকার মুখে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

কেউ বলেছেন, ‘বেবিবাম্পটি দারুণ লাগছে।’ আবার অনেকেই তাদের পরিবারের নতুন সদস্যকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে দীপিকা এবং রণবীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি যৌথ পোস্টের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানান।

সেই পোস্টে দেখা যায়, তাদের মেয়ে দুয়া একটি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট হাতে ধরে আছে। কিটটিতে ইতিবাচক ফলাফলের দুটি গোলাপি দাগ দেখা গেছে।

ছবিতে দুয়ার হাত আলতো করে ধরে ছিলেন দীপিকা ও রণবীর।

পোস্টের ক্যাপশনে কোনো বার্তা না লিখে, অভিনেত্রী শুধু একটি ‘ইভিল আই’ ইমোজি ব্যবহার করেছিলেন।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে ইতালিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান দুয়া জন্ম নেয়। জন্মের পর কয়েক মাস দীপিকা ও রণবীর তাদের মেয়েকে জনসমক্ষে আনেননি।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের দীপাবলিতে প্রথমবারের মতো তাদের মেয়ের পরিচয় ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তারা। বর্তমানে দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকা এই দম্পতির প্রতি ভক্তদের আগ্রহও অত্যন্ত তুঙ্গে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের আগে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করতে যাচ্ছে মেক্সিকো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


বিশ্বকাপের আগে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করতে যাচ্ছে মেক্সিকো

বিশ্বকাপের জন্য লাখ লাখ সমর্থককে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মেক্সিকো। দেশটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ যৌনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক হিসেবে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসছে মেক্সিকো। উত্তর আমেরিকার দেশটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের তৃতীয়বারের আয়োজক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সঙ্গে সহযোগী আয়োজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সেইজন্য, মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ যৌনবাহিত রোগ (এসটিআই) প্রতিরোধের লক্ষ্যে ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন (৬০ থেকে ৭০ লাখ) কনডম বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিটি তিনটি আয়োজক শহর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেরেতে পরিচালিত হবে, যেখানে লাখো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, কনডম বিতরণের পাশাপাশি সচেতনতামূলক তথ্যপত্রও প্রদান করা হবে, যাতে এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ সবার জন্য পুরনো এক লক্ষ্য। যেখানে মেক্সিকো ৭০ লাখ পর্যন্ত কনডম বিতরণের জন্য চিন্তাভাবনা করছে, সেখানে কানাডার টরন্টো ইতোমধ্যে বিশ্বকাপভিত্তিক নিরাপদ যৌনতা প্রচারণা শুরু করেছে; যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আয়োজক শহর এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো কর্মসূচির ঘোষণা করেনি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়েছে, '২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে আমরা ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন কনডম বিতরণের কথা বিবেচনা করছি।' এই কর্মসূচির আওতায় দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে পারে এমন স্থানে বিশেষ বুথও স্থাপন করা হবে। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য পরিচালনা কমিটির সদস্য রোক্সানা ত্রেহো এল সোল দে মেক্সিকোকে বলেছেন, 'আমরা বিমানবন্দর এবং আগমনের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ এলাকা স্থাপন শুরু করেছি, যেখানে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা দর্শনার্থীরা কনডম ও প্রতিরোধমূলক তথ্যপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। কারণ তথ্য ছাড়া কনডম দেওয়া মানে যেন কারও পকেটে শুধু একটি মিষ্টি রেখে দেওয়া।' এই প্রচারণা বিশ্বকাপ ভেন্যুর আশপাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং সমর্থকদের জমায়েত করার স্থানগুলোতেও তথ্যকেন্দ্র ও বিনামূল্যে কনডম বিতরণের বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল, বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরের বিশাল প্রচারকে কাজে লাগিয়ে যৌনস্বাস্থ্য, প্রতিরোধ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ সম্পর্কে বার্তা তুলে ধরা। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বারবার জোর দিয়ে বলেছে, যৌনবাহিত রোগ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধে কনডম এখনও সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যখন আয়োজক শহরগুলো বিশ্বকাপের জন্য পরিবহন, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরও নিজেদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর সেই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে কনডম। বিশ্বকাপে কি খেলোয়াড়দেরও কনডম বিতরণ করা হয়? বিশ্বকাপের অলিম্পিক গেমসের মতো কনডম বিতরণের ইতিহাস নেই। এর অন্যতম কারণ হল ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির পার্থক্য। অলিম্পিকে খেলোয়াড়রা সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটস ভিলেজে একসাথে অবস্থান করেন। কিন্তু বিশ্বকাপে বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আলাদা আলাদা হোটেল এবং ট্রেনিং ক্যাম্পে অবস্থান করেন। গত চার দশক ধরে অলিম্পিকে কনডম বিতরণ একটি নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকের আয়োজকরা প্রায় ৩ লাখ কনডম সরবরাহ করেছিলেন। এই প্রথার সূচনা হয় ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক থেকে, যার উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ যৌনতার সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশ্বকাপে অলিম্পিকের মতো কোনো কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটস ভিলেজ নেই, তাই ফিফা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে না। বরং জনস্বাস্থ্য উদ্যোগগুলো মূলত টুর্নামেন্টে আগত লাখো সমর্থককে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়, যেখানে আয়োজক দেশ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সচেতনতামূলক প্রচারণা ও বিনামূল্যে কনডম বিতরণের ব্যবস্থা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%