প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : দীর্ঘ ১৯ মাসের কারাবন্দি জীবন কাটানোর পর আজ শুক্রবার তানজানিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা তুন্দু লিসুর ভাগ্য নির্ধারণের সময় এসেছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
এই মামলায় যদি লিসুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। মামলাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে লিসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সরকার বিরোধী রাজনীতিক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে নির্বাচনের সময় দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিরোধী দল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ৫১৮ বলে জানিয়েছে তানজানিয়া সরকার।
লিসুর মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী দারুস সালামে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এএফপির এক সাংবাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, রায় ঘোষণার ফলে নতুন করে অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
লিসুর দল চাদেমা রায় ঘোষণার দিন বিপুলসংখ্যক সমর্থককে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, বুধবার এক বিবৃতিতে তানজানিয়া পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, কিছু ব্যক্তি অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠী দারুস সালামে যাওয়ার জন্য লোকজনকে সংগঠিত করছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
লিসুর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমালোচনা এসেছে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন এবং অবিলম্বে লিসুর মুক্তি দাবি করেছেন।
তানজানিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগের চেষ্টা বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করে।’
তানজানিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম ট্রাচম্যানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি তুন্দু লিসুর বিচারপ্রক্রিয়ার ফলাফল এবং দেশটির আইনের শাসনের ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
মূল ভূখণ্ড তানজানিয়ার ইতিহাসে এটি তৃতীয় কোনো আলোচিত রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে এ ধরনের আরও দুটি মামলা হয়েছিল।
সেসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারেকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
বর্তমান মামলায় লিসুর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
তানজানিয়ার নাগরিক সমাজের সংগঠন টওয়েজা ইস্ট আফ্রিকার পরিচালক আনা বওয়ানা এএফপিকে বলেছেন, ‘সবার মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে লিসুকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে—এখন মূল প্রশ্ন হলো, তাঁকে কী শাস্তি দেওয়া হবে।’
৫৮ বছর বয়সী লিসু এর আগে সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এবারই প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৭ সালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। ওই হামলায় তার শরীরে ১৬টি গুলি লাগে। পরে তাকে প্রায় ২০টি অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
লিসুর বিশ্বাস, ওই হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিল।
মামলার শেষ শুনানিতে তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আদালতকে নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান লিসু। আইনজীবী ছাড়াই নিজেই নিজের পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি।
বিচারকদের উদ্দেশে লিসু বলেন, ‘আমার আশা, আপনারা আপনাদের বিচারিক শপথের মর্যাদা রক্ষা করে কোনো পক্ষপাত ছাড়াই সাহসিকতা ও মর্যাদার সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। ইতিহাসের কাছে আপনাদের এই দায়িত্বের ভার অনেক বড়।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন