প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা টিম। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সহযোগিতায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় থানা শিশু পার্কে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বনভোজন এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণ করা হয়।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বোতল দিন, গাছ নিন’ কর্মসূচি। এতে প্লাস্টিকের বোতল জমা দিয়ে গাছ সংগ্রহ করেন দর্শনার্থীরা। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে প্লাস্টিকের বোতলের পাশাপাশি চিপস ও চকলেটের প্যাকেট জমা দিয়েও গাছ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা কমানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। প্লাস্টিকের বোতল ও বিভিন্ন প্যাকেট পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিবাকর বিশ্বাস।
এ সময় দিবাকর বিশ্বাস বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অন্যতম শর্ত। শুধু প্রশাসন বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষে এককভাবে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রত্যেকে নিজের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকলে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বিডি ক্লিনের এ ধরনের উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সমন্বয়ক মেহেদী হসান বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়, এটি প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত। প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট কিংবা চকলেটের প্যাকেট যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব ভাণ্ডারিয়া গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বনভোজনের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন