০৫:২৩ পি.এম
বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিক বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর ফলে শুধু বগুড়া নয়, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরের বর্তমান চার হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা। সহ এটি অন্তর্ভুক্ত আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, নতুন ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা, উন্নত ড্রেনেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি, দুগ্ধজাত পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের অন্য অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের বাজার সম্প্রসারণসহ রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
বিমানবন্দরটি চালু হলে বগুড়ার পাশাপাশি জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা কম সময়ে বড় বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। একইসঙ্গে বিমানবন্দর ঘিরে গড়ে উঠতে পারে লজিস্টিকস, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবসা। ফলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বগুড়া বিমানবন্দরের রানওয়ে চার হাজার ৫০০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফুট করা হবে। নির্মাণ করা হবে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল ভবন। এই পরিকল্পনার মধ্যে নতুন ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা এবং উন্নত ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের মাস্টারপ্ল্যান, রানওয়ে ও পেভমেন্ট ডিজাইন, টার্মিনাল ভবনের নকশা এবং কারিগরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বিমানবন্দরটির অবস্থান রয়েছে। মূলত এটি একটি কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপর ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করে রানওয়ে, অফিস ভবন, আবাসিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর থেকে এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ভূ-প্রকৌশল জরিপ, মাটি পরীক্ষা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক, পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, 'বগুড়া বিমানবন্দর শুধু একটি জেলার প্রকল্প নয়, এটি পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমি আশা করছি, খুব দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।'
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এই বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।'
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন