০৮:৪১ পি.এম
ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণঘাতী এ রোগ মোকাবিলায় দেশটির সরকার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মশার বংশবৃদ্ধির স্থান চিহ্নিত ও ধ্বংসের জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এ ইউনিটে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার
শ্রীলঙ্কায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ডেঙ্গুর কারণে প্রাণ গেছে অন্তত ২৯ জনের। তবে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় অনেক কম। ওই বছর দেশটিতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ সামরিক ইউনিট গঠনের পাশাপশি যাদের আঙিনায় মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে; তাদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করার জন্য আগামী বুধবার (২৪ জুন) দেশব্যাপী অভিযান শুরু করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু এবং মশা বাহিত অন্যান্য ভাইরাস আরও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে ছড়াচ্ছে।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে মাত্র এক দিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না
সরকারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো তা সামাল দিতে সক্ষম নাও হতে পারে।
কলম্বোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ইউনিটের প্রধান কপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের প্রবল চাপ তৈরি হয়ে গেছে। আমরা ২০১৭ সালে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তেমন কোনও অবস্থার পুনরাবৃত্তি চাই না। মৌসুমী বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং যত্রতত্র ফেলা বর্জ্য মশার দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি
আরও পড়ুন: জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন