০২:০৯ এম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ধারাবাহিক আন্দোলনের সর্বোচ্চ প্রতিফলন ঘটেছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কথা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে সবসময় অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা দেবে।
জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে 'আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল' শীর্ষক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টা থেকে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, "এই আলো শুধু সাময়িক অন্ধকার দূর করার জন্য নয়, এটি ভুবনভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, প্রজ্বলিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবার নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।"
তিনি বলেন, "জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শুভ সময়ে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।"

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, "এই আলোর প্রজ্বালন শুধু এক দিনের জন্য নয়। প্রতিদিন সব কটি জানালা খুলে রাখতে হবে, যেন কোনো অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী শক্তির আর কখনও আগমন ঘটতে না পারে। শহীদদের স্মৃতি শুধু একটি দিনের জন্য নয়, একটি মাসের জন্যও নয়; তাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিদিন জাগিয়ে রাখবে।"
তিনি বলেন, "আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো বুক চিতিয়ে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও গভীর।"
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, "ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে, কিন্তু তার অবশিষ্টাংশ এখনো সমাজের নানা জায়গায় রয়েছে। তারা দেশের মেগা প্রকল্প-মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতুর অর্থ পর্যন্ত লুট করেছে। তাই ছাত্রসমাজকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। ইতিহাস বলে, ছাত্রসমাজ কখনো ঘুমায় না।"
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "তারেক রহমানের কাজ দেখে মনে হচ্ছে আমরা সবাই জাতীয়তাবাদী। শুধু ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড নয়, আজ রেড সিগন্যালে যে গাড়িটি নিয়ম মেনে দাঁড়িয়ে যায়, সেটিও জাতীয়তাবাদের অংশ।"
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, "গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া হাজারো ছাত্র-জনতা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্মরণে আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি। প্রতিবছরই এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।"
তিনি বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে যারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না। ছাত্রদল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।"
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, "গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতনের পরও দেশের স্বার্থে আমরা কখনো আপস করিনি।"
তিনি আরও বলেন, "জুলাইকে কোনো ব্যবসার উপকরণ হতে দেওয়া হবে না। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বাংলাদেশ চলবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও সুশাসনের ভিত্তিতে। সবার আগে বাংলাদেশ- এই নীতিই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
গভীর রাত পর্যন্ত চলা মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে নিবেদিত এ কর্মসূচিতে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন