প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তৃতীয় লিঙ্গের তরুণী স্বপ্না (২৩) নানা প্রতিকূলতা, অবহেলা এবং কটূক্তি পেছনে ফেলে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাত্র দুটি ছাগল দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর উদ্যোগ এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে। সংসার চালানোর পাশাপাশি খামারটি আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
স্বপ্না সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করেন। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা নুরজাহান বেগম। আর্থিক অনটন ও সামাজিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছেন।
স্বপ্না জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় জীবিকার তাগিদে একসময় তাকে অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হতো। এ সময় বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজেই কিছু করবেন। সেই চিন্তা থেকেই ছাগল পালনের উদ্যোগ নেন তিনি।
স্বপ্নার মা নুরজাহান বেগম জানান, তাদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই এবং তারা রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করছেন। সংসার চালাতে নানা কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। পাশের বাড়ির একজনকে ছাগল পালন করতে দেখে স্বপ্নারও ছাগল কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তাঁর বাবা ১৩ হাজার ও ১৪ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে দেন। সেই দুটি ছাগল দিয়েই শুরু হয় স্বপ্নার খামার।
শুরুতে অল্প কয়েকটি ছাগল নিয়ে পালন শুরু করলেও ধীরে ধীরে খামার বড় করার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে ছাগলের সংখ্যা ১২টিতে উন্নীত হয়। কিন্তু হঠাৎ রোগাক্রান্ত হয়ে ছয়টি ছাগল মারা যায়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ছাগল মারা যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে সব প্রতিকূলতা সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়ান স্বপ্না। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে। এসব ছাগলের মধ্যে তোতা, হরিয়ানা, বিটল, যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ বিভিন্ন জাত রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি ছাগলের বাজারমূল্য ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।
স্বপ্নার ভাষ্য, খামারের ছাগলের পাঠা প্রজননের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া বছর শেষে বিক্রির উপযোগী ছাগল বিক্রি করেও ভালো অর্থ পাওয়া যায়। গত বছর চট্টগ্রামে বিভিন্ন পূজা উপলক্ষে ১০টি ছাগল বিক্রি করে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বপ্না বলেন, "আমি চাই না, জীবিকার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হোক। এই খামার দিয়েই আমার সংসার চলে। অনেক কষ্ট করে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। মাঝেমধ্যে ছাগল মারা যাওয়ায় লোকসানও হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন, খামারটিকে আরও বড় করা। সরকার যদি আমাকে সহযোগিতা করে, তাহলে আরও উন্নতভাবে ছাগল পালন করতে পারব।"
সমাজের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নার এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও জীবিকার নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব। সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে তিনি খামারটি আরও সম্প্রসারণ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন