০৬:২৩ পি.এম
চীনের বেইজিংভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ কম্পানি ল্যান্ডস্পেস সফলভাবে তাদের ঝুকুয়ে-২ই ওয়াই৬ উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে দুটি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের দোংফেং মহাকাশ উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক এলাকা থেকে এই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
কম্পানিটি জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের পর রকেটটি সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে দুটি উপগ্রহ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো অভিযানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং এটি সফল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
উৎক্ষেপিত দুটি উপগ্রহের নাম স্পেসসেইল ডিটিসি ০১ এবং চায়না মোবাইল ০২। এই দুই উপগ্রহকে বিশেষভাবে বিভিন্ন যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
সরকারি ও উন্মুক্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন একটি সফল উৎক্ষেপণের পর স্পেসসেইল জানায়, তাদের স্পেসসেইল কনস্টেলেশনে ইতোমধ্যে ২০০টি উপগ্রহ যুক্ত হয়েছে। নতুন এই দুটি উপগ্রহ সেই ধারাবাহিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্ষপথে যুক্ত হলো।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চায়না মোবাইল ০২ উপগ্রহের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল ফোনে ব্রডব্যান্ড সেবা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি মহাকাশভিত্তিক এবং ভূমিভিত্তিক নেটওয়ার্ক একসাথে কাজ করার প্রযুক্তিও এই উপগ্রহের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এই উৎক্ষেপণ ছিল ঝুকুয়ে-২ সিরিজ রকেটের অষ্টম সফল ফ্লাইট।
ল্যান্ডস্পেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুকুয়ে-২ই ওয়াই৬ রকেটের ব্যাস ৩ দশমিক ৩৫ মিটার। এর সর্বোচ্চ ফেয়ারিং ব্যাস ৪ দশমিক ২ মিটার। রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে ৬ টন পর্যন্ত এবং ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতার সূর্য-সমলয় কক্ষপথে ৪ টন পর্যন্ত পে-লোড বহন করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
কম্পানিটি আরো জানায়, রকেটটির দ্বিতীয় ধাপের ইঞ্জিন ফ্রেমে আধুনিক ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি একীভূত কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে।
এতে ফাঁপা শঙ্কু আকৃতি এবং ওয়াই-আকৃতির প্রধান বিম নকশা রয়েছে, যা ইঞ্জিনের চাপ ও ধাক্কা কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
এই উন্নত নকশার ফলে রকেটের কাঠামোগত দৃঢ়তা বেড়েছে, একই সঙ্গে এর ওজন ও উৎপাদন খরচ কমেছে। উৎপাদন ও সংযোজন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে দ্রুত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ল্যান্ডস্পেসের ঝুকুয়ে-২ সিরিজ বর্তমানে তরল অক্সিজেন ও মিথেন জ্বালানিচালিত মাঝারি ক্ষমতার আধুনিক উৎক্ষেপণযানগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
কম্পানিটি জানিয়েছে, এই রকেট একাধিক উপগ্রহ একসাথে উৎক্ষেপণের জন্য উপযোগী একটি নমনীয় ব্যবস্থা সমর্থন করে। পাশাপাশি এটি সমতল প্যানেলযুক্ত উপগ্রহ নিয়ে বড় আকারের কনস্টেলেশন নেটওয়ার্ক গঠনের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
ভবিষ্যতে ঝুকুয়ে-৩ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণযানের সঙ্গে সমন্বয় করে আরো উন্নত ও সমন্বিত মহাকাশ উৎক্ষেপণ সেবা তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে ল্যান্ডস্পেসের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন