ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
আলজাজিরার বিশ্লেষণ

৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে কারা শক্তিশালী, কারা দুর্বল?


৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে কারা শক্তিশালী, কারা দুর্বল?

তিন বছর আগে ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধটি গাজায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সাথে সাথে এটি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এক পর্যায়ে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানও।

এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো অনেক হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে। ইরানের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়েছে। একই সময়ে সামরিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে ইসরাইল। তবে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- এই শক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হবে, নাকি নতুন সংঘাতের দরজা খুলে দিচ্ছে?

আলজাজিরার একটি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের পর তিন বছরে মধ্যপ্রাচ্যে জোট, অর্থনীতি এবং শক্তির ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: মোজিবুল হকের সঙ্গে সাবেক জাপানি প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সাক্ষাৎ

দুর্বল ‘প্রতিরোধ অক্ষ’

ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলো ছিল। কিন্তু গত তিন বছরের যুদ্ধে এই নেটওয়ার্কের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহ ও হামাসের বহু শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনও ইরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ সিরিয়া ছিল ইরান থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহর কাছে সরবরাহ পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ করিডর। তবে এই দুর্বলতার মধ্যেও ইয়েমেনের হুথিরা ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হিসেবে টিকে আছে। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে তাদের অগ্রযাত্রা বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে।

আরও পড়ুন: ইন্ডিয়া জোটের অভিনব প্রতিবাদ: সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ‘প্রতীকী অভিশংসন’

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-ছাতায় ফাটল

৭ অক্টোবরের আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় কৌশল ছিল ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। কিন্তু যুদ্ধ সেই পরিকল্পনার গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক এইচএ হেলিয়ার বলেন, ৭ অক্টোবরের পর ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-ছাতার ওপর আস্থাও কমেছে। চলতি বছরের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলা সেই ধারণাকে আরও দুর্বল করেছে।

আরও পড়ুন: লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা

কাতারের রাস লাফান গ্যাসকেন্দ্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহর তেল অঞ্চলের কাছে আগুন এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা- সব মিলিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান আগস্টে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তির মূল কথা হলো- তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইসরাইল কি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী?

সামরিক দিক থেকে ইসরাইল এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি- এমন মূল্যায়ন রয়েছে। কিন্তু সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এক বিষয় নয়।

আরও পড়ুন: সময়সীমা কমিয়ে ২ দিনের মধ্যে হরমুজ চালুর নতুন প্রস্তাব ইরানের

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, ৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে বাইরের শক্তিগুলোর প্রভাব আরও বেড়েছে। তুরস্ক সিরিয়ায় সক্রিয় হয়েছে, আর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় চীনের ভূমিকাও বেড়েছে।

তার মতে, এর মধ্যে একটি বড় পরিবর্তন হলো- ইসরাইল এখন যেন ‘পরিবর্তনকামী শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, আর ইরান বরং হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে মনোযোগী।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একচ্ছত্র আঞ্চলিক পরাশক্তি হয়ে গেছে। ভাকিলের মতে, সামরিক শক্তিতে ইসরাইল এগিয়ে থাকলেও প্রকৃত আঞ্চলিক শক্তির অন্যতম মাপকাঠি হলো স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা। আর সেই জায়গায় ইসরাইল এখনো সফল হয়নি।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নতুন বাস্তবতা

আরও পড়ুন: ট্রাম্প প্রশাসনের আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতাই বদলে দিয়েছে। ইসরাইল গাজার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়ে উপত্যকার অবকাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে।

লেবাননেও পরিস্থিতি বদলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এবং ২০২৬ সালের মার্চে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে অভিযান চালায়। এর পাশাপাশি সিরিয়ার পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর ইসরাইল সেখানে নিজেদের নিরাপত্তা অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ফলে ইসরাইলের চারপাশের পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামো আর আগের অবস্থায় নেই।

অর্থনীতিতেও পড়েছে যুদ্ধের ছাপ

যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোও সংঘাতের কেন্দ্রে চলে এসেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। অন্যদিকে বাব আল-মান্দাবও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

আরও পড়ুন: জিএ-২০-এর ‘ফ্যামিলি ফটো’ বাতিল, ল্যাভরভের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি

ইরান ও তার মিত্র হুথিদের সামরিক তৎপরতার কারণে দুটি নৌপথই এখন বাড়তি ঝুঁকির মুখে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হলেও এর প্রভাব সব দেশের ওপর সমান নয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হলেও উপসাগরীয় দেশগুলো তুলনামূলক বড় ধাক্কা খেয়েছে। সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। কাতারের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বদলে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তাহলে নতুন মধ্যপ্রাচ্য কেমন?

তিন বছর পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ৭ অক্টোবরের পর যে নতুন মধ্যপ্রাচ্য তৈরি হয়েছে, সেটি কোন দিকে যাচ্ছে? ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা দুর্বল হয়েছে। ইসরাইল সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর আস্থায় ভাটা পড়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারিত্ব খুঁজছে। একই সময়ে চীনও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর আগের মতো একটি নির্দিষ্ট শক্তির ছায়ায় নেই। বরং একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে দেশগুলো।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া যুদ্ধ। তবে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় উত্তর এখনো মেলেনি- সামরিক শক্তির মাধ্যমে বদলে যাওয়া এই মধ্যপ্রাচ্য কি শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল হবে? নাকি পুরোনো সংঘাতের জায়গায় জন্ম নেবে আরও নতুন সংঘাতের রেখা?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড: ত্বকের ঝুঁকি ও সুরক্ষাব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ এম


কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড: ত্বকের ঝুঁকি ও সুরক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চকচকে, মসৃণ এবং শিশিরভেজা ত্বকের ছবি দেখা যাচ্ছে। যেন মুখের ত্বক কাচের মতো উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ। এই আকর্ষণীয় সৌন্দর্যধারণার নাম ‘গ্লাস স্কিন’। কোরিয়ান সৌন্দর্যচর্চা থেকে উদ্ভূত এই প্রবণতা বর্তমানে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ত্বককে এমন ঝকঝকে করতে একাধিক টোনার, সিরাম, এসেন্স ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন অনেক সৌন্দর্যপ্রভাবক। কিছু সৌন্দর্যপ্রভাবক একই রুটিনে একাধিক স্তরে পণ্য ব্যবহারের ভিডিও প্রকাশ করছেন। তবে যে ত্বককে কাচের মতো উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি কি শেষ পর্যন্ত ত্বকের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে?

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত এবং জটিল স্কিনকেয়ার রুটিনে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে জ্বালা, ব্রণ, র্যাশ এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কীভাবে জনপ্রিয় হলো ‘গ্লাস স্কিন’

‘গ্লাস স্কিন’ শব্দটি দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। এটি এমন ত্বককে বোঝায়, যা অত্যন্ত মসৃণ, উজ্জ্বল এবং প্রায় ছিদ্রহীন দেখায়। ২০১০-এর দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে ধারণাটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে সৌন্দর্যপ্রভাবকেরা নিজেদের স্কিনকেয়ার রুটিনের ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। সেখানে একাধিক পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি আঙুল বা বিউটি টুল দিয়ে মুখে আলতোভাবে চাপ দেওয়ার শব্দও অনেক দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পরে অভিনেত্রী ও মডেলসহ বিভিন্ন তারকাও নিজেদের স্কিনকেয়ার রুটিন তুলে ধরায় প্রবণতাটি আরও ছড়িয়ে পড়ে।

বিপদ কোথায়?

ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার ত্বকের যত্নে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে একসঙ্গে অনেক পণ্য ব্যবহারের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ভিডিওতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ না থাকা ব্যক্তিরা ত্বকের যত্নের পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে এসব পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা তথ্য বাদ পড়ে যাচ্ছে।

২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি কংগ্রেসে উপস্থাপিত এক গবেষণায় ‘গ্লাস স্কিন’ নিয়ে ভাইরাল ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা পাঁচটি কোরিয়ান স্কিনকেয়ার-সংক্রান্ত সার্চ শব্দের অধীনে জনপ্রিয় ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করেন। ৩৮টি ভিডিও বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ ভিডিওতে বিভ্রান্তিকর দাবি ছিল।

এর মধ্যে মাত্র একটি ভিডিওতে ত্বকে জ্বালাপোড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। মাত্র দুটি ভিডিওতে সূর্য থেকে ত্বক সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কোনো ভিডিওতেই কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের ঝুঁকি বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়নি।

প্রায় ৪৫ শতাংশ ভিডিওতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরামর্শ ছাড়াই একাধিক সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। আর ৩২ শতাংশ ভিডিওতে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্লেষণ করা কোনো ভিডিওই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তৈরি নয়।

বাস্তব অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়

টিকটকে একসময় ‘গ্লাস স্কিন গার্ল’ নামে পরিচিত ছিলেন গ্রেটা কোস্তিওলি। ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক হওয়ায় কৈশোর থেকেই তিনি বেশি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতেন। ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পর তিনি আরও বেশি পণ্য ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে সাত স্তরে হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহারের পদ্ধতিও অনুসরণ করেন।

শুরুতে এতে ভালো ফল পেয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাস্তব জীবন- দুই জায়গাতেই তার ত্বকের প্রশংসা হতে থাকে। কিন্তু পরে অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের কারণে তার স্কিন ব্যারিয়ার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।

তার মুখে ছোট ছোট লালচে দানা দেখা দেয়, যা কয়েক দিন স্থায়ী হতো। অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার চালিয়ে গেলে সেই দানাগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠত। শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের স্কিনকেয়ার রুটিনের ধাপ কমাতে হয়।

‘ছিদ্রহীন’ ত্বক কি আদৌ সম্ভব?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘গ্লাস স্কিন’-এর যে প্রায় ছিদ্রহীন ত্বকের ধারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানো হয়, সেটি বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ ত্বকের ছিদ্র বা পোরস জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শুধু স্তরে স্তরে প্রসাধনী ব্যবহার করে এগুলো দূর করা যায় না। অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের কারণে বরং কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস, রোসেশিয়া এবং ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোনা গোহারা বলেন, ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে টানটান ভাব, চুলকানি, ব্যথা, প্রদাহ, খসখসে হয়ে যাওয়া এবং ত্বক লাল বা গাঢ় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তাহলে কী করবেন?

ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিছুদিন স্ক্রাব, এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড এবং রেটিনয়েড ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় হালকা, পিএইচ-নিরপেক্ষ এবং সাবানবিহীন ক্লিনজার এবং কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কিন ব্যারিয়ার মেরামতে সহায়ক ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের যত্নে জটিল রুটিনের প্রয়োজন নেই। সাধারণভাবে একটি মৃদু ক্লিনজার, ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সক্রিয় উপাদান- যেমন রেটিনল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড অথবা ভিটামিন সি- ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন দিয়েই একটি সহজ রুটিন তৈরি করা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ত্বকের ধরন ও সহনশীলতা বোঝা। নতুন কোনো পণ্য একসঙ্গে অনেকগুলো না দিয়ে একটি করে ধীরে ধীরে ব্যবহার শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন ৩০ বা তার বেশি এসপিএফের ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কম্পিউটারে টানা কাজে ঘাড়-পিঠে ব্যথা, জানুন প্রতিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ এম


কম্পিউটারে টানা কাজে ঘাড়-পিঠে ব্যথা, জানুন প্রতিকার

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়ের কারণে ঘাড় এবং পিঠে তীব্র ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বর্তমানে অল্প বয়সীদের মধ্যেও এই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে বসে কাজ করা এবং ল্যাপটপের অপ্রতুল ব্যবহারকে এর জন্য দায়ী করছেন।

চিকিৎসকদের মতে, ঘাড়ের প্রধান কাজ হলো মাথাকে সঠিকভাবে ধারণ করা এবং ঘোরাতে সহায়তা করা। যদি কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভুল ভঙ্গিতে ঘাড়কে একই অবস্থানে রেখে বসে থাকে, তাহলে ঘাড়, কাঁধ এবং মাথায় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাসের ফলে মেরুদণ্ড এবং ঘাড়ের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়

পর্দার সঠিক অবস্থান : কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিন বা পর্দা চোখের সোজাসুজি রাখতে হবে, যাতে ঘাড় নিচু করে কাজ করতে না হয়।

সঠিক বসার ভঙ্গি : পিঠ এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখে কিন্তু আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসতে হবে। পা মেঝের সঙ্গে সমান্তরালে থাকবে।

বিরতি ও স্ট্রেচিং : টানা বসে না থেকে প্রতি ৪০-৪৫ মিনিট পর পর উঠে দাঁড়াতে হবে।

১-২ মিনিট একটু পায়চারি করার পাশাপাশি ঘাড় ডানে-বাঁয়ে ঘুরিয়ে হালকা স্ট্রেচিং করে নিলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি ব্যথা নিয়মিত হতে শুরু করে, ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হয় অথবা যন্ত্রণার কারণে ঘাড় ও কাঁধ অসাড় অনুভব হতে থাকে, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ এম


দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চলাকালীন একটি সাঁজোয়া যান উল্টে গিয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তিন সেনা সদস্যও আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত কর্মকর্তার নাম ক্যাপ্টেন এলিয়াভ হাইম তজাপালামুস। তার বয়স ছিল ২১ বছর। তিনি হাইফার বাসিন্দা এবং কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৬০৩ ব্যাটালিয়নের ৭ ব্রিগেডের কর্মকর্তা ছিলেন।

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি এলাকায় যখন সামরিক কার্যক্রম চলছিল, তখন একটি হুমভি উল্টে গিয়ে তজাপালামুস নিহত হন।

আহত তিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আঘাত গুরুতর নয়। আহতদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

হাইফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাভ তজাপালামুসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "এলিয়াভ দেশের মানুষ ও দেশের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।"

মেয়র আরও বলেন, "এলিয়াভ ছিলেন এমন এক প্রজন্মের তরুণ, যাদের সামনে ছিল স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ। দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তারা বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।"

এলিয়াভের মা হালি হাইফা পৌরসভার কর্মী হিসেবে পরিচিত। মেয়র ও শহরের বাসিন্দারা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে একটি পৃথক ঘটনায় আরও দুই ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন বলে জানায় ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজ। তাদের আঘাতও গুরুতর নয়। কান নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোলাবারুদ ব্যবহারে অসতর্কতার কারণে ওই দুই সেনা আহত হতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা ভারতের বিরুদ্ধে নই, আধিপত্যের বিরুদ্ধে: আব্দুল্লাহ আল জাবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ এম


আমরা ভারতের বিরুদ্ধে নই, আধিপত্যের বিরুদ্ধে: আব্দুল্লাহ আল জাবের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের মন্তব্য করেছেন যে, "আমরা ভারতের বিরুদ্ধে নই, আমরা ভারতীয় আধিপত্বের বিরুদ্ধে।" তিনি জানান, হাদী হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে পঞ্চগড় শহরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তেঁতুলিয়া থেকে পদযাত্রা ও সচেতনামূলক প্রচারণার কার্যক্রম শুরু হয়, যা রাতে পঞ্চগড় শহরে পৌঁছায়। এই কর্মসূচীতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও অংশগ্রহণ করে।

জাবের তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

তিনি ভারতীয় আধিপত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে গত ১৭ বছরের পরিস্থিতি, হামলা-মামলা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে দেশের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি দাবি বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানান। কর্মসূচীতে জানানো হয় যে, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

এ সময় ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক এবং অংশগ্রহণকারী জনগণও কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। এই পদযাত্রা ডিসেম্বরের মধ্যে টেকনাফে গিয়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%