প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরের মেলান্দহে ঠান্ডার কারণে বীজতলার ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং দু’টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মধ্যে এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বীজতলায় বীজ বপনের পরপরই প্রচন্ড শীতের প্রভাব পড়েছে ফসলের উপর, যা মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর উপরও প্রভাব ফেলছে।
পৌরসভার কৃষক মোরশেদুল আলম (৫৬) জানান, “আমার ৮ কাঠা জমির বীজতলা আছে। ১০/১৫ দিন আগে বীজ বপন করেছি। বীজ গজানোর পরপরই প্রচন্ড শীত। এই গজানো বীজগুলো সাদা হয়েছে। কোন কোন বীজ গজায়নি। কীটনাশক-সার প্রয়োগ করেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে মহা চিন্তায় আছি। আশ পাশের জমির মালিকদেরও একই অবস্থা।” ঝাউগড়া ইউনিয়নের রেজাউল সাবির (৬০) মাস্টার জানান, “ঠান্ডা-ঘনকোয়াশায় আমার এলাকার প্রায় সকল বীজতলার ক্ষতির আশংকা করছি। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। এই অবস্থায় বোরো মৌসুমের ক্ষতির আশংকা করছি। রোদ না থাকায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।”
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ শ’ ৩ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হাইব্রিড ৪১৫ হেক্টর এবং উফসি জাতের ৪৯২ হেক্টরসহ সর্বমোট ৯০৭ হেক্টর জমির বীজতলা রোপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রউফ জানান, “প্রচন্ড ঠান্ডায় বীজতলা ছাড়াও সবজি জাতীয় ফসলও আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। বৈরী আবহাওয়া কেটে রোদের ঝলক দেখা দিলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে।” ঠান্ডা থেকে বীজতলা কিংবা ফসল রক্ষায় কৃষকদের পলিথিনে ডেকে রাখা, সকালে ক্ষেতে হালকা পানি রাখা, বিকেলে পানি নামিয়ে দেয়াসহ করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
প্রতিদিন সকালে বীজতলা ছাড়াও অন্যান্য ফসলের ডগায় জমানো শিশির ঝারিয়ে দিতে, হলুদ চারায় ইউরিয়া, জিপসাম প্রয়োগসহ আনুসাঙ্গিক বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষ ওষুধ প্রয়োগেরও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হবার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন