০৯:৫১ এম
ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করেছেন যে, তিনি ইরানের হিটলিস্টে নম্বর এক রয়েছেন। চলতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার ট্রাম্প তার মৃত্যু প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।
কখনো তিনি বিষয়টি নিয়ে মজাও করেছেন। গত শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যদি ইরান তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, তবে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে 'বোমা' হামলার নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।
ওই আলোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘ সময় ধরে জানাচ্ছিল যে, ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তবে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল মার্কিন প্রশাসনকে অবহিত করেছে যে, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সিএনএন-এর প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের এই সতর্কবার্তা নতুন এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত।
ইসরায়েলের পাঠানো নতুন সতর্কতা সম্পর্কে শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সাথে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলছেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের তালিকায় আছি। আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি যে, যদি কিছু ঘটতে পারে, তবে তাদের ওপর যেন আক্ষরিক অর্থই এমন মাত্রায় হামলা চালানো হয়, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’
তবে ট্রাম্প ইসরায়েলের সতর্কতাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, ‘না, না। ইসরায়েল নতুন কিছুই পায়নি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ’দীর্ঘ সময় ধরে আমি এক নাম্বারে আছি (ইরানের হত্যার তালিকায়) এবং আপনি তো জানেনই, জীবন এমনই।’ ট্রাম্প এখানেও ঠাট্টা করতে ভুলেননি। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।’
এর আগে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের পর আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ’আমি মরলে আপনারাও মরবেন।’ তিনি সাংবাদিকদের পেশা বদলানোর পরামর্শও দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য আহত
বুধবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের এক আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের (ইরান) নেতারা চলে গেছে। তারপর তাদের আরেক দল নেতা এসেছে। তারাও চলে গেছে। এখন তাদের আরেক দল নেতা রয়েছে। কে জানে, তাদেরও হয়তো চলে যেতে হতে পারে।’ ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ’এবং আপনারা কি জানেন? আমিও চলে যেতে পারি। কারণ আমি তাদের এক নাম্বার লক্ষ্যবস্তু। এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আজ সকালে একটি বিষয় দেখেছি যে, আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। আর এখন পর্যন্ত, আমি মনে করি আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম। তবে এটি হয়তো খুব বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা হতে পারে, এমন আলোচনার কারণে তার নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে হঠাৎ করেই ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন করা হয়। নতুন রাজকীয় বিমানের পরিবর্তে তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ওয়াশিংটনে ফিরেছেন। হোয়াইট হাউস পরে স্বীকার করেছে যে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি কৌশল ছিল। মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ২০২০ সালে ইরানের সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর থেকেই ট্রাম্প তাদের হিটলিস্টে এক নম্বরে রয়েছেন। যদিও ইরান কখনোই এমন কোনো দাবি করেনি। তবে গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর জানাযায়, ইরানের ক্ষুব্ধ জনগণ ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন