০২:৩৪ পি.এম
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পুলিশি হামলার পর তিনি এ ঘোষণা দেন।
গত ২৮ জুন রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে অনশনে যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি তখন থেকে শুধু পানি ও লবণ গ্রহণ করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার ওজন ৯ কেজিরও বেশি কমে গেছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৮ জুলাই পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর রাজধানীর নতুন দিল্লি, মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
পুলিশি হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী তরুণদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা দেখে তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনের নেতাদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া না হলে, অথবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে এসে তাদের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আবশ্যক। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী তরুণদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সরকার ও পুলিশকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
পরে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তাটি সত্যিই সোনম ওয়াংচুকেরই।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দিপক অভিযোগ করেছেন, সংসদমুখী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তার দাবি, লাঠিচার্জে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। এক তরুণী গলায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
উল্লেখ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জবাবদিহি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চলমান এই আন্দোলনকে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সরকারবিরোধী গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন