০৯:২৩ এম
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরেও বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী আগের মতোই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাচ্ছে।
দেশটির ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি তাদের নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ১০ জনের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি শিশু-কিশোর এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরেও তাদের ব্যবহারে বিশেষ পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
ই-সেফটির মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কার্যকর বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। অনেক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতেই সক্ষম হয়নি। আবার কেউ কেউ নিজেদের বয়স ১৬ বছরের বেশি দেখিয়ে বা বয়স যাচাই ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে সহজেই অ্যাকাউন্ট চালু রাখছে কিংবা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আগে ৮৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি বয়সসীমাবদ্ধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করত। তিন মাস পরেও এই হারে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি, যা ৮১ শতাংশের বেশি রয়ে গেছে। প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এমন কিশোরের হারও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে যা ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, পরে তা দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশ।
এছাড়া খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমূলক মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের দাবি হচ্ছিল, সাইবার বুলিং, যৌন শোষণ, ক্ষতিকর কনটেন্ট ও আত্মক্ষতির মতো ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
আইন অনুযায়ী, বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের প্রবেশ প্রতিরোধে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা না নিলে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারও তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, আইন কার্যকর হওয়ার পরও অনেক শিশু সহজেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে বা আগের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, প্রযুক্তিতে দক্ষ কিশোররা ভিপিএন, ফাঁকা জন্মতারিখ ব্যবহার করে বা অন্য মাধ্যমের দ্বারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী অ্যান্ড্রু লি অবশ্য এই আইনকে সফল দাবি করেছেন। তিনি জানান, শতভাগ আইন মানা সম্ভব না হলেও এই নিষেধাজ্ঞা অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে। তাঁর মতে, মদ্যপানের বয়সসীমার আইনেও শতভাগ মানা হয় না, তবুও আইনটির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, মালয়সিয়া ও গ্রিসও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এখন বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন