প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলেজের ল্যাব সহকারীসহ চারটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে, কলেজের অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে। এই বিক্ষোভের স্থান ছিল কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা কলেজ।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কচাকাটা হাইস্কুল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কচাকাটা বাজার ঘুরে কলেজের গেটে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এ সময় পুলিশি পাহারায় কলেজের গেট তালাবদ্ধ থাকলে, বিক্ষোভকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে, কলেজ সভাপতি ডা. মো. ইউনুস আলী এবং কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের ছবি ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলেজের গেট খুলে দেওয়ার পর মাঠে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিয়োগবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন যে, মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে, পরীক্ষার চার দিন পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কলেজ কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী এবং অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম কম মেধাবীদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। তারা নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে, নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগের দাবি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় কচাকাটা কলেজের কম্পিউটার কাম-অফিস সহকারী, ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এসব পদে ৪৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেছিলেন। ওই দিন যথাসময়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে সবাই উপস্থিত ছিলেন, তবে পরীক্ষা নেওয়া হয় দুপুরের পর। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করে, সবার ভাইভা নেওয়া হয়। ভাইভা শেষে পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করে, চার দিন পর ফল প্রকাশের কথা বললে নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা তোপের মুখে পড়েন। পরে কচাকাটা থানা পুলিশের সহায়তায় অধ্যক্ষসহ অন্যরা কলেজ ত্যাগ করেন।
চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন যে, মেধাক্রম অনুসরণ করে ফল ঘোষণা করে ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না করে রাত ৮টার দিকে কলেজ ছাড়েন পরীক্ষক ও কলেজ সংশ্লিষ্টরা। পরে ২৭ তারিখ সকালে পরীক্ষার ফলাফল কলেজের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেন অধ্যক্ষ। তবে ফলাফলপত্রে ২৪ অক্টোবর তারিখে স্বাক্ষর দেখা যায়। লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রমে ওপরে থাকা প্রার্থীরা চাকরি পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বঞ্চিত নিয়োগ প্রার্থী ও স্থানীয়রা।
এ সময় বক্তব্যে আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী বলেন, কলেজটিকে মেধাশূন্য করার পাঁয়তারা চলছে। তিনি অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের দাবি জানান।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ একটি রাজনৈতিক চক্র উসকানি দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়, এটি অপপ্রচার। নিয়োগ পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ডিজির প্রতিনিধি, ডিসির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন