০৮:১০ পি.এম
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলে অবস্থিত মধেশ প্রদেশে চলমান দাঙ্গার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে। সরকার চারটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে। একটি শোভাযাত্রাকে ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনা কিভাবে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে, সেটিই এখন আলোচনা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ এলাকায় একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানোর পাশাপাশি ধর্মীয় পতাকা বহন করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় অন্য একটি সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর ফলে দ্রুত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তা আশপাশের জেলাগুলোতেও বিস্তৃত হতে থাকে।
পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু কী অবস্থায় গুলিবর্ষণ হয় এবং নিহতদের মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
সুনসারি, সিরাহা, ধনুষা এবং সপ্তরী জেলায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে কারফিউ ঘোষিত হয়। এছাড়া পারসা জেলায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষের মধ্যে আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষ চলাকালে ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদবও নিহত হন। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে।
এছাড়া জানা গেছে, আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানায়।
বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতি জটিল হলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালে কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পদাতিক টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উলঙ্ঘন করে পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ সময় কিছু দোকান এবং বিপণিবিতানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, যে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জাতির উদ্দেশে ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন